মিয়ানমারে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমায় রোহিঙ্গারা
jugantor
মিয়ানমারে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমায় রোহিঙ্গারা

  শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার)  

২৬ আগস্ট ২০২১, ০১:২৫:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারের আরকান (রাখাইন) রাজ্যে সামরিক জান্তা ও নাটালা বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যা, খুন, নির্যাতন, ধর্ষণের মুখে প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ সরকার মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তাদের আশ্রয় দেয় উখিয়া-টেকনাফে। তবে এখনো নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমায় এসব আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

কুতুপালং-২ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, গত ৪ বছরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশ্রয় থেকে শুরু করে নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, যেগুলো আমরা মিয়ানমারেও পাইনি। এজন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে ইচ্ছা করে দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে।

থাইংখালী জামতলী ক্যাম্প-১৫ বি ব্লকের মাঝি মো. শফিক বলেন, ১৯৩২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৩ বার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে বাংলাদেশে, কিন্তু ২০১৭ সালের মতো এত বৃহৎ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে কখনো আসেনি। এবার মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে আমার নিজ দেশে ফিরতে চায়।

বালুখালী ক্যাম্প-১২ এইচ-৫ এর মাঝি আবু তোহা বলেন, মিয়ানমারে অনেক জায়গা-জমি, ধন-সম্পদ ছিল কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে এ দেশে পালিয়ে এসেছি। আমরা এখানে খুবই ভালো আছি, এরপরও রাতে ঘুমাতে গেলে দেশের জন্য মন কাঁদে।

বালুখালী ক্যাম্প-১২ এইচ-৮ এর মাঝি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই শুনছি মিয়ানমার আমাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। কয়েকবার দিন-তারিখ ঠিক করার পরও বহির্বিশ্বের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।

টিভি রিলে কেন্দ্র সংলগ্ন ক্যাম্প-৭ এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা নেতা বদরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের টালবাহানা, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সদিচ্ছার অভাব, তার ওপর মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের কারণে ঘোর অন্ধকারে পড়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। আদৌ আমরা নিজ দেশে ফিরতে পারব কিনা তা নিয়ে সন্দেহে রয়েছি। কোনো দাবি দাওয়া নেই, শুধু নাগরিকত্ব নিশ্চিত করলেও আমরা মিয়ানমারে ফিরে যাব।

টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পের আমির হামজা, লেদা ক্যাম্পের মো. সলিমসহ অনেক রোহিঙ্গার জানান, শুধু বাংলাদেশ চাইলে হবে না, নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকেও রাজি হতে হবে।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে বলপ্রয়োগ করেই শুধু প্রত্যাবাসনের পথ খোলা সম্ভব হবে। আর আমাদেরও নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার সুযোগ হবে। নচেৎ যুগের পর যুগ এভাবে ঝুলে থাকবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।

রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। তারা মাদকের ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হওয়া নিয়ে আমরাও সন্দিহান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠন নিজ স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা দেখিয়ে তারা সুবিধা আদায় করছে। তাই এসব সেবা সংস্থাগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনের খবরাখবর আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত আসেনি।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজ্জার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট উপলক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়নি। ক্যাম্প প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমায় রোহিঙ্গারা

 শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার) 
২৬ আগস্ট ২০২১, ০১:২৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারের আরকান (রাখাইন) রাজ্যে সামরিক জান্তা ও নাটালা বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যা, খুন, নির্যাতন, ধর্ষণের মুখে প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ সরকার মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তাদের আশ্রয় দেয় উখিয়া-টেকনাফে। তবে এখনো নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমায় এসব আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

কুতুপালং-২ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, গত ৪ বছরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশ্রয় থেকে শুরু করে নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, যেগুলো আমরা মিয়ানমারেও পাইনি। এজন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে ইচ্ছা করে দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে। 

থাইংখালী জামতলী ক্যাম্প-১৫ বি ব্লকের মাঝি মো. শফিক বলেন, ১৯৩২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৩ বার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে বাংলাদেশে, কিন্তু ২০১৭ সালের মতো এত বৃহৎ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে কখনো আসেনি। এবার মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে আমার নিজ দেশে ফিরতে চায়। 

বালুখালী ক্যাম্প-১২ এইচ-৫ এর মাঝি আবু তোহা বলেন, মিয়ানমারে অনেক জায়গা-জমি, ধন-সম্পদ ছিল কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে এ দেশে পালিয়ে এসেছি। আমরা এখানে খুবই ভালো আছি, এরপরও রাতে ঘুমাতে গেলে দেশের জন্য মন কাঁদে। 

বালুখালী ক্যাম্প-১২ এইচ-৮ এর মাঝি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই শুনছি মিয়ানমার আমাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। কয়েকবার দিন-তারিখ ঠিক করার পরও বহির্বিশ্বের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। 

টিভি রিলে কেন্দ্র সংলগ্ন ক্যাম্প-৭ এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা নেতা বদরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের টালবাহানা, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সদিচ্ছার অভাব, তার ওপর মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের কারণে ঘোর অন্ধকারে পড়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। আদৌ আমরা নিজ দেশে ফিরতে পারব কিনা তা নিয়ে সন্দেহে রয়েছি। কোনো দাবি দাওয়া নেই, শুধু নাগরিকত্ব নিশ্চিত করলেও আমরা মিয়ানমারে ফিরে যাব।

টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পের আমির হামজা, লেদা ক্যাম্পের মো. সলিমসহ অনেক রোহিঙ্গার জানান, শুধু বাংলাদেশ চাইলে হবে না, নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকেও রাজি হতে হবে।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে বলপ্রয়োগ করেই শুধু প্রত্যাবাসনের পথ খোলা সম্ভব হবে। আর আমাদেরও নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার সুযোগ হবে। নচেৎ যুগের পর যুগ এভাবে ঝুলে থাকবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।

রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। তারা মাদকের ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হওয়া নিয়ে আমরাও সন্দিহান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠন নিজ স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা দেখিয়ে তারা সুবিধা আদায় করছে। তাই এসব সেবা সংস্থাগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনের খবরাখবর আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত আসেনি।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজ্জার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট উপলক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়নি। ক্যাম্প প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন