জামায়াত নেতার হাতে যুবলীগ কর্মী খুন
jugantor
জামায়াত নেতার হাতে যুবলীগ কর্মী খুন

  নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

৩১ আগস্ট ২০২১, ২২:১০:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম ও তার লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী কামাল হোসেন (৩৮)।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আমড়াখাই গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত কামাল ওই গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে। তার লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে মামুন মিয়াকে (৪০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ এবং অন্যান্য আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষের আহতদের গ্রেফতার এড়াতে প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের তার চাচাতো ভাই মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে বদরুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষে মামলাও রয়েছে।

গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা বদরুল স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, তার ছেলে ছাত্রশিবির কর্মী রফিকুল ইসলামসহ একদল লোক যুবলীগ কর্মী বদরুলকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

এ ঘটনায় বদরুল ইসলাম বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় ৩ জন আদালতের মাধ্যমে জামিনে আসছেন।

এদিকে নবীগঞ্জ থানার ওসি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয়পক্ষকে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বিসহ থানায় ডেকে আনেন। বদরুল থানায় হাজির হলেও হাজির হননি ওই জামায়াত নেতা নজরুল। পরে যুবলীগ নেতা বদরুলের জমি নজরুল জবরদখলের পাঁয়তারা করলে নবীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশের এসআই অঞ্জন দেব বদরুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে বিরোধীয় জমিতে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

নোটিশ প্রাপ্তির দুই দিনের মাথায় শুক্রবার গভীর রাতে ওই জামায়াত নেতা তার ভাড়াটিয়া দলবল নিয়ে বদরুলের জমিতে হাল চাষ করে জবরদখল করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নজরুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে বদরুল মিয়া গংরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত বদরুল মিয়ার চাচাতো ভাই কামাল হোসেনকে (৩৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত মামুন মিয়াকে (৪০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্য আহত যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম (২৮), মোস্তাকিম মিয়া (২৯) ও বদরুল মিয়াকে (২৪) প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নজরুল মিয়ার পক্ষের লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদ বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

জামায়াত নেতার হাতে যুবলীগ কর্মী খুন

 নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
৩১ আগস্ট ২০২১, ১০:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম ও তার লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী কামাল হোসেন (৩৮)।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আমড়াখাই গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত কামাল ওই গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে। তার লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে মামুন মিয়াকে (৪০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ এবং অন্যান্য আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষের আহতদের গ্রেফতার এড়াতে প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের আমড়াখাই গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের তার চাচাতো ভাই মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে বদরুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষে মামলাও রয়েছে।

গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা বদরুল স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, তার ছেলে ছাত্রশিবির কর্মী রফিকুল ইসলামসহ একদল লোক যুবলীগ কর্মী বদরুলকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

এ ঘটনায় বদরুল ইসলাম বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় ৩ জন আদালতের মাধ্যমে জামিনে আসছেন।

এদিকে নবীগঞ্জ থানার ওসি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয়পক্ষকে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বিসহ থানায় ডেকে আনেন। বদরুল থানায় হাজির হলেও হাজির হননি ওই জামায়াত নেতা নজরুল। পরে যুবলীগ নেতা বদরুলের জমি নজরুল জবরদখলের পাঁয়তারা করলে নবীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশের এসআই অঞ্জন দেব বদরুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে বিরোধীয় জমিতে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

নোটিশ প্রাপ্তির দুই দিনের মাথায় শুক্রবার গভীর রাতে ওই জামায়াত নেতা তার ভাড়াটিয়া দলবল নিয়ে বদরুলের জমিতে হাল চাষ করে জবরদখল করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নজরুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে বদরুল মিয়া গংরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত বদরুল মিয়ার চাচাতো ভাই কামাল হোসেনকে (৩৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত মামুন মিয়াকে (৪০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্য আহত যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম (২৮), মোস্তাকিম মিয়া (২৯) ও বদরুল মিয়াকে (২৪) প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নজরুল মিয়ার পক্ষের লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদ বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন