ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন মা-মেয়ে
jugantor
ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন মা-মেয়ে

  সাব্বির আহসেদ সুবীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া  

২৮ আগস্ট ২০২১, ২২:০৯:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ট্রলার ডুবিতে নিহত ফরিদা আক্তার ও মেয়ে মুন্নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মা ও মেয়ে।

শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টায় বিজয়নগরের লইসকার বিলে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদা ও মুন্নি রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে স্ত্রীফরিদা আক্তার ওমেয়ে মুন্নিকে বাড়ির পাশের নৌকাঘাট থেকে ট্রলারে তুলে দেন জজ মিয়া। শুক্রবার রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে শনিবার সকালে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু রাতেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা।

ফরিদার স্বামী জজ মিয়া জানান, তার স্ত্রী ফরিদার কোমরে ব্যথা। শনিবার সকালে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। নিজে তাদের ট্রলারে তুলে দিয়েছেন। রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এক আত্মীয়র বাসায় থেকে সকালে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। জজ মিয়া বলেন ট্রলারটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। এ কারণেই ট্রলারটি ডুবেছে।

শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাদের। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন জজ মিয়া। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই মৃত্যু।

এদিকে ট্রলারডুবে গেড়াগাঁও গ্রামের আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মৃত মালু মিয়ার স্ত্রী মঞ্জু বেগম ও আব্দুল হাসিমের স্ত্রী কমলা বেগম।

মায়ের জন্য বিলাপ করতে করতে মঞ্জু বেগমের মেয়ে মৌসুমি আক্তার জানান, তার নানু অসুস্থ, সেজন্য চাচি কমলাকে নিয়ে নানুর বাড়ি যাচ্ছিলেন মা। ভাতার জন্য কয়েকদিন আগে তার মা ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবি তার কাছে দিয়ে বলেছিলেন, বাবার ছবির সঙ্গে ছবিটা বাঁধিয়ে রাখার জন্য। মৌসুমিবলেন,তখন বুঝতে পারিনিমা এভাবে ছবি হয়ে যাবে।

ট্রলারডুবির ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন মা-মেয়ে

 সাব্বির আহসেদ সুবীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 
২৮ আগস্ট ২০২১, ১০:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ট্রলার ডুবিতে নিহত ফরিদা আক্তার ও মেয়ে মুন্নি
ট্রলার ডুবিতে নিহত ফরিদা আক্তার ও মেয়ে মুন্নি। ছবি: যুগান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মা ও মেয়ে। 

শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টায় বিজয়নগরের লইসকার বিলে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদা ও মুন্নি রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও মেয়ে মুন্নিকে বাড়ির পাশের নৌকাঘাট থেকে ট্রলারে তুলে দেন জজ মিয়া। শুক্রবার রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে শনিবার সকালে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু রাতেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা। 

ফরিদার স্বামী জজ মিয়া জানান, তার স্ত্রী ফরিদার কোমরে ব্যথা। শনিবার সকালে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। নিজে তাদের ট্রলারে তুলে দিয়েছেন। রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এক আত্মীয়র বাসায় থেকে সকালে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। জজ মিয়া বলেন ট্রলারটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। এ কারণেই ট্রলারটি ডুবেছে।

শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাদের। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন জজ মিয়া। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই মৃত্যু।

এদিকে ট্রলারডুবে গেড়াগাঁও গ্রামের আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মৃত মালু মিয়ার স্ত্রী মঞ্জু বেগম ও আব্দুল হাসিমের স্ত্রী কমলা বেগম।

মায়ের জন্য বিলাপ করতে করতে মঞ্জু বেগমের মেয়ে মৌসুমি আক্তার জানান, তার নানু অসুস্থ, সেজন্য  চাচি কমলাকে নিয়ে নানুর বাড়ি যাচ্ছিলেন মা। ভাতার জন্য কয়েকদিন আগে তার মা ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবি তার কাছে দিয়ে বলেছিলেন, বাবার ছবির সঙ্গে ছবিটা বাঁধিয়ে রাখার জন্য। মৌসুমি বলেন, তখন বুঝতে পারিনি মা এভাবে ছবি হয়ে যাবে।

ট্রলারডুবির ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন