অবশেষে বান্দরবানে খুলছে পর্যটন, ব্যস্ত কর্মচারীরা
jugantor
অবশেষে বান্দরবানে খুলছে পর্যটন, ব্যস্ত কর্মচারীরা

  আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান  

১৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:১৭:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

নো মাস্ক নো সার্ভিস- শর্তারোপে বান্দরবানে দীর্ঘদিন পর পর্যটন শিল্প খুলছে বৃহস্পতিবার। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট খুলে দেয়ার ঘোষণায় ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকরা।

জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের পরিচালিত অন্যতম দর্শনীয় স্থান নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, প্রান্তিক লেক, নীল দিগন্ত, বগালেক, সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি, তমা তুঙ্গী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত স্বর্ণ মন্দির, রামজাদী পর্যটন স্পটগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন।

অন্যদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ের আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলো পিচ্ছিল এবং বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সদরের শৈলপ্রপাত, রূপালী ঝর্ণা, ফারুকপাড়া ঝর্ণা, আমতলী ঝর্ণা, রুমা উপজেলার রিজুক ঝর্ণা, জাদীপাই ঝর্ণা, তিনাপ সাইতার, চিংড়ি ঝর্ণা, থানচি উপজেলার নাফাকুম, অমিয়কুম, সাতভাইকুম, রেমাক্রী জলপ্রপাত, বাকলাই ঝর্ণা, আলীকদম উপজেলার দামতুয়া ঝর্ণা, করুকপাতা ঝর্ণা, রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম।

ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণে বেড়াতে আসা পর্যটকদের এবং স্থানীয় টুরিস্ট গাইডদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বননিবাস রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আইয়ুব ও নীলাচল ফরেস্ট হিল রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সায়েদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার থেকে সরকার পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, রিসোর্টগুলো খুলে দিয়েছে। এটি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ঘরবন্দি ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য একটা দারুণ খবর। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে পর্যটন বন্ধ থাকায় পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। দীর্ঘদিন পর পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ায় রিসোর্টের সবকিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো করা হচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে পর্যটকদের বরণ করতে সব ধরণের প্রস্তুতি তারা নিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বুকিং পায়নি তারা।

জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন খুলে দেয়া হচ্ছে খবরে প্রাণ ফিরেছি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। চাকরি হারানো শ্রমিকেরাও ফিরতে শুরু করেছে কর্মস্থলে। সরকারিভাবে বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা হবে। ইতোমধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু আবাসিক হোটেল এবং রিসোর্টে বৃহস্পতিবার কয়েকটি করে রুম বুকিংয়ের খবর পেয়েছি।

টুরিস্ট গাড়ি শ্রমিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল বলেন, পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় পর্যটকনির্ভর কয়েক শতাধিক টুরিস্ট গাড়ির শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছেন। ভাড়া না থাকায় বেকার অবস্থায় অলস দিন কাটাচ্ছে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে পরিবহণ চালক শ্রমিকদের সংসারেও সচ্ছলতা ফিরবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) জাকির হোসেন জানান, শর্তসাপেক্ষে জেলার সবগুলো পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট বৃহস্পতিবার থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে। শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানত হচ্ছে নো মাস্ক সার্ভিস। মাস্ক ছাড়া কেউই কোনো পর্যটন স্পট এবং আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকতে পারবেন না। পরিবারের লোকজন একি কক্ষে একাধিকজন থাকতে পারলেও অন্যদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ইতিমধ্যে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী হোটেল, রেস্টুরেন্ট মালিক, পরিবহণ এবং পর্যটন স্পটগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিতদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা নজরদারি রাখবে প্রশাসন। শর্ত লঙ্ঘন করলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে দোষীদের বিরুদ্ধে।

অবশেষে বান্দরবানে খুলছে পর্যটন, ব্যস্ত কর্মচারীরা

 আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান 
১৮ আগস্ট ২০২১, ০৭:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নো মাস্ক নো সার্ভিস- শর্তারোপে বান্দরবানে দীর্ঘদিন পর পর্যটন শিল্প খুলছে বৃহস্পতিবার। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট খুলে দেয়ার ঘোষণায় ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকরা।

জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের পরিচালিত  অন্যতম দর্শনীয় স্থান নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, প্রান্তিক লেক, নীল দিগন্ত, বগালেক, সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি, তমা তুঙ্গী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত স্বর্ণ মন্দির, রামজাদী পর্যটন স্পটগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন।

অন্যদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ের আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলো পিচ্ছিল এবং বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সদরের শৈলপ্রপাত, রূপালী ঝর্ণা, ফারুকপাড়া ঝর্ণা, আমতলী ঝর্ণা, রুমা উপজেলার রিজুক ঝর্ণা, জাদীপাই ঝর্ণা, তিনাপ সাইতার, চিংড়ি ঝর্ণা, থানচি উপজেলার নাফাকুম, অমিয়কুম, সাতভাইকুম, রেমাক্রী জলপ্রপাত, বাকলাই ঝর্ণা, আলীকদম উপজেলার দামতুয়া ঝর্ণা, করুকপাতা ঝর্ণা, রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম।

ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণে বেড়াতে আসা পর্যটকদের এবং স্থানীয় টুরিস্ট গাইডদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বননিবাস রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আইয়ুব ও নীলাচল ফরেস্ট হিল রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সায়েদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার থেকে সরকার পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, রিসোর্টগুলো খুলে দিয়েছে। এটি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ঘরবন্দি ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য একটা দারুণ খবর। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে পর্যটন বন্ধ থাকায় পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। দীর্ঘদিন পর পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ায় রিসোর্টের সবকিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো করা হচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে পর্যটকদের বরণ করতে সব ধরণের প্রস্তুতি তারা নিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বুকিং পায়নি তারা।

জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন খুলে দেয়া হচ্ছে খবরে প্রাণ ফিরেছি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। চাকরি হারানো শ্রমিকেরাও ফিরতে শুরু করেছে কর্মস্থলে। সরকারিভাবে বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা হবে। ইতোমধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু আবাসিক হোটেল এবং রিসোর্টে বৃহস্পতিবার কয়েকটি করে রুম বুকিংয়ের খবর পেয়েছি।

টুরিস্ট গাড়ি শ্রমিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল বলেন, পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় পর্যটকনির্ভর কয়েক শতাধিক টুরিস্ট গাড়ির শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছেন। ভাড়া না থাকায় বেকার অবস্থায় অলস দিন কাটাচ্ছে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে পরিবহণ চালক শ্রমিকদের সংসারেও সচ্ছলতা ফিরবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) জাকির হোসেন জানান, শর্তসাপেক্ষে জেলার সবগুলো পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট বৃহস্পতিবার থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে। শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানত হচ্ছে নো মাস্ক সার্ভিস। মাস্ক ছাড়া কেউই কোনো পর্যটন স্পট এবং আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকতে পারবেন না। পরিবারের লোকজন একি কক্ষে একাধিকজন থাকতে পারলেও অন্যদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ইতিমধ্যে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী হোটেল, রেস্টুরেন্ট মালিক, পরিবহণ এবং পর্যটন স্পটগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিতদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা নজরদারি রাখবে প্রশাসন। শর্ত লঙ্ঘন করলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে দোষীদের বিরুদ্ধে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন