পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পেল ছয় নৃ-গোষ্ঠী
jugantor
পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পেল ছয় নৃ-গোষ্ঠী

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

১৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:৫৮:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের জন্য অধিগৃহীত বাড়িঘর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ বাবদ ছয় নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মধ্যে চেক প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তার কার্যালয়ে এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৯১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আল এমরানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর পূর্বে জুলাইয়ের প্রথমদিকে যুগান্তরে এই নৃ-গোষ্ঠীকে নিয়ে দুই দফা প্রতিবেদন হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের উদ্যোগে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ছয় রাখাইন পরিবারের মধ্যে মোট ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ইয়াংসি মাতুববর পেয়েছেন ১২.৪১ লাখ টাকা, চিংদামো রাখাইন ১৯.৯২ লাখ টাকা, মংমাচিন রাখাইন ২৬.৪৫ লাখ টাকা, লাবঅং মাতুববর ৭.৬৫ লাখ, মংচো রাখাইন ৬.৫১ লাখ ও লাচিংমো পেয়েছেন ১৮.৪৫ লাখ টাকা।

ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করে ছ‘আনিপাড়ার মাতুব্বর চিংদামো রাখাইন বলেন, তারা তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন এবং তারা কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের রাখাইন অধ্যুষিত ছোটবালিয়াতলী এলাকায় পুনর্বাসন হতে চান; যাতে তারা নিজেদের কৃষ্টি ও ধর্মীয় রীতি-নীতি সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পায়রা বন্দরের অনুকূলে ছ‘আনিপাড়ার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব রাখাইন পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন করবে। আপাতত এ ছয়টি পরিবারকে কলাপাড়া উপজেলা শহরের ভাড়া বাড়িতে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাদের চাহিদামতো পুনর্বাসন সাইট নির্মাণ শেষে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে ছ‘আনিপাড়া গ্রামটির গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৭৮৪ সালে। তখন কয়েকশ পরিবারের বাস ছিল এখানে। কালের বিবর্তনে এখন মাত্র ছয়টি পরিবার অবশিষ্ট আছে। ১৮ জন পুরুষ, ১০ জন নারী আর ২ জন শিশুসহ মোট বাসিন্দা ৩০ জন। পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজের জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন গোটা গ্রামটি অর্থাৎ সাড়ে ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে। গ্রামের রয়েছে একটি রাখাইন মন্দির আর এ মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে রয়েছেন এই ৬ পরিবারের লোকজন। রাখাইন রীতি অনুযায়ী এসব সেবায়েতরা জমির মালিক নয়। এরা পাবেন শুধুমাত্র জমির ওপর স্থাপিত অস্থাবর সম্পত্তি ঘরবাড়ি, গাছপালা। জেলা প্রশাসন এ ছয় পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করল।

১৯৪৮ সালে পটুয়াখালীতে ১৪৪টি ও বরগুনায় ৯৩টি রাখাইনপাড়া ছিল। বর্তমানে সেখানে যথাক্রমে ২৬টি ও ১৩টি পাড়া টিকে আছে।

পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পেল ছয় নৃ-গোষ্ঠী

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
১৮ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের জন্য অধিগৃহীত বাড়িঘর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ বাবদ ছয় নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মধ্যে চেক প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তার কার্যালয়ে এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৯১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিএম সরফরাজ, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আল এমরানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর পূর্বে জুলাইয়ের প্রথমদিকে যুগান্তরে এই নৃ-গোষ্ঠীকে নিয়ে দুই দফা প্রতিবেদন হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের উদ্যোগে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ছয় রাখাইন পরিবারের মধ্যে মোট ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ইয়াংসি মাতুববর পেয়েছেন ১২.৪১ লাখ টাকা, চিংদামো রাখাইন ১৯.৯২ লাখ টাকা, মংমাচিন রাখাইন ২৬.৪৫ লাখ টাকা, লাবঅং মাতুববর ৭.৬৫ লাখ, মংচো রাখাইন ৬.৫১ লাখ ও লাচিংমো পেয়েছেন ১৮.৪৫ লাখ টাকা।

ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করে ছ‘আনিপাড়ার মাতুব্বর চিংদামো রাখাইন বলেন, তারা তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন এবং তারা কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের রাখাইন অধ্যুষিত ছোটবালিয়াতলী এলাকায় পুনর্বাসন হতে চান; যাতে তারা নিজেদের কৃষ্টি ও ধর্মীয় রীতি-নীতি সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পায়রা বন্দরের অনুকূলে ছ‘আনিপাড়ার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব রাখাইন পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন করবে। আপাতত এ ছয়টি পরিবারকে কলাপাড়া উপজেলা শহরের ভাড়া বাড়িতে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাদের চাহিদামতো পুনর্বাসন সাইট নির্মাণ শেষে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে ছ‘আনিপাড়া গ্রামটির গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৭৮৪ সালে। তখন কয়েকশ পরিবারের বাস ছিল এখানে। কালের বিবর্তনে এখন মাত্র ছয়টি পরিবার অবশিষ্ট আছে। ১৮ জন পুরুষ, ১০ জন নারী আর ২ জন শিশুসহ মোট বাসিন্দা ৩০ জন। পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজের জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন গোটা গ্রামটি অর্থাৎ সাড়ে ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে। গ্রামের রয়েছে একটি রাখাইন মন্দির আর এ মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে রয়েছেন এই ৬ পরিবারের লোকজন। রাখাইন রীতি অনুযায়ী এসব সেবায়েতরা জমির মালিক নয়। এরা পাবেন শুধুমাত্র জমির ওপর স্থাপিত অস্থাবর সম্পত্তি ঘরবাড়ি, গাছপালা। জেলা প্রশাসন এ ছয় পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করল।

১৯৪৮ সালে পটুয়াখালীতে ১৪৪টি ও বরগুনায় ৯৩টি রাখাইনপাড়া ছিল। বর্তমানে সেখানে যথাক্রমে ২৬টি ও ১৩টি পাড়া টিকে আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন