বলাৎকারের অভিযোগে দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা
jugantor
বলাৎকারের অভিযোগে দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

৩০ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৮:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জে ছাত্রকে বলাৎকার এবং তাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই মাদ্রাসাশিক্ষকের নামে মামলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় রোববার রাত দেড়টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রের বাবা।

মামলার আসামি দুই শিক্ষক হলেন- মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা বেলাল হোসেন ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি হোসাইন মোহাম্মদ নাঈমকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে বেলালের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের এবং অধ্যক্ষ হোসাইনের বিরুদ্ধে বেলালকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ করার অভিযোগ আনা হয় এজাহারে।

হাফেজ মাওলানা বেলাল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া পাচাশি এলাকার এবং মুফতি হোসাইন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল এলাকার অধিবাসী।

মামলার বাদী জানান, তিনি ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্ত্রী একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাদের একমাত্র ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানানোর জন্য ভর্তি করা হয় জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসায়। ১০ বছর বয়সী ছেলেটি নাজেরা বিভাগ থেকে পাস করে হেফজখানায় ভর্তি হয়। মাদ্রাসাতেই থাকত সে।

সাপ্তাহিক ছুটিতে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যান তিনি। সেখান থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যান শ্বশুরবাড়ি। সেদিন বিকালে শিক্ষক বেলাল তাকে ফোন করে জানান, ছেলেকে দ্রুত মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দিতে হবে, না হলে পড়াশোনার ক্ষতি হবে।

ওই ছাত্রের বাবা আরও জানান, মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা শুনে তার ছেলে কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে সে জানায়, গত ১৫ আগস্ট সকালে মাদ্রাসার তিনতলায় একটি টয়লেটে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করেন শিক্ষক বেলাল।

একইভাবে গত শুক্রবার সকালেও তাকে নির্যাতন করা হয়। সেদিনই মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে বেলালকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেলাল তা স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান।

ওই ছাত্রের বাবা বলেন, বেলালকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জিম্মায় রেখে বাসায় চলে আসি। স্বজনদের পরামর্শে আবার মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের খোঁজ করে জানতে পারি তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হোসাইন মোহাম্মদ নাঈম।

ওই ছাত্রের মামা বলেন, বলাৎকারের খবর এত দিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখে আসছি। আর আজ নিজ পরিবারের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। আলেম হয়ে এ ধরনের জঘন্য কাজ ওনারা করেন কীভাবে? ছাত্ররা তো তার কাছে সন্তান সমতুল্য।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর আমিও গিয়েছিলাম মাদ্রাসায়। সেখানে যাওয়ার পর হুজুরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু তাকে কোরআন ছুঁয়ে বলতে বলা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।

ওই ছাত্র জানায়, বেলাল হুজুর আরও কয়েক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও সে। তবে ভয় ও লজ্জায় সবাই চুপ থাকে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন জানান, ১৭০ জন ছাত্র পড়াশুনা করে তার মাদ্রাসায়। এর মধ্যে ৩০ জন আবাসিক ছাত্র।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরই বেলালকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে এ অভিযোগের ব্যাপারে বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বলাৎকারের অভিযোগে দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
৩০ আগস্ট ২০২১, ০৯:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জে ছাত্রকে বলাৎকার এবং তাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই মাদ্রাসাশিক্ষকের নামে মামলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় রোববার রাত দেড়টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রের বাবা।

মামলার আসামি দুই শিক্ষক হলেন- মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা বেলাল হোসেন ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি হোসাইন মোহাম্মদ নাঈমকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে বেলালের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের এবং অধ্যক্ষ হোসাইনের বিরুদ্ধে বেলালকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ করার অভিযোগ আনা হয় এজাহারে।

হাফেজ মাওলানা বেলাল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া পাচাশি এলাকার এবং মুফতি হোসাইন  কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল এলাকার অধিবাসী।

মামলার বাদী জানান, তিনি ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্ত্রী একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাদের একমাত্র ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানানোর জন্য ভর্তি করা হয় জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসায়। ১০ বছর বয়সী ছেলেটি নাজেরা বিভাগ থেকে পাস করে হেফজখানায় ভর্তি হয়। মাদ্রাসাতেই থাকত সে।

সাপ্তাহিক ছুটিতে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যান তিনি। সেখান থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যান শ্বশুরবাড়ি। সেদিন বিকালে শিক্ষক বেলাল তাকে ফোন করে জানান, ছেলেকে দ্রুত মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দিতে হবে, না হলে পড়াশোনার ক্ষতি হবে।

ওই ছাত্রের বাবা আরও জানান, মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা শুনে তার ছেলে কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে সে জানায়, গত ১৫ আগস্ট সকালে মাদ্রাসার তিনতলায় একটি টয়লেটে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করেন শিক্ষক বেলাল।

একইভাবে গত শুক্রবার সকালেও তাকে নির্যাতন করা হয়। সেদিনই মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে বেলালকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেলাল তা স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান।

ওই ছাত্রের বাবা বলেন, বেলালকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জিম্মায় রেখে বাসায় চলে আসি। স্বজনদের পরামর্শে আবার মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের খোঁজ করে জানতে পারি তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হোসাইন মোহাম্মদ নাঈম।

ওই ছাত্রের মামা বলেন, বলাৎকারের খবর এত দিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখে আসছি। আর আজ নিজ পরিবারের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। আলেম হয়ে এ ধরনের জঘন্য কাজ ওনারা করেন কীভাবে? ছাত্ররা তো তার কাছে সন্তান সমতুল্য।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর আমিও গিয়েছিলাম মাদ্রাসায়। সেখানে যাওয়ার পর হুজুরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু তাকে কোরআন ছুঁয়ে বলতে বলা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।

ওই ছাত্র জানায়, বেলাল হুজুর আরও কয়েক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও সে। তবে ভয় ও লজ্জায় সবাই চুপ থাকে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন জানান, ১৭০ জন ছাত্র পড়াশুনা করে তার মাদ্রাসায়। এর মধ্যে ৩০ জন আবাসিক ছাত্র।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরই বেলালকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে এ অভিযোগের ব্যাপারে বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন