মাদকের অভিযানে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়
jugantor
মাদকের অভিযানে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

০৯ আগস্ট ২০২১, ২২:১২:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাকসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিহত মাকসুদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা শহরের স্বনির্ভর সড়কের হাবিব হুজুরের ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে মাকসুদের মৃত্যু হয়। এখানে কারো গাফলতি ছিল না। এটি নিছক দুর্ঘটনা। তবে নিহত পরিবারের প্রতি সহযোগিতার দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ওই অভিযান পরিচালনার নেতৃত্বে থাকা পটুয়াখালী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় কনস্টেবল তারেক শাহারিয়ার ও ওয়্যারলেস অপারেটর মামুন খানকে নিয়ে পৌর শহরের স্বনির্ভর সড়কের হাবিব হুজুরের বাসার সামনে অবস্থান করি। এ সময় ইয়াবা বহনের সন্দেহে মাকসুদকে আটকের প্রস্তুতি নেয়া হয়।

তিনি বলেন, অবস্থা বুঝে মাকসুদ দৌড়ে পালাতে গেলে আমরা মাকসুদকে আটক করে হাতে হাতকড়া লাগাই। কিন্তু মাকসুদ তাৎক্ষণিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমরা দ্রুত তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরুন্নাহার স্মৃতি বলেন, মাকসুদকে মৃত আনা হয়েছে। শরীরের কোনো অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার হাতে হাতকড়া পরানো ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে।

ওই সময়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত পুরুষ নার্স বলেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে জসিম উদ্দিন নামে এক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তা মাকসুদ নামে এক মৃতব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে আমরা মৃত ঘোষণা করি।

ওই রাতে হাসপাতালে উপস্থিত উৎসুক জনতা বলেন, মাকসুদকে আটককালে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু সমঝোতার কারণে পরিবার মুখ খুলছে না।

এ প্রসঙ্গে নিহত মাকসুদের স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি কিছুই জানি না।

নিহত মাকসুদের ভাই আহম্মেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মাকসুদের ২৪ বছরের প্রিন্স ও ১১ বছরের প্রান্ত নামে দুই সন্তান রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ভোলা জেলার সদরে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি মাকসুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালায়। আটকের সময় আটককৃত ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে জেনেছি। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে পরিবারের কাছে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, রোববার সন্ধ্যায় নারকোটিক্স বিভাগের অভিযানকালে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা আছে। তারপরও যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেটা আমলে নেয়া হবে।

মাদকের অভিযানে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
০৯ আগস্ট ২০২১, ১০:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাকসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিহত মাকসুদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা শহরের স্বনির্ভর সড়কের হাবিব হুজুরের ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে মাকসুদের মৃত্যু হয়। এখানে কারো গাফলতি ছিল না। এটি নিছক দুর্ঘটনা। তবে নিহত পরিবারের প্রতি সহযোগিতার দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। 

ওই অভিযান পরিচালনার নেতৃত্বে থাকা পটুয়াখালী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় কনস্টেবল তারেক শাহারিয়ার ও ওয়্যারলেস অপারেটর মামুন খানকে নিয়ে পৌর শহরের স্বনির্ভর সড়কের হাবিব হুজুরের বাসার সামনে অবস্থান করি। এ সময় ইয়াবা বহনের সন্দেহে মাকসুদকে আটকের প্রস্তুতি নেয়া হয়।

তিনি বলেন, অবস্থা বুঝে মাকসুদ দৌড়ে পালাতে গেলে আমরা মাকসুদকে আটক করে হাতে হাতকড়া লাগাই। কিন্তু মাকসুদ তাৎক্ষণিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমরা দ্রুত তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরুন্নাহার স্মৃতি বলেন, মাকসুদকে মৃত আনা হয়েছে। শরীরের কোনো অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার হাতে হাতকড়া পরানো ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে।

ওই সময়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত পুরুষ নার্স বলেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে জসিম উদ্দিন নামে এক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তা মাকসুদ নামে এক মৃতব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে আমরা মৃত ঘোষণা করি। 

ওই রাতে হাসপাতালে উপস্থিত উৎসুক জনতা বলেন, মাকসুদকে আটককালে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু সমঝোতার কারণে পরিবার মুখ খুলছে না।

এ প্রসঙ্গে নিহত মাকসুদের স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি কিছুই জানি না।

নিহত মাকসুদের ভাই আহম্মেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মাকসুদের ২৪ বছরের প্রিন্স ও ১১ বছরের প্রান্ত নামে দুই সন্তান রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ভোলা জেলার সদরে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি মাকসুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালায়। আটকের সময় আটককৃত ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে জেনেছি। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে পরিবারের কাছে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, রোববার সন্ধ্যায় নারকোটিক্স বিভাগের অভিযানকালে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা আছে। তারপরও যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেটা আমলে নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন