রাজশাহীতে বালুদস্যুদের কাছে অসহায় প্রশাসনও
jugantor
রাজশাহীতে বালুদস্যুদের কাছে অসহায় প্রশাসনও

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৮:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী মহানগরীর মধ্যশহর তালাইমারী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন একজন বালু ইজারাদার।

এলাকাবাসীর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ইজারাদার আনোয়ার হোসেন ইজারা বহির্ভূত এলাকা তালাইমারী দিয়ে পদ্মা থেকে বালু তুলছেন। তালাইমারী মধ্যনগরীর একটি জনবহুল এলাকা। কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তালাইমারী পয়েন্টটি দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছিলেন। এই ঘাট দিয়ে কোনো প্রকার বালু উত্তোলন করা বেআইনি বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটের ওপর একটি সরকারি নোটিশ ঝুলিয়েছিলেন।

নোটিশটি এখনো সেখানেই শোভা পাচ্ছে। তবে ইজারাদার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদার নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে তালাইমারী ঘাটের বালুর পাহাড় করেছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে বালু বহন করা হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ তালাইমারী পয়েন্ট দিয়ে বালু আহরণ উত্তোলন ও বহনের কারণে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তার ওপর বালু ইজারাদার বালু বহনের জন্য পদ্মার বাঁধ কেটে সড়ক করেছেন। এর ফলে বন্যার পানি নগরীতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বারবার অভিযোগ দিলেও কিছুদিন ধরে প্রশাসন এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইজারাদার আনোয়ার হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি।

জেলা প্রশাসনকে দেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, চলতি বছরে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন তালাইমারী থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের শ্যামপুর এলাকায় বালুমহাল ইজারা নেন। শুরু থেকে শ্যামপুর পয়েন্ট দিয়ে ইজারাদার বালু উত্তোলনের পাশাপাশি নগরীর তালাইমারী পয়েন্ট দিয়েও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেন।

এলাকাবাসী মধ্য নগরীর ঘনবসতিপুর্ণ এই এলাকাটি দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের দাবিতে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাজশাহী জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত তালাইমারী ঘাটে অভিযান পরিচালনা করেন। জব্দ করা হয় ড্রেজারসহ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সরঞ্জাম। করা হয় জরিমানাও।

এদিকে ঘাটটি বন্ধের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন তালাইমারীতে একটি সরকারি নোটিশ টাঙিয়ে দেন। এতে বলা হয় এই ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অভিযান ও নোটিশ জারির মাত্র কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখেন ইজারাদার। তবে তিনি তালাইমারী পয়েন্ট দিয়ে বালু উত্তোলন ও বহনের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট দাখিল করেন। কিন্তু শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তালাইমারীতে বৈধ ও অনুমোদিত বালুঘাট ও বালুমহাল না থাকায় তা খারিজ করে দেন।

উচ্চ আদালতের এ আদেশেরও কপি জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হলেও প্রশাসন এখনো অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না-অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

এদিকে সম্প্রতি এলাকাবাসী আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লিখিত আবেদন করেছেন।

এদিকে নগরীর তালাইমারী ঘাট এলাকার বাসিন্দা মোহা. রমজান আলী অভিযোগে বলেন, সারাদিনই পদ্মার বুক থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু আহরণ করা হচ্ছে। নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের ওপর পাহাড় সমান উঁচু করে বালু মজুদ করা হচ্ছে। আর সন্ধ্যা হলেই তালাইমারী ঘাটে চলে ঢুকছে শত শত ট্রাক, ট্রাক্টও ও ভারি ডাম্বার এবং ভেক্যু মেশিন। সারারাত চলছে বালু বহনের কাজ। পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা পেলুডার মেশিন ও স্কেভেটরের একটানা শব্দে সারারাত ঘুমাতে পারেন না। পদ্মাপাড়ে বালু মজুদ করায় ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে তালাইমারী। এ নিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

রমজান আলী ছাড়াও এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগে আরও বলেন, প্রশাসনকে অভিযোগ দিলে তারা শুধু বলে থাকেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপেক্ষা করেন। তবে তারা আর কোনো ব্যবস্থা নেন না। এসবই খুব রহস্যজনক। প্রশাসন কোনো চাপের কাছে মাথানত করছেন আমরা বুঝতে পারছি না।

ইজারাবহির্ভূত এলাকা তালাইমারী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে জানেন। আমরা নতুন করে কিছু বলার নেই।

তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন-অবৈধ বালুঘাট বন্ধ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহীতে বালুদস্যুদের কাছে অসহায় প্রশাসনও

 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ আগস্ট ২০২১, ১১:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী মহানগরীর মধ্যশহর তালাইমারী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন একজন বালু ইজারাদার।

এলাকাবাসীর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ইজারাদার আনোয়ার হোসেন ইজারা বহির্ভূত এলাকা তালাইমারী দিয়ে পদ্মা থেকে বালু তুলছেন। তালাইমারী মধ্যনগরীর একটি জনবহুল এলাকা। কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তালাইমারী পয়েন্টটি দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছিলেন। এই ঘাট দিয়ে কোনো প্রকার বালু উত্তোলন করা বেআইনি বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটের ওপর একটি সরকারি নোটিশ ঝুলিয়েছিলেন।

নোটিশটি এখনো সেখানেই শোভা পাচ্ছে। তবে ইজারাদার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদার নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে তালাইমারী ঘাটের বালুর পাহাড় করেছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে বালু বহন করা হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ তালাইমারী পয়েন্ট দিয়ে বালু আহরণ উত্তোলন ও বহনের কারণে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তার ওপর বালু  ইজারাদার বালু বহনের জন্য পদ্মার বাঁধ কেটে সড়ক করেছেন। এর ফলে বন্যার পানি নগরীতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বারবার অভিযোগ দিলেও কিছুদিন ধরে প্রশাসন এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইজারাদার আনোয়ার হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি।
  
জেলা প্রশাসনকে দেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, চলতি বছরে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন তালাইমারী থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের শ্যামপুর এলাকায় বালুমহাল ইজারা নেন। শুরু থেকে শ্যামপুর পয়েন্ট দিয়ে ইজারাদার বালু উত্তোলনের পাশাপাশি নগরীর তালাইমারী পয়েন্ট দিয়েও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেন।

এলাকাবাসী মধ্য নগরীর ঘনবসতিপুর্ণ এই এলাকাটি দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের দাবিতে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাজশাহী জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দেন।  সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত তালাইমারী ঘাটে অভিযান পরিচালনা করেন। জব্দ করা হয় ড্রেজারসহ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সরঞ্জাম। করা হয় জরিমানাও।

এদিকে ঘাটটি বন্ধের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন তালাইমারীতে একটি সরকারি নোটিশ টাঙিয়ে দেন। এতে বলা হয় এই ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অভিযান ও নোটিশ জারির মাত্র কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখেন ইজারাদার। তবে তিনি তালাইমারী পয়েন্ট দিয়ে বালু উত্তোলন ও বহনের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট দাখিল করেন। কিন্তু শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তালাইমারীতে বৈধ ও অনুমোদিত বালুঘাট ও বালুমহাল না থাকায় তা খারিজ করে দেন।

উচ্চ আদালতের এ আদেশেরও কপি জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হলেও প্রশাসন এখনো অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না-অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

এদিকে সম্প্রতি এলাকাবাসী আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লিখিত আবেদন করেছেন।

এদিকে নগরীর তালাইমারী ঘাট এলাকার বাসিন্দা মোহা. রমজান আলী অভিযোগে বলেন, সারাদিনই পদ্মার বুক থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু আহরণ করা হচ্ছে। নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের ওপর পাহাড় সমান উঁচু করে বালু মজুদ করা হচ্ছে। আর সন্ধ্যা হলেই তালাইমারী ঘাটে চলে ঢুকছে শত শত ট্রাক, ট্রাক্টও ও ভারি ডাম্বার এবং ভেক্যু মেশিন। সারারাত চলছে বালু বহনের কাজ। পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা পেলুডার মেশিন ও স্কেভেটরের একটানা শব্দে সারারাত ঘুমাতে পারেন না। পদ্মাপাড়ে বালু মজুদ করায় ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে তালাইমারী। এ নিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

রমজান আলী ছাড়াও এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগে আরও বলেন, প্রশাসনকে অভিযোগ দিলে  তারা শুধু বলে থাকেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপেক্ষা করেন। তবে তারা আর কোনো ব্যবস্থা নেন না। এসবই খুব রহস্যজনক। প্রশাসন কোনো চাপের কাছে মাথানত করছেন আমরা বুঝতে পারছি না।

ইজারাবহির্ভূত এলাকা তালাইমারী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে জানেন। আমরা নতুন করে কিছু বলার নেই।

তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন-অবৈধ বালুঘাট বন্ধ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন