‘দুর্ঘটনা না ঘটলে কেউ খেয়াল করবে না’
jugantor
‘দুর্ঘটনা না ঘটলে কেউ খেয়াল করবে না’

  কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)  

২১ আগস্ট ২০২১, ০৩:৪৪:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ভাঙা ব্রিজ (সেতু), ভাঙাই থাকবে। এইটা (এটা) দেখার কেউ নাই। একটা দুর্ঘটনা না ঘটলে কেউ এদিকে খেয়াল করবে না।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর ও গহিনখালীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পারাপার হতে গিয়ে পথচারীরা একজন আরেকজনের সঙ্গে আক্ষেপ করে এ কথাগুলো বলেছেন, যা শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে শোনা যায়।

পথচারীদের কথার বাস্তবতাও ভিন্ন নয়। লোকজন পারাপারের অনুপযোগী হলে বাহেরচর ও গহিনখালী মানুষের যোগাযোগের সেতুটি ২০১২ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দীর্ঘ ৯ বছর পরও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সেতুটির বাহেরচর অংশ রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, আর গহিনখালী অংশ ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের। পাশাপাশি এই দুই ইউনিয়নের মানুষের সহজ সড়ক যোগাযোগের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি দুই-তিনবার ভেঙে লোকজন পারাপার বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। যে কয়বার এমন ঘটেছে, প্রত্যেকবার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি মেরামত করা হয়।

এলজিইডি বলছে, ১৯৯০ সালে ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২ মিটার চওড়া এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেতুটির অবস্থা অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের সেতুটির তেমন কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। গাছের গুঁড়ি পুতে তার ওপর কাঠের পাটাতন বিছিয়ে দেওয়া। এর কোনো কোনো জায়গায় কংক্রিটের ঢালাই, লোহার বিম, পিলার ও রডের জোড়াতালি। এভাবে লোকজন পারাপারের কোনোমতে একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেই ব্যবস্থাও অনেকদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ।

দেখা গেছে, কয়েক জায়গায় পাটাতন ভেঙে গেছে, কোথাও ফাঁক হয়ে গেছে। অবশ্য, এটি দিয়ে অনেক আগ থেকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ। নড়বড়ে এ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পারাপার হয়। তবে পথচারীদের আশঙ্কা- সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী আব্বাস হাওলাদার বলেন, সেতুর দুই পাড়ে বাজার। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাণিজ্যিক কারণে এবং উপজেলা সদরে সহজ যোগাযোগের কারণে সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ (সেতু) প্রকল্পে এই ব্রিজের নাম পাঠানো হয়েছে। প্রজেক্টে অনুমোদন হলে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘দুর্ঘটনা না ঘটলে কেউ খেয়াল করবে না’

 কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) 
২১ আগস্ট ২০২১, ০৩:৪৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ভাঙা ব্রিজ (সেতু), ভাঙাই থাকবে। এইটা (এটা) দেখার কেউ নাই। একটা দুর্ঘটনা না ঘটলে কেউ এদিকে খেয়াল করবে না।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর ও গহিনখালীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পারাপার হতে গিয়ে পথচারীরা একজন আরেকজনের সঙ্গে আক্ষেপ করে এ কথাগুলো বলেছেন, যা শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে শোনা যায়।
 
পথচারীদের কথার বাস্তবতাও ভিন্ন নয়। লোকজন পারাপারের অনুপযোগী হলে বাহেরচর ও গহিনখালী মানুষের যোগাযোগের সেতুটি ২০১২ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দীর্ঘ ৯ বছর পরও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সেতুটির বাহেরচর অংশ রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, আর গহিনখালী অংশ ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের। পাশাপাশি এই দুই ইউনিয়নের মানুষের সহজ সড়ক যোগাযোগের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি দুই-তিনবার ভেঙে লোকজন পারাপার বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। যে কয়বার এমন ঘটেছে, প্রত্যেকবার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি মেরামত করা হয়।

এলজিইডি বলছে, ১৯৯০ সালে ৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২ মিটার চওড়া এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেতুটির অবস্থা অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের সেতুটির তেমন কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। গাছের গুঁড়ি পুতে তার ওপর কাঠের পাটাতন বিছিয়ে দেওয়া। এর কোনো কোনো জায়গায় কংক্রিটের ঢালাই, লোহার বিম, পিলার ও রডের জোড়াতালি। এভাবে লোকজন পারাপারের কোনোমতে একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেই ব্যবস্থাও অনেকদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ।

দেখা গেছে, কয়েক জায়গায় পাটাতন ভেঙে গেছে, কোথাও ফাঁক হয়ে গেছে। অবশ্য, এটি দিয়ে অনেক আগ থেকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ। নড়বড়ে এ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পারাপার হয়। তবে পথচারীদের আশঙ্কা- সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী আব্বাস হাওলাদার বলেন, সেতুর দুই পাড়ে বাজার। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাণিজ্যিক কারণে এবং উপজেলা সদরে সহজ যোগাযোগের কারণে সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ (সেতু) প্রকল্পে এই ব্রিজের নাম পাঠানো হয়েছে। প্রজেক্টে অনুমোদন হলে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন