পাহাড়িদের সংঘাতের বলি বাঙালি সজীব

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ মে ২০১৮, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

সংঘাতের বলি সজীব

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র হুমকির মুখে অসহায় সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব পেশাজীবী। এসব পাহাড়ি সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের কারণে মাঝেমধ্যেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সবুজ পাহাড়।

এসব সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের বলি হন অনেক বাঙালি। শুক্রবার পাহাড়িদের দ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন মাইক্রোবাসচালক নিরীহ বাঙালি মো. সজীব হাওলাদার (৩৪)।

ব্রাশফায়ারে নিহত সজিব খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ফাতেমানগর গ্রামের বজলু হাওলাদারের ছেলে। তার স্ত্রীর নাম মৌসুমী। শিহাব হারুন নামে তাদের একটি ছেলে রয়েছে। নিহত সজীব খাগড়াছড়িতে মাইক্রোবাস চালাতেন।

খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শক্তিমান চাকমার তার শেষকৃত্যে যাওয়ার জন্য তার মাইক্রোবাসটি ভাড়া করেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের নেতারা।

তাদের নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে মারা যান ওই সংগঠনের চার নেতাসহ সজীব। এ সময় আহত হন আরও ১০ জন।

গুলিতে আহত জীবন্ত চাকমা নিজেকে সাধারণ গ্রামবাসী দাবি করে বলেন, ওরা সবাই যাচ্ছিলেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্ত তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাগড়াছড়ি সীমানা অতিক্রম করে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার বেতছড়ি পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

গুলিতে আহত নীরও কুমার চাকমা জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) সন্ত্রাসীরা প্রথমে ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে তিন নিহত হয়। আহত হয় ১০ জন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও গুলি চালালে দুপক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পলিয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে মাইক্রোবাস চালক মো. সচিবসহ দুজন মারা যায়। নিহত ও আহতদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে শহরে শোকের ছায়া নেমে আছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে ১০ জনকে আনা হলে দুজন মারা যায়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহতদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শক্তিমান চাকমা।

তার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে মারা যান বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের চার নেতা ও একজন মাইক্রোবাসচালক নিরীহ বাঙালি সজীব। এ চার নেতা হলেন- ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা (৫০) ওরফে বর্মা, একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমা (৩৮), সুজন চাকমা (৩০) এবং সেতু লাল চাকমা (৩৮)।

ঘটনাপ্রবাহ : শক্তিমান চাকমা হত্যা

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter