শিবিরকে চাঁদা দেওয়া সেই যুবলীগ নেতার হুঙ্কার
jugantor
শিবিরকে চাঁদা দেওয়া সেই যুবলীগ নেতার হুঙ্কার

  রাজশাহী ব্যুরো  

১১ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৬:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রশিবিরকে চাঁদা দেওয়া রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সেই নেতা এবার গণমাধ্যমকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মাহামুদ হাসান খান ইতু সংবাদ সম্মেলন করে যেসব গণমাধ্যমে তার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার সকালে মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর মালিকনাধীন রাজশাহী রেলস্টেশনের তৃতীয়তলার একটি হোটেলের কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ইতু।

এ সময় শিবিরকে চাঁদা দেওয়া নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান।

শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা মাহামুদ হাসান খান ইতু লিখিত বক্তব্যে জানান, শিবিরের যে রশিদ দেখানো হচ্ছে তা ভুয়া। যে কারও নামেই এসব তৈরি করা যায়। তিনি ২০১০ সালে গঠিত মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর আসেন যুবলীগে। ২০১৬ সালে সম্মেলনের পর তিনি রাজশাহী মহানগর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদকের পদ পান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইতু দাবি করেন, ২০০৪ সালে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিথ্যা। কাজেই শিবিরকে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক না। ফলে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

এ সময় ইতু ছাড়া মহানগর যুবলীগের আর কোনো নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

মহানগর যুবলীগের একটি সূত্রের দাবি, ইতু মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। সে কারণে তিনি রমজান আলী মালিকনাধীন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

ইতু ২০০২-২০০৪ সাল পর্যন্ত রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে পড়াশোনার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

ওই সময় ইমন নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। ২০১৩-১৪ সালে ইমনের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজশাহীর প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিবিরকে দেওয়া চাঁদার কয়েকটি রশিদ হাতে আসে। একপর্যায়ে সেটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও পৌঁছে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই রাজশাহীর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

চলতি বছরের ৪ মার্চ ছাত্রশিবিরের রশিদে ৩০ টাকা চাঁদা আদায়ে ইতুর পুরো নামই লেখা আছে। রশিদে দেখা যায়, ৩৪৩ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ৩০ টাকা ইয়ানত আদায় করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে ৪০ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ২০ টাকা এবং ২০০০ সালে ২৯৫ এবং ২৯৬ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ৩০ টাকা ও ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। আদায়কারী হিসেবে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর দেখা গেছে। আর শাখার নাম লেখা আছে লিচুবাগান।

শিবিরকে চাঁদা দেওয়া সেই যুবলীগ নেতার হুঙ্কার

 রাজশাহী ব্যুরো 
১১ আগস্ট ২০২১, ০৯:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রশিবিরকে চাঁদা দেওয়া রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সেই নেতা এবার গণমাধ্যমকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মাহামুদ হাসান খান ইতু সংবাদ সম্মেলন করে যেসব গণমাধ্যমে তার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার সকালে মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর মালিকনাধীন রাজশাহী রেলস্টেশনের তৃতীয়তলার একটি হোটেলের কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ইতু।

এ সময় শিবিরকে চাঁদা দেওয়া নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান।

শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা মাহামুদ হাসান খান ইতু লিখিত বক্তব্যে জানান, শিবিরের যে রশিদ দেখানো হচ্ছে তা ভুয়া। যে কারও নামেই এসব তৈরি করা যায়। তিনি ২০১০ সালে গঠিত মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর আসেন যুবলীগে। ২০১৬ সালে সম্মেলনের পর তিনি রাজশাহী মহানগর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদকের পদ পান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইতু দাবি করেন, ২০০৪ সালে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিথ্যা। কাজেই শিবিরকে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক না। ফলে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

এ সময় ইতু ছাড়া মহানগর যুবলীগের আর কোনো নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

মহানগর যুবলীগের একটি সূত্রের দাবি, ইতু মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। সে কারণে তিনি রমজান আলী মালিকনাধীন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

ইতু ২০০২-২০০৪ সাল পর্যন্ত রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে পড়াশোনার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম  ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

ওই সময় ইমন নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। ২০১৩-১৪ সালে ইমনের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজশাহীর প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিবিরকে দেওয়া চাঁদার কয়েকটি রশিদ হাতে আসে। একপর্যায়ে সেটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও পৌঁছে।  বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই রাজশাহীর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

চলতি বছরের ৪ মার্চ ছাত্রশিবিরের রশিদে ৩০ টাকা চাঁদা আদায়ে ইতুর পুরো নামই লেখা আছে। রশিদে দেখা যায়, ৩৪৩ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ৩০ টাকা ইয়ানত আদায় করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে ৪০ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ২০ টাকা এবং ২০০০ সালে ২৯৫ এবং ২৯৬ নম্বর ক্রমিকের রশিদে ৩০ টাকা ও ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। আদায়কারী হিসেবে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর দেখা গেছে। আর শাখার নাম লেখা আছে লিচুবাগান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন