কেরানীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে মা খুন

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ০৪ মে ২০১৮, ১৩:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

কেরাণীগঞ্জ

কেরানীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তার মাকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কদমতলী মডেল টাউন এলাকার একটি ফ্লাট বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ছেলে তাইজুল ইসলাম শাওনকে (২৮) আটক করেছে।

নিহতের নাম সাহিদা বেগম (৫০)। তার তিন ছেলের মধ্যে শাওন সবার ছোট। এ ঘটনায় নিহতের মেঝ ছেলে জাকারিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের সোহাগদল এলাকার হাজী মো. ফজলুল হকের স্ত্রী নিহত সাহিদা বেগম। কেরানীগঞ্জের আগানগর থানাঘাট এলাকায় কাঠের ব্যবসা রয়েছে তার। তিন ছেলে ওই ব্যবসা দেখাশোনা করে। স্ত্রীসহ তিনি পিরোজপুরে থাকেন।

নিহতের মেঝ ছেলে জাকারিয়া জানান, তার ছোট ভাই শাওন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। স্ত্রী সন্তান গ্রামের বাড়িতে শাওনের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। কয়েক বছর আগে মারাত্মক এক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে সে। ওই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে শাওন বেঁচে যায়। তবে মাঝে মাঝে তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। কয়েক মাস ধরে পাগলামি বেড়ে যায়।

তিনি জানান, ঝাড়, ফুঁক, কবিরাজি, তাবিজ, ওষুধ, ডাক্তার সবকিছুই করা হয়েছে। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। গ্রামের বাড়িতে থাকা মা সাহিদা বেগম ছেলের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় আসেন। এরপর সন্ধ্যায় মেঝ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শাওনকে চিকিৎসার জন্য এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা মডেল টাউনে জাকারিয়ায় বাসায় ফেরেন।

এ সময় জাকারিয়া জরুরি এক কাজে গুলিস্থান চলে যায়। বাসায় ফেরার পর ফ্লাটের এক রুমে তারা শুয়ে পড়েন। ফ্লাটের অপর রুমে জাকারিয়ার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে শাশুড়ির চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ওই রুমের কাছে গেলে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাকারিয়ার স্ত্রী। এক সময় তার শাশুড়ির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি স্বামী জাকারিয়াকে বিষয়টি জানান। পরে জাকারিয়া থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে বাসায় আসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই ওবায়দুর রহমান জানান, পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পায়। এ সময় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাহিদার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। লাশের পাশে রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে বসে ছিল শাওন। তবে খুব সহজে তাকে আটক করা যাচ্ছিল না। ছুরি নিয়ে হামলার ভয় দেখাচ্ছিল। হাতে কাঁথা-বালিশ নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় শাওনের কামড়ে এক কনস্টেবলের হাত জখম হয়।

তিনি আরও জানান, ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

শুক্রবার দুপুরে হাজতখানার দায়িত্ব থাকা কনস্টেবল বলেন, এই আসামি (শাওন) খালি কামড়ায় আর উল্টাপাল্টা কথা বলে। ওর কামড়ে আমাদের এক কনস্টেবল আহত হয়েছে। হাজতখানায় অন্য আসামিরা আছে। তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওরে বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়েছে।

এ সময় ছবি তুলতে গেলে শাওন বাধা গিয়ে বলে, আগে দোষ প্রমাণ হোক, তারপর ছবি তোলেন। কেন মাকে মারলে? এমন প্রশ্নে বলে, কে কইছে আমি মারে মারছি। মা তো বাঁইচা আছে। আমারে দেখতে আসব।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন শাওন মানসিক ভারসাম্যহীন। অনেক সময় স্বাভাবিক থাকলেও মাঝে মাঝে অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.