রোহিঙ্গাদের দেওয়া হচ্ছে ১০ লাখ কলেরার টিকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৮, ২১:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  কক্সবাজার প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৯ লাখ ৮৫ হাজার মানুষকে দেওয়া হচ্ছে কলেরার টিকা। 

রোববার সকাল ১০টায় উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন। 

এবার ৬ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৫ হাজার স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ মোট ৯ লক্ষ ৮৫ হাজার মানুষকে দেয়া হবে কলের টিকা।  ক্যাম্পেইনে ২০১৭ সালের অক্টোবরের পরে বাংলাদেশে আগত ১ বছরের বেশি বয়সের রোহিঙ্গাদের ১ম ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশে যাওয়া স্থানীয় ১ বছরের বেশি বয়সীদের ১ম ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্র খোলা থাকবে বলে সূত্রে জানা গেছে। 

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, কলেরা খাদ্য ও পানিবাহিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এই জীবাণু‚ পরিবেশে ছড়ায় এবং খাবার ও পানিতে ছড়িয়ে পড়ে।  

রোগাক্রান্তরা অল্প সময়ে ডায়রিয়ার কারণে তীব্র পানি শুণ্যতায় আক্রান্ত হয়। সময়মত চিকিৎসা না পেলে এই রোগে আক্রান্ত মানুষ মৃত্যুবরণ করে। রোহিঙ্গারা এই দেশে আসার পর উখিয়া ও টেকনাফে জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ইতিমধ্যে হাম-রুবেলা, ডিপথেরিয়া, ধনুস্টংকার, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।  

এবার সরকার পুনরায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কলেরা টিকা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে রোববার থেকে কলেরা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, প্রতি ৫০০-৬০০ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে একটি টিম কাজ করবে। উখিয়ায় একজন টিম লিডারসহ ৬ সদস্য বিশিষ্ট ১৮৩টি টিকাদান টিম ও টেকনাফে একই সদস্য বিশিষ্ট ৭৫টি টিম কাজ করবে।  এতে মোট ১২শ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।  রেজিষ্ট্রেশন স্থান ও রেশন স্থানেও প্রতিদিন টিকা প্রদান করা হবে।  

রোববার জামতলী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে উখিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, উখিয়ায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৮ জন রোহিঙ্গা ও ৪০ হাজার ৫৩৭ জন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হবে। 

এছাড়া টেকনাফে ১ লাখ ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা ও ৯৪ হাজার ৫৬৫ জন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী এ টিকা কর্মসূচির আওতায় আসবে।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ডা. মোহাম্মদ আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ইপিআই)  প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. আলতাফ হোসেন, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, ব্র্যাক, আইসিডিআরবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রচণ্ড গরমে পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এ টিকাদান কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।