বেপরোয়া চার ইয়াবা সিন্ডিকেট, শিবগঞ্জ সীমান্তে বোমায় নিহত ১
jugantor
বেপরোয়া চার ইয়াবা সিন্ডিকেট, শিবগঞ্জ সীমান্তে বোমায় নিহত ১

  রাজশাহী ব্যুরো ও শিবগঞ্জ প্রতিনিধি  

০১ আগস্ট ২০২১, ২৩:২১:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ইয়াবা ব্যবসার দখল ও মাদক আটকের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী চর হাসানপুরসহ ৪-৫টি গ্রামে মাদক কারবারিদের মাঝে আগেও একাধিকবার বোমা গুলির লড়াই হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষের বোমাবাজিতে একজন নিহত ও আহত হয়েছেন ৫ জন।

নিহতের নাম জিয়ারুল ইসলাম (৫০)। সে চরহাসানপুর জঙ্গইলা পাড়ার আব্দুল গোফুরের লুটুর পুত্র। আহত আব্দুল খালেক টোকা (৪৫) নিহতের ভাই।

কয়েকঘণ্টা পর পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রাতভর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এলাকাজুড়ে। আরও সংঘর্ষের আশঙ্কায় হাসানপুর চরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবগঞ্জের চরাঞ্চলের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, সাম্প্রতিককালে সীমান্তের গাইপাড়া, হাসানপুর ও পাঁকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকা ইয়াবা চোরাচালানের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। ভারত থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আসছে এ সীমান্ত দিয়ে। আর এর সুবাদে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক পাচার চক্র।

এক দলের মাল আরেক দল ধরিয়ে দিলেই সিন্ডিকেটের বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা চরাঞ্চল। চলে আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি। কিছুদিন আগেই একাধিকবার চরাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবাজি আর লুটপাট হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় বোমাবাজিতে আহত জিয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। তার ভাই খালেক গুরুতর জখম হয়ে এখন হাসপাতালে।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, শিবগঞ্জের এই চরাঞ্চলটি একটি দুর্গম এলাকা। ইঞ্জিন বোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চরের গ্রামগুলিতে পুলিশ গেলেই মাদক অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে চলে যায়। শনিবার সন্ধ্যার ঘটনায় দায়ীদের ধরতে চরাঞ্চলে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি রোধে সাময়িকভাবে চরের অকুস্থলে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার এসব চর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। এই তিনদিক নদীবেষ্টিত সীমান্তের এই চরাঞ্চলটি সাম্প্রতিককালে ইয়াবা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। ইয়াবা পাচারে চরাঞ্চলে সক্রিয় আছে চারটি সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেট।

চরের খাকচাপাড়া থেকে গাইপাড়া নিয়ন্ত্রণ করে মাসুদ সিন্ডিকেট। হাসানপুর জঙ্গইলা পাড়া সীমান্তে সক্রিয় বাবুল-আলম-তরিকুল সিন্ডিকেট। তবে কিছুদিন আগে ইয়াবা সম্রাটখ্যাত বাবুল একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে আলম ও তরিকুল। পাঁকার দশরশিয়া থেকে বিশরশিয়া সীমান্ত পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে রেখেছে কামরুল-মোংলা-ভোলা ও রুবেল বোম সিন্ডিকেট। সাদেক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো নারায়ণপুর-জোহরপুর সীমান্ত।

এলাকাবাসী আরও জানায়, গত ২৬ এপ্রিল শিবগঞ্জের পদ্মা বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আলম-তরিকুল সিন্ডিকেটের ১ হাজার ২০০ ইয়াবাসহ ফারুক নামের একজনকে আটক করেন। তাদের ইয়াবা পুলিশকে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগে বাবুল সিন্ডিকেট জঙ্গইলা পাড়ার মফিজুলের ছেলে কোরাইশিকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা দাবি করেন।

এ নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা সালিশ বিচার করেন। টাকা না পেয়ে বাবুল সিন্ডিকেটের লোকেরা গত ২৩ জুন কোরাইশির বাড়িতে বোমাবাজি ও লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে কোরাইশির বাবা মফিজুলকে লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়। এতে মফিজুলের একটি চোখ উড়ে যায়। এ মামলাতে গ্রেফতার হয় বাবুল। মফিজুল এখনো রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাবুল-আলম-তরিকুল সিন্ডিকেটের সদস্য জিয়ারুল ও খালেক টোকা চায়ের দোকানে অপেক্ষার সময় কোরাইশি ও তার দলবল তার বাবার ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে বোমা হামলা করে। শুরু হয় দুই গ্রুপের বোমাবাজি ও পাল্টা গুলি বিনিময়। একপর্যায়ে জিয়ারুলের একটি পা বোমায় উড়ে যায়। তার ভাই খালেকও বোমায় আহত হন। নৌকায় করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিয়ারুল মারা যায়। খালেক বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরপরই প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট শুরু বাবুল-আলম গ্রুপের লোকেরা। পুলিশ রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন আরও বলেন, জিয়ারুল হত্যার ঘটনায় রোববার বাসির উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় অস্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলের সব মাদক সিন্ডিকেট নির্মূলে অভিযান শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে ১৪ মে একই এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি ও লুটপাট চালায় তরিকুল নামের এক মাদক ইয়াবা সম্রাটের লোকজন। সেই ঘটনায় ১৫ জন আহত হন। পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলাও করেছিল।

বেপরোয়া চার ইয়াবা সিন্ডিকেট, শিবগঞ্জ সীমান্তে বোমায় নিহত ১

 রাজশাহী ব্যুরো ও শিবগঞ্জ প্রতিনিধি 
০১ আগস্ট ২০২১, ১১:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইয়াবা ব্যবসার দখল ও মাদক আটকের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী চর হাসানপুরসহ ৪-৫টি গ্রামে মাদক কারবারিদের মাঝে আগেও একাধিকবার বোমা গুলির লড়াই হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষের বোমাবাজিতে একজন নিহত ও আহত হয়েছেন ৫ জন।

নিহতের নাম জিয়ারুল ইসলাম (৫০)। সে চরহাসানপুর জঙ্গইলা পাড়ার আব্দুল গোফুরের লুটুর পুত্র। আহত আব্দুল খালেক টোকা (৪৫) নিহতের ভাই।

কয়েকঘণ্টা পর পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রাতভর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এলাকাজুড়ে। আরও সংঘর্ষের আশঙ্কায় হাসানপুর চরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবগঞ্জের চরাঞ্চলের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, সাম্প্রতিককালে সীমান্তের গাইপাড়া, হাসানপুর ও পাঁকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকা ইয়াবা চোরাচালানের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। ভারত থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আসছে এ সীমান্ত দিয়ে। আর এর সুবাদে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক পাচার চক্র।

এক দলের মাল আরেক দল ধরিয়ে দিলেই সিন্ডিকেটের বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা চরাঞ্চল। চলে আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি। কিছুদিন আগেই একাধিকবার  চরাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবাজি আর লুটপাট হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় বোমাবাজিতে আহত জিয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। তার ভাই খালেক গুরুতর জখম হয়ে এখন হাসপাতালে।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, শিবগঞ্জের এই চরাঞ্চলটি একটি দুর্গম এলাকা। ইঞ্জিন বোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চরের গ্রামগুলিতে পুলিশ গেলেই মাদক অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে চলে যায়। শনিবার সন্ধ্যার ঘটনায় দায়ীদের ধরতে চরাঞ্চলে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি রোধে সাময়িকভাবে চরের অকুস্থলে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার এসব চর পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। এই তিনদিক নদীবেষ্টিত সীমান্তের এই চরাঞ্চলটি সাম্প্রতিককালে ইয়াবা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। ইয়াবা পাচারে চরাঞ্চলে সক্রিয় আছে চারটি সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেট।

চরের খাকচাপাড়া থেকে গাইপাড়া নিয়ন্ত্রণ করে মাসুদ সিন্ডিকেট। হাসানপুর জঙ্গইলা পাড়া সীমান্তে সক্রিয় বাবুল-আলম-তরিকুল সিন্ডিকেট। তবে কিছুদিন আগে ইয়াবা সম্রাটখ্যাত বাবুল একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে আলম ও তরিকুল। পাঁকার দশরশিয়া থেকে বিশরশিয়া সীমান্ত পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে রেখেছে কামরুল-মোংলা-ভোলা ও রুবেল বোম সিন্ডিকেট। সাদেক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো নারায়ণপুর-জোহরপুর সীমান্ত।

এলাকাবাসী আরও জানায়, গত ২৬ এপ্রিল শিবগঞ্জের পদ্মা বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আলম-তরিকুল সিন্ডিকেটের ১ হাজার ২০০ ইয়াবাসহ ফারুক নামের একজনকে আটক করেন। তাদের ইয়াবা পুলিশকে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগে বাবুল সিন্ডিকেট জঙ্গইলা পাড়ার মফিজুলের ছেলে কোরাইশিকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা দাবি করেন।

এ নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা সালিশ বিচার করেন। টাকা না পেয়ে বাবুল সিন্ডিকেটের লোকেরা গত ২৩ জুন কোরাইশির বাড়িতে বোমাবাজি ও লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে কোরাইশির বাবা মফিজুলকে লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়। এতে মফিজুলের একটি চোখ উড়ে যায়। এ মামলাতে গ্রেফতার হয় বাবুল। মফিজুল এখনো রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাবুল-আলম-তরিকুল সিন্ডিকেটের সদস্য জিয়ারুল ও খালেক টোকা চায়ের দোকানে অপেক্ষার সময় কোরাইশি ও তার দলবল তার বাবার ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে বোমা হামলা করে। শুরু হয় দুই গ্রুপের বোমাবাজি ও পাল্টা গুলি বিনিময়। একপর্যায়ে জিয়ারুলের একটি পা বোমায় উড়ে যায়। তার ভাই খালেকও বোমায় আহত হন। নৌকায় করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিয়ারুল মারা যায়। খালেক বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরপরই প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট শুরু বাবুল-আলম গ্রুপের লোকেরা। পুলিশ রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন আরও বলেন, জিয়ারুল হত্যার ঘটনায় রোববার বাসির উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় অস্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলের সব মাদক সিন্ডিকেট নির্মূলে অভিযান শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে ১৪ মে একই এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি ও লুটপাট চালায় তরিকুল নামের এক মাদক ইয়াবা সম্রাটের লোকজন। সেই ঘটনায় ১৫ জন আহত হন। পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলাও করেছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন