টিকা দেওয়ার কথা বলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা
jugantor
টিকা দেওয়ার কথা বলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

  নরসিংদী প্রতিনিধি  

০৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:৩২:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে টিকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, অতঃপর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

নিজ দেবর ও ননদদের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেন অগ্নিদগ্ধ প্রবাসীর স্ত্রী (৩০)। শনিবার রাত ৩টার দিকে গুরুতর আহতবস্থায় দগ্ধ নারীকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অগ্নিদগ্ধ নারী জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করত। বছরখানেক পূর্বে তার দেবর আলী হোসেন তার সন্তানের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। নাতনির পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন।

এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি গিয়ে উঠতে বাধ্য হয়। এরই মধ্যে শনিবার টিকা দেওয়ার নাম করে তাকে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে।

বিকালে দেবর আলী হোসেন, ননদের ছেলে শাহরিয়ার, ননদ তাসলিমা বেগম ও জা রহিমা বেগমের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি থেকে সিএনজিযোগে টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। সিএনজিতে ওঠার কিছুক্ষণ পর তার চোখমুখ বেঁধে ফেলে। রাতে তার দেবর কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সিএনজি থেকে নামিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে জানান তিনি। পরে আবার সিএনজিতে উঠিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকে। পরে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে একপর্যায়ে তার দেবর তরল জাতীয় কিছু শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৩টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর আলী হোসেন ও ননদের ছেলে শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. একেএম রেজাউল ইসলাম খান জানান, ওই নারীর শরীরে পায়ের আঙুল থেকে গলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।

গৃহবধূর গায়ে আগুন দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে রায়পুরা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, দেবরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

টিকা দেওয়ার কথা বলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

 নরসিংদী প্রতিনিধি 
০৮ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে টিকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, অতঃপর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। 

নিজ দেবর ও ননদদের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেন অগ্নিদগ্ধ প্রবাসীর স্ত্রী (৩০)। শনিবার রাত ৩টার দিকে গুরুতর আহতবস্থায় দগ্ধ নারীকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

অগ্নিদগ্ধ নারী জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করত। বছরখানেক পূর্বে তার দেবর আলী হোসেন তার সন্তানের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। নাতনির পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। 

এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি গিয়ে উঠতে বাধ্য হয়। এরই মধ্যে শনিবার টিকা দেওয়ার নাম করে তাকে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। 

বিকালে দেবর আলী হোসেন, ননদের ছেলে শাহরিয়ার, ননদ তাসলিমা বেগম ও জা রহিমা বেগমের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি থেকে সিএনজিযোগে টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। সিএনজিতে ওঠার কিছুক্ষণ পর তার চোখমুখ বেঁধে ফেলে। রাতে তার দেবর কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সিএনজি থেকে নামিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে জানান তিনি। পরে আবার সিএনজিতে উঠিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকে। পরে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে একপর্যায়ে তার দেবর তরল জাতীয় কিছু শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

পরে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৩টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর আলী হোসেন ও ননদের ছেলে শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. একেএম রেজাউল ইসলাম খান জানান, ওই নারীর শরীরে পায়ের আঙুল থেকে গলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।

গৃহবধূর গায়ে আগুন দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে রায়পুরা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, দেবরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন