বিজিবির মামলায় মাওলানা আসামি, প্রতিবাদের ঝড়
jugantor
বিজিবির মামলায় মাওলানা আসামি, প্রতিবাদের ঝড়

  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২১, ০০:২৩:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিজিবির মামলায় এক মাওলানাকে আসামি করায় তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের কাজের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

ইতোমধ্যে ওই মাওলানা ভাইরাল হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি এ নিয়ে এলাকাবাসী আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। তারা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট সকালে উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের গুইবিল সীমান্ত ফাঁড়ির জোয়ানরা সীমান্তের মেইন পিলার ১৯৭১নং হতে ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে সুন্দরপুর গ্রামের আ. রশীদ মিয়ার বাড়ির কাছে ৫টি গরু আটক করে। এসব গরু ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে জানিয়ে বিজিবি সদস্যরা গরুগুলো নিয়ে ক্যাম্পের দিকে রওনা দেন।

পথিমধ্যে গনকিরপাড় এলাকায় পৌঁছলে একদল লোক গরুগুলো তাদের বলে বিজিবি সদস্যদের কাছ থেকে টানাহেঁচড়া করে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় গুইবিল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো. গোলাম মোস্তাফা বাদী হয়ে ওই রাতে চুনারুঘাট থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় উপজেলার থৈগাঁও গ্রামের মৃত আ. নুরের পুত্র আ. করিমকে। এ মামলায় ৮নং আসামি করা হয় ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে গোছাপাড়া গ্রামের মাওলানা আ. খালেকের ছেলে মাওলানা আ. মালেককে। এছাড়া এ মামলায় একই গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মো. জহির মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেন। বিজিবি একজন মাওলানাকে আসামি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াম ঝড় তুলেছেন তারা।

এ মামলায় এলাকার যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না বলেও জানান। এছাড়া সাক্ষীদের মধ্যে স্থানীয় অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকার ৩ জন সাংবাদিকও রয়েছেন। তারাই আক্রোশমূলকভাবে বিজিবি সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে মাওলানাসহ কয়েকজনকে আসামি করেছেন বলে এলাকাবাসী প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক নুরুল আমিন বলেন, মাওলানার তিন প্রজন্মই মাওলানা এবং অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। গরু পাচার ও বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় তাদের যারা জড়িত করেছে এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করবে এবং এ ঘটনায় আন্দোলনে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক নাসির আহমেদ বলেন, এলাকার ভদ্র ও তরুণ সমাজকর্মী জহির আহমেদকে তারা গরু পাচারকারী বানিয়েছে, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। আমরা এলাকাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলব এবং যাদের কথায় বিজিবি তাদের এ মামলায় জড়িয়েছে তাদেরও প্রতিহত করা হবে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনুজ জানান, আমি বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন- ভুল তথ্যের কারণে এটা হতে পারে। আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে তাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করব।

বিজিবির মামলায় মাওলানা আসামি, প্রতিবাদের ঝড়

 চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২১, ১২:২৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিজিবির মামলায় এক মাওলানাকে আসামি করায় তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের কাজের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

ইতোমধ্যে ওই মাওলানা ভাইরাল হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি এ নিয়ে এলাকাবাসী আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। তারা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট সকালে উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের গুইবিল সীমান্ত ফাঁড়ির জোয়ানরা সীমান্তের মেইন পিলার ১৯৭১নং হতে ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে সুন্দরপুর গ্রামের আ. রশীদ মিয়ার বাড়ির কাছে ৫টি গরু আটক করে। এসব গরু ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে জানিয়ে বিজিবি সদস্যরা গরুগুলো নিয়ে ক্যাম্পের  দিকে রওনা দেন।

পথিমধ্যে গনকিরপাড় এলাকায় পৌঁছলে একদল লোক গরুগুলো তাদের বলে বিজিবি সদস্যদের কাছ থেকে টানাহেঁচড়া করে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় গুইবিল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো. গোলাম মোস্তাফা বাদী হয়ে ওই রাতে চুনারুঘাট থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় উপজেলার থৈগাঁও গ্রামের মৃত আ. নুরের পুত্র আ. করিমকে। এ মামলায় ৮নং আসামি করা হয় ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে গোছাপাড়া গ্রামের মাওলানা আ. খালেকের ছেলে মাওলানা আ. মালেককে। এছাড়া এ মামলায় একই গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মো. জহির মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেন। বিজিবি একজন মাওলানাকে আসামি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াম ঝড় তুলেছেন তারা।

এ মামলায় এলাকার যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না বলেও জানান। এছাড়া সাক্ষীদের মধ্যে স্থানীয় অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকার ৩ জন সাংবাদিকও রয়েছেন। তারাই আক্রোশমূলকভাবে বিজিবি সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে মাওলানাসহ কয়েকজনকে আসামি করেছেন বলে এলাকাবাসী প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক নুরুল আমিন বলেন, মাওলানার তিন প্রজন্মই মাওলানা এবং অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। গরু পাচার ও বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় তাদের যারা জড়িত করেছে এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করবে এবং এ ঘটনায় আন্দোলনে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক নাসির আহমেদ বলেন, এলাকার ভদ্র ও তরুণ সমাজকর্মী জহির আহমেদকে তারা গরু পাচারকারী বানিয়েছে, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। আমরা এলাকাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলব এবং যাদের কথায় বিজিবি তাদের এ মামলায় জড়িয়েছে তাদেরও প্রতিহত করা হবে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনুজ জানান, আমি বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন- ভুল তথ্যের কারণে এটা হতে পারে। আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে তাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন