নদীর পাড়ে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীদের
jugantor
নদীর পাড়ে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীদের

  চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৯ আগস্ট ২০২১, ২১:১৭:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

হুশিয়ার-সাবধান। ডাকাতের নৌকার মতো মনে হচ্ছে। কেউ ঘরে থাকবেন না। বাড়ি থেকে লাঠিসোটা নিয়ে নদী পাড়ে চলে আসেন। বর্ষা মৌসুমে ডাকাতের হাত থেকে গবাদি পশুসহ সম্পদ রক্ষায় যমুনা নদী পাড় থেকে কথাগুলো এভাবেই প্রতিদিনই রাতভর মাইকে প্রচার করা হয়।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সরেজমিন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন জালালপুর গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প ও পাকুরতলা যমুনা নদী পাড়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। সেখানে অস্থায়ী একটি তাঁবু করে গ্রামের প্রায় অর্ধশত লোক হাতে টর্চলাইট, লাঠি, বল্লম ও বাঁশি নিয়ে বসে আছেন।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার যমুনা পাড়ে ভাঙন ও বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাকাত আতঙ্ক। তাই রাত জেগে চলে পাহারা।

উপজেলার উমারপুর, ঘোড়জান, স্থল, খাষপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের পূর্বাংশসহ নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ কারণে চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদি পশু ও ফসলাদি নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বানের পানি প্রবেশ করায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বহু মানুষ। তবে কেউ কেউ ঘরবাড়ি রেখে আত্মীয়স্বজন কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে গেছে।

বিগত বছরগুলোতে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে নৌকা নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দিয়ে গরু-ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। উপজেলার প্রায় ৩৮ কিলোমিটার যমুনা নদীতে নৌ পুলিশের টহল এক দিকে দিলে অন্য এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। যে কারণে ডাকাতি রোধকল্পে চরাঞ্চলের অনেক মহল্লায় রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলার গোসাই বাড়ি চরের আবদুর রাজ্জাক বেপারী, উমারপুরের খলিল ও তেঘুরি চরের আমজাদ হোসেন জানান, ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটে চরাঞ্চলের মানুষের। রাতে যখন সবাই ঘুমে থাকে তখন লাঠি নিয়ে রাত জেগে পাহারায় থাকতে হয় তাদের। চরের মানুষের সম্বল বলতে গরু, ছাগল, ভেড়া। গত বছরও সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা পাশের এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই রাত জেগে পাহারা দিতে হয়।

এ বিষয়ে জালালপুরে নদী পাড়ের ডাকাতি রোধ কমিটির প্রচারকারী রুহুল আমিন জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে জালালপুর, পাকুরতলাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ বর্ষার শুরু থেকে নিজেদের জান ও মাল রক্ষায় রাতভর ডিউটি করি। এ সময় প্রত্যেকে বাড়ি থেকে লাঠিসোটা, ইটের খোয়া ও শাবল নিয়ে ডাকাতদের রুখতে প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। এছাড়া নদীপাড়ে লাইটিং করা হয়। সেই সঙ্গে মাইকে রাত ১০টার পর থেকে হুশিয়ারি প্রচারণামূলক বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও সমাজ সেবক আবদুস ছালাম জানান, যমুনা পাড়ে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডাকাতের আতঙ্ক বেড়ে যায়। সুযোগ পেলে ডাকাত দল হানা দেয়। সেই সঙ্গে এখন পাল্লা দিয়ে চলছে নদীভাঙন। শুক্রবার রাতেও চোখের পলকেই প্রায় ৮টি বসত ভিটা নদীগর্ভে চলে গেল। চরাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে নৌপুলিশ ক্যাম্প অথবা পুলিশি টহল বৃদ্ধির দাবি জানাই।

এনায়েতপুর থানার ওসি আনিছুর রহমান যুগান্তরকে জানান, যমুনা নদী পাড়ের বাসিন্দাদের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এখনও কোনো ডাকাতির ঘটনার সংবাদ পাইনি।

নদীর পাড়ে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীদের

 চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  
২৯ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হুশিয়ার-সাবধান। ডাকাতের নৌকার মতো মনে হচ্ছে। কেউ ঘরে থাকবেন না। বাড়ি থেকে লাঠিসোটা নিয়ে নদী পাড়ে চলে আসেন। বর্ষা মৌসুমে ডাকাতের হাত থেকে গবাদি পশুসহ সম্পদ রক্ষায় যমুনা নদী পাড় থেকে কথাগুলো এভাবেই প্রতিদিনই রাতভর মাইকে প্রচার করা হয়। 

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সরেজমিন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন জালালপুর গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প ও পাকুরতলা যমুনা নদী পাড়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। সেখানে অস্থায়ী একটি তাঁবু করে গ্রামের প্রায় অর্ধশত লোক হাতে টর্চলাইট, লাঠি, বল্লম ও বাঁশি নিয়ে বসে আছেন। 

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার যমুনা পাড়ে ভাঙন ও বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাকাত আতঙ্ক। তাই রাত জেগে চলে পাহারা। 

উপজেলার উমারপুর, ঘোড়জান, স্থল, খাষপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের পূর্বাংশসহ নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ কারণে চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদি পশু ও ফসলাদি নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বানের পানি প্রবেশ করায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বহু মানুষ। তবে কেউ কেউ ঘরবাড়ি রেখে আত্মীয়স্বজন কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। 

বিগত বছরগুলোতে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে নৌকা নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দিয়ে গরু-ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। উপজেলার প্রায় ৩৮ কিলোমিটার যমুনা নদীতে নৌ পুলিশের টহল এক দিকে দিলে অন্য এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। যে কারণে ডাকাতি রোধকল্পে চরাঞ্চলের অনেক মহল্লায় রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। 

চৌহালী উপজেলার গোসাই বাড়ি চরের আবদুর রাজ্জাক বেপারী, উমারপুরের খলিল ও তেঘুরি চরের আমজাদ হোসেন জানান, ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটে চরাঞ্চলের মানুষের। রাতে যখন সবাই ঘুমে থাকে তখন লাঠি নিয়ে রাত জেগে পাহারায় থাকতে হয় তাদের। চরের মানুষের সম্বল বলতে গরু, ছাগল, ভেড়া। গত বছরও সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা পাশের এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। 

এ বিষয়ে জালালপুরে নদী পাড়ের ডাকাতি রোধ কমিটির প্রচারকারী রুহুল আমিন জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে জালালপুর, পাকুরতলাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ বর্ষার শুরু থেকে নিজেদের জান ও মাল রক্ষায় রাতভর ডিউটি করি। এ সময় প্রত্যেকে বাড়ি থেকে লাঠিসোটা, ইটের খোয়া ও শাবল নিয়ে ডাকাতদের রুখতে প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। এছাড়া নদীপাড়ে লাইটিং করা হয়। সেই সঙ্গে মাইকে রাত ১০টার পর থেকে হুশিয়ারি প্রচারণামূলক বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও সমাজ সেবক আবদুস ছালাম জানান, যমুনা পাড়ে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডাকাতের আতঙ্ক বেড়ে যায়। সুযোগ পেলে ডাকাত দল হানা দেয়। সেই সঙ্গে এখন পাল্লা দিয়ে চলছে নদীভাঙন। শুক্রবার রাতেও চোখের পলকেই প্রায় ৮টি বসত ভিটা নদীগর্ভে চলে গেল। চরাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে নৌপুলিশ ক্যাম্প অথবা পুলিশি টহল বৃদ্ধির দাবি জানাই। 

এনায়েতপুর থানার ওসি আনিছুর রহমান যুগান্তরকে জানান, যমুনা নদী পাড়ের বাসিন্দাদের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এখনও কোনো ডাকাতির ঘটনার সংবাদ পাইনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন