চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকে মশা মরছে না তেমন, পরীক্ষার প্রতিবেদন
jugantor
চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকে মশা মরছে না তেমন, পরীক্ষার প্রতিবেদন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৩ আগস্ট ২০২১, ২১:৪১:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকে মশা মরছে না তেমন, পরীক্ষার প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এতদিন ধরে যে কীটনাশক ছিটিয়ে আসছে, সেটির কার্যকারিতা খুব কম।ফলে মশা তেমন মরছে না।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এই তথ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার চসিকের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন।

দুই বছর আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কীটনাশক নিয়েও একই ফল পাওয়া যায়।পরে কীটনাশক পরিবর্তন করা হয়।

চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত মার্চে মেয়রের অনুরোধে ছয় সদস্যের এই টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।পরীক্ষার জন্য করপোরেশন থেকে টেকনিক্যাল কমিটিকে ৪টি এডাল্টিসাইড ও একটি লার্ভিসাইডের নমুনা দেওয়া হয়।

নমুনাগুলোর মধ্যে একটি এডাল্টিসাইড-লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) যা কালো তেল নামে পরিচিত এবং লার্ভিসাইডটি বর্তমানে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে ব্যবহার করে।আর অন্য তিনটি এডাল্টিসাইড পরীক্ষামূলক নমুনা হিসেবে টেকনিক্যাল কমিটিকে দেয় সিসিসি। যার মধ্যে একটি ভেষধ কীটনাশক, যেটি এডাল্টিসাইড ও লার্ভিসাইড উভয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাকি ‍দুটি রাসায়নিক কীটনাশক।

নমুনা পেয়ে টেকনিক্যাল কমিটি নগরীর ৯৯টি স্থান পরিদর্শন করে ৫১টি এবং ক্যাম্পাস ও আশেপাশের ছয়টি স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে।পরে এডিস ও এনোফিলিস- এই দুই প্রজাতির মশার লার্ভা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে লালন করে পূর্ণবয়স্ক করা হয়।এরপর সরবরাহ করা কীটনাশনের নমুনা এসব লার্ভা ও মশার ওপর প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

চসিক বর্তমানে যে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করে, সেটি পরীক্ষা করে (একই মাত্রায়) দেখা গেছে, দুই ঘণ্টা পর লার্ভা মৃত্যুর হার মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে মিশ্রণে ১০ ‍গুণ বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভা মৃত্যুর হার পাওয়া গেছে।আর নতুন ভেষজ নমুনাটি ব্যবহার করে দুই ঘণ্টায় শতভাগ লার্ভা মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে।

এসব নমুনার মধ্যে হারবালেরটি শতভাগ কার্যকর। এটি বিভিন্ন উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে তৈরি।রাসায়নিক কীটনাশকগুলোর কার্যকারিতা তুলনামূলক কম।রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ালে কার্যকারিতা বাড়লেও তার অন্য সমস্যা রয়েছে।তাতে অন্য ছোট কীটপতঙ্গ-প্রাণির জীবননাশ এবং পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

মশা নিধনে চসিক বর্তমানে যে ফগার মেশিন ব্যবহার করে, তার চেয়ে স্প্রে পদ্ধতিতে ওষুধ ছিটানো বেশি কার্যকর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কমিটি।

চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকে মশা মরছে না তেমন, পরীক্ষার প্রতিবেদন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকে মশা মরছে না তেমন, পরীক্ষার প্রতিবেদন
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এতদিন ধরে যে কীটনাশক ছিটিয়ে আসছে, সেটির কার্যকারিতা খুব কম।ফলে মশা তেমন মরছে না।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এই তথ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার চসিকের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন।

দুই বছর আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কীটনাশক নিয়েও একই ফল পাওয়া যায়।পরে কীটনাশক পরিবর্তন করা হয়।

চট্টগ্রামে ছিটানো কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত মার্চে মেয়রের অনুরোধে ছয় সদস্যের এই টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।পরীক্ষার জন্য করপোরেশন থেকে টেকনিক্যাল কমিটিকে ৪টি এডাল্টিসাইড ও একটি লার্ভিসাইডের নমুনা দেওয়া হয়।

নমুনাগুলোর মধ্যে একটি এডাল্টিসাইড-লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) যা কালো তেল নামে পরিচিত এবং লার্ভিসাইডটি বর্তমানে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে ব্যবহার করে।আর অন্য তিনটি এডাল্টিসাইড পরীক্ষামূলক নমুনা হিসেবে টেকনিক্যাল কমিটিকে দেয় সিসিসি। যার মধ্যে একটি ভেষধ কীটনাশক, যেটি এডাল্টিসাইড ও লার্ভিসাইড উভয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাকি ‍দুটি রাসায়নিক কীটনাশক।

নমুনা পেয়ে টেকনিক্যাল কমিটি নগরীর ৯৯টি স্থান পরিদর্শন করে ৫১টি এবং ক্যাম্পাস ও আশেপাশের ছয়টি স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে।পরে এডিস ও এনোফিলিস- এই দুই প্রজাতির মশার লার্ভা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে লালন করে পূর্ণবয়স্ক করা হয়।এরপর সরবরাহ করা কীটনাশনের নমুনা এসব লার্ভা ও মশার ওপর প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

চসিক বর্তমানে যে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করে, সেটি পরীক্ষা করে (একই মাত্রায়) দেখা গেছে, দুই ঘণ্টা পর লার্ভা মৃত্যুর হার মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে মিশ্রণে ১০ ‍গুণ বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভা মৃত্যুর হার পাওয়া গেছে।আর নতুন ভেষজ নমুনাটি ব্যবহার করে দুই ঘণ্টায় শতভাগ লার্ভা মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে।

এসব নমুনার মধ্যে হারবালেরটি শতভাগ কার্যকর। এটি বিভিন্ন উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে তৈরি।রাসায়নিক কীটনাশকগুলোর কার্যকারিতা তুলনামূলক কম।রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ালে কার্যকারিতা বাড়লেও তার অন্য সমস্যা রয়েছে।তাতে অন্য ছোট কীটপতঙ্গ-প্রাণির জীবননাশ এবং পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

মশা নিধনে চসিক বর্তমানে যে ফগার মেশিন ব্যবহার করে, তার চেয়ে স্প্রে পদ্ধতিতে ওষুধ ছিটানো বেশি কার্যকর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কমিটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন