মেয়রের নামে ফের চাঁদাবাজির মামলা
jugantor
মেয়রের নামে ফের চাঁদাবাজির মামলা

  যশোর ব্যুরো  

৩১ আগস্ট ২০২১, ১৭:৫৭:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনের নামে চাঁদাবাজি, চেক ছিনতাই ও জোরপূর্বক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান শিমুল।

বিচারক গৌতম কুমার মল্লিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী সঞ্জীব কুমার সরকার।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কেশবপুর উপজেলার মধ্যকূল গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজীব খান, আবদুল লতিফের ছেলে জুয়েল হোসেন, গনি শেখের ছেলে জামাল শেখ, নজরুল ইসলামের ছেলে বাপ্পী, আবদুল আজিজ মোড়লের ছেলে মাহাবুবুর রহমান জুয়েল, একই উপজেলার ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের রহিম মোড়লের ছেলে আরিফুর রহমান ও সামছুদ্দিন মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ তিনজনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ডিস (ক্যাবল) ব্যবসায়ী খন্দকার মফিদুল ইসলাম। এই মামলার পর গত ২৮ আগস্ট যশোর প্রেসক্লাব মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র রফিকুল ইসলাম সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে শান্তিপ্রিয় মানুষ দাবি করেন।

মেয়রের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলার বিষয়ে জানা যায়, বাদী মিজানুর রহমানের কেশবপুর বাজারে ‘আল্লাহর দান’ নামে ফার্মেসি রয়েছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে কেশবপুর বাজারে ব্যবসা বন্ধ করা এবং খুনের হুমকি দেয়।

কিন্তু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান হুমকি উপেক্ষা করে তার ব্যবসা চালু রাখলে আসামি রাজীব খান দুই লাখ টাকা নিয়ে মেয়র রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। ব্যবসায়ী মিজানুররফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা না করায় এবং দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। গত ২৫ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফার্মেসিতে হামলা চালায় রাজীব খান, জুয়েল হোসেন, জামাল শেখ ও বাপ্পী। তারা মিজানুরকে পিটিয়ে ক্যাশবক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

মাহাবুবুর রহমান জুয়েল ফার্মেসির ড্রয়ারে থাকা সোনালী ব্যাংক কেশবপুর শাখার চেক বইয়ের তিনটি ফাঁকা চেক (অলিখিত) জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। তিনি ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চাবি কেড়ে নেন। এছাড়া জুয়েল বাদীর গলায় রামদা ধরে তিনটি একশ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ সময় বাদীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা বাদীর মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা চাঁদার ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে, বাকি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল, ব্ল্যাঙ্ক চেক ও নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ফেরত আনার দম্ভোক্তি করে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মিজানুর রহমান শিমুল বলেন, আসামিরা কেশবপুর থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ত্রাস সৃষ্টিকারী। আসামি রফিকুল ইসলাম তাদের গডফাদার। তার হুকুম এবং নেতৃত্বে সমস্ত অপকর্ম সংগঠিত হয়।

মামলার বিষয়ে মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদীকে আমি চিনি না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

মেয়রের নামে ফের চাঁদাবাজির মামলা

 যশোর ব্যুরো 
৩১ আগস্ট ২০২১, ০৫:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম
কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনের নামে চাঁদাবাজি, চেক ছিনতাই ও জোরপূর্বক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান শিমুল।

বিচারক গৌতম কুমার মল্লিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী সঞ্জীব কুমার সরকার।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কেশবপুর উপজেলার মধ্যকূল গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজীব খান, আবদুল লতিফের ছেলে জুয়েল হোসেন, গনি শেখের ছেলে জামাল শেখ, নজরুল ইসলামের ছেলে বাপ্পী, আবদুল আজিজ মোড়লের ছেলে মাহাবুবুর রহমান জুয়েল, একই উপজেলার ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের রহিম মোড়লের ছেলে আরিফুর রহমান ও সামছুদ্দিন মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ তিনজনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ডিস (ক্যাবল) ব্যবসায়ী খন্দকার মফিদুল ইসলাম। এই মামলার পর গত ২৮ আগস্ট যশোর প্রেসক্লাব মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র রফিকুল ইসলাম সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে শান্তিপ্রিয় মানুষ দাবি করেন।

মেয়রের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলার বিষয়ে জানা যায়, বাদী মিজানুর রহমানের কেশবপুর বাজারে ‘আল্লাহর দান’ নামে ফার্মেসি রয়েছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে কেশবপুর বাজারে ব্যবসা বন্ধ করা এবং খুনের হুমকি দেয়।

কিন্তু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান হুমকি উপেক্ষা করে তার ব্যবসা চালু রাখলে আসামি রাজীব খান দুই লাখ টাকা নিয়ে মেয়র রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। ব্যবসায়ী মিজানুর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা না করায় এবং দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। গত ২৫ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফার্মেসিতে হামলা চালায় রাজীব খান, জুয়েল হোসেন, জামাল শেখ ও বাপ্পী। তারা মিজানুরকে পিটিয়ে ক্যাশবক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

মাহাবুবুর রহমান জুয়েল ফার্মেসির ড্রয়ারে থাকা সোনালী ব্যাংক কেশবপুর শাখার চেক বইয়ের তিনটি ফাঁকা চেক (অলিখিত) জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। তিনি ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চাবি কেড়ে নেন। এছাড়া জুয়েল বাদীর গলায় রামদা ধরে তিনটি একশ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ সময় বাদীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা বাদীর মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা চাঁদার ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে, বাকি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল, ব্ল্যাঙ্ক চেক ও নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ফেরত আনার দম্ভোক্তি করে। 

এ বিষয়ে মামলার বাদী মিজানুর রহমান শিমুল বলেন, আসামিরা কেশবপুর থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ত্রাস সৃষ্টিকারী। আসামি রফিকুল ইসলাম তাদের গডফাদার। তার হুকুম এবং নেতৃত্বে সমস্ত অপকর্ম সংগঠিত হয়।

মামলার বিষয়ে মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদীকে আমি চিনি না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন