ভ্যানচালকের নামে ফেইক আইডি খুলে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা
jugantor
ভ্যানচালকের নামে ফেইক আইডি খুলে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা

  রাজশাহী ব্যুরো  

০২ আগস্ট ২০২১, ১৯:৪২:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

এক হিন্দু যুবকের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ইসলাম ও মুসলমানদের কোরবানিকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা বক্তব্য প্রচার করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এর আগে হিন্দু যুবকের কাছ থেকে মোটা টাকা চাঁদাও দাবি করে আসছিল তারা।

বক্তব্য ও ছবি তৈরি করে রাখা হয়েছিল পোস্ট করার অপেক্ষায়। পোস্ট করার আগেই গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাকনহাটে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় উস্কানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় ওয়াসিম আল রাজি (৩৩) ও নাসিম আলী (২৩) নামের দুই কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজি গোদাগাড়ীর এনায়েত উল্লাহপুর গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও নাসিম আলী আলোকছত্র গ্রামের নওশের আলীর পুত্র। তারা দৈনিক আলোকিত সকাল নামের একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি বলে পুলিশ নিশ্চিত করে।

এদিকে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইন ছাড়াও ধর্মীয় উস্কানি তৈরির অভিযোগে গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেফতার দুই কথিত সাংবাদিককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি পুলিশ আগেই টের পেয়ে যাওয়াতে এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ধর্মীয় সহিংসতা এড়ানো গেছে। পুলিশ এলাকায় কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কথিত সাংবাদিক ওয়াসিম আল রাজি নাসিম আলী এলাকার ভ্যানচালক দোলন কুমারের কাছে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেলে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। শেষে টাকা না পেয়ে দুই কথিত সাংবাদিক দোলন কুমারের নামে নিজের মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে।

এই আইডি থেকে ইসলাম ও মুসলিম সমাজের কোরবানি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য লেখা হয়। লাগানো হয় গরু ও শুয়োরের ছবি। দোলন কুমারের নামে খোলা ভুয়া আইডিতে পোস্ট করার আগে এ লেখাটি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির ম্যাসেঞ্জারে পাঠানো হয়। ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদের গোচরীভূত হয়।

এদিকে রোববার সন্ধ্যার আগে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনাস্থল কাকনহাটে যান। শনাক্তের পর আটক করা হয় দোলন কুমারকে। কাকনহাট ফাঁড়িতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারেন ওয়াসিম আল রাজির মোবাইল ফোন থেকে দোলন কুমারের নামে ফেইক আইডি তৈরি করা হয়েছে। তারই মোবাইল ফোন থেকেই বিভিন্নজনের ম্যাসেঞ্জারে পাঠানো হয়।

এলাকাবাসীর সহায়তায় ওয়াসিম রাজি ও নাসিম আলীকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে গোদাগাড়ী থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, দুই কথিত সাংবাদিক হিন্দু ভ্যানচালকের কাছে চাঁদা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়। তার নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি বানিয়ে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কনটেন্ট পোস্ট করার করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। প্রযুক্তির সহায়তায় ফেইক আইডিটি পুলিশ শনাক্ত করে। সে অনুযায়ী ওয়াসিম আল রাজি ও নাসিমকে শনাক্ত করা হয়। রোববার সন্ধ্যার পর তাদের কাকনহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানার এসআই শাজাহান সিরাজ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যমূলক কনটেন্ট তৈরি করে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পাঠানোর অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেফতার দুজনকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ভ্যানচালকের নামে ফেইক আইডি খুলে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা

 রাজশাহী ব্যুরো 
০২ আগস্ট ২০২১, ০৭:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এক হিন্দু যুবকের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ইসলাম ও মুসলমানদের কোরবানিকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা বক্তব্য প্রচার করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এর আগে হিন্দু যুবকের কাছ থেকে মোটা টাকা চাঁদাও দাবি করে আসছিল তারা।

বক্তব্য ও ছবি তৈরি করে রাখা হয়েছিল পোস্ট করার অপেক্ষায়। পোস্ট করার আগেই গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাকনহাটে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় উস্কানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় ওয়াসিম আল রাজি (৩৩) ও নাসিম আলী (২৩) নামের দুই কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজি গোদাগাড়ীর এনায়েত উল্লাহপুর গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও নাসিম আলী আলোকছত্র গ্রামের নওশের আলীর পুত্র। তারা দৈনিক আলোকিত সকাল নামের একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি বলে পুলিশ নিশ্চিত করে।

এদিকে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইন ছাড়াও ধর্মীয় উস্কানি তৈরির অভিযোগে গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেফতার দুই কথিত সাংবাদিককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি পুলিশ আগেই টের পেয়ে যাওয়াতে এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ধর্মীয় সহিংসতা এড়ানো গেছে। পুলিশ এলাকায় কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কথিত সাংবাদিক ওয়াসিম আল রাজি নাসিম আলী এলাকার ভ্যানচালক দোলন কুমারের কাছে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেলে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। শেষে টাকা না পেয়ে দুই কথিত সাংবাদিক দোলন কুমারের নামে নিজের মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে।

এই আইডি থেকে ইসলাম ও মুসলিম সমাজের কোরবানি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য লেখা হয়। লাগানো হয় গরু ও শুয়োরের ছবি। দোলন কুমারের নামে খোলা ভুয়া আইডিতে পোস্ট করার আগে এ লেখাটি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির ম্যাসেঞ্জারে পাঠানো হয়। ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদের গোচরীভূত হয়।

এদিকে রোববার সন্ধ্যার আগে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনাস্থল কাকনহাটে যান। শনাক্তের পর আটক করা হয় দোলন কুমারকে। কাকনহাট ফাঁড়িতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারেন ওয়াসিম আল রাজির মোবাইল ফোন থেকে দোলন কুমারের নামে ফেইক আইডি তৈরি করা হয়েছে। তারই মোবাইল ফোন থেকেই বিভিন্নজনের ম্যাসেঞ্জারে পাঠানো হয়।

এলাকাবাসীর সহায়তায় ওয়াসিম রাজি ও নাসিম আলীকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে গোদাগাড়ী থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, দুই কথিত সাংবাদিক হিন্দু ভ্যানচালকের কাছে চাঁদা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়। তার নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি বানিয়ে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কনটেন্ট পোস্ট করার করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। প্রযুক্তির সহায়তায় ফেইক আইডিটি পুলিশ শনাক্ত করে। সে অনুযায়ী ওয়াসিম আল রাজি ও নাসিমকে শনাক্ত করা হয়। রোববার সন্ধ্যার পর তাদের কাকনহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানার এসআই শাজাহান সিরাজ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যমূলক কনটেন্ট তৈরি করে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পাঠানোর অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেফতার দুজনকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন