২২ ঘণ্টা পর খুলে দেওয়া হলো মাদ্রাসার তালা
jugantor
২২ ঘণ্টা পর খুলে দেওয়া হলো মাদ্রাসার তালা

  বগুড়া ব্যুরো  

৩১ আগস্ট ২০২১, ০০:৩৩:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের পাশে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সিলগালা অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে তালা খুলে দিলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়।

রেলের জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রোববার বিকালে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা সিলগালা করেছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, জনগণের সহযোগিতায় ১৯৭৪ সালে সান্তাহারে রেলের জমিতে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। দিন দিন মাদ্রাসা সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জায়গাটি লিজ নেওয়ার জন্য রেল বিভাগের কয়েকবার আবেদন করেন। কিন্তু আজও জায়গাটি মাদ্রাসাকে লিজ দেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট বিকালের দিকে রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা সিলগালা করেন।

সোমবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী সরদার স্বপনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম মন্টু, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা, সান্তাহার পৌর কাউন্সিলর আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

বৈঠক থেকে মোবাইল ফোনে রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাদ্রাসার সিলগালা (তালা) খুলে দিতে সম্মত হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লোকজন এসে মূল ফটকের সিলগালা খুলে দেন। এতে সবার মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়।

মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মাওলানা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার পাশে পুকুর ও বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। সেগুলো লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসার জায়গা লিজ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ঘুরেও পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ দুই বছর আগে রেল মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদনটি গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত লিজ অনুমোদন করা হয়নি।

রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান ফোন না ধরায় এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২২ ঘণ্টা পর খুলে দেওয়া হলো মাদ্রাসার তালা

 বগুড়া ব্যুরো 
৩১ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের পাশে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সিলগালা অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে তালা খুলে দিলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়।

রেলের জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রোববার বিকালে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা সিলগালা করেছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, জনগণের সহযোগিতায় ১৯৭৪ সালে সান্তাহারে রেলের জমিতে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। দিন দিন মাদ্রাসা সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জায়গাটি লিজ নেওয়ার জন্য রেল বিভাগের কয়েকবার আবেদন করেন। কিন্তু আজও  জায়গাটি মাদ্রাসাকে লিজ দেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট বিকালের দিকে রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা সিলগালা করেন।

সোমবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী সরদার স্বপনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম মন্টু, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা, সান্তাহার পৌর কাউন্সিলর আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

বৈঠক থেকে মোবাইল ফোনে রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাদ্রাসার সিলগালা (তালা) খুলে দিতে সম্মত হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লোকজন এসে মূল ফটকের সিলগালা খুলে দেন। এতে সবার মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়।

মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মাওলানা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার পাশে পুকুর ও বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। সেগুলো লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসার জায়গা লিজ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ঘুরেও পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ দুই বছর আগে রেল মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদনটি গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত লিজ অনুমোদন করা হয়নি।

রেলের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান ফোন না ধরায় এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন