নৌকার পক্ষে মঞ্চ কাঁপানো নেতাকে যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর প্রস্তাব!
jugantor
নৌকার পক্ষে মঞ্চ কাঁপানো নেতাকে যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর প্রস্তাব!

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:০৭:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার চান্দিনায় আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের পক্ষে মঞ্চ কাঁপানো এক নেতাকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৩১ সদস্যবিশিষ্ট চান্দিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের জন্য একাধিক গ্রুপ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

এর মধ্যে প্রস্তাবিত একটি কমিটিতে সাইফুল ইসলাম খোকন নামে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কিত ওই ব্যক্তিকে আহ্বায়ক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খবর চান্দিনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছলে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে বিতর্কিত ওই নেতাকে বাদ দিয়ে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করলেও রহস্যজনক কারণে তা কৌশলে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরই মাঝে উপজেলার পদপ্রত্যাশী এবং নেতাকর্মীদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে আলোচনাও করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের জীবন বৃত্তান্তও গ্রহণ করে। প্রায় এক বছর পূর্ণ হলো এসব আনুষ্ঠানিকতার।

নেতাকর্মীরা জানান, চান্দিনায় বিএনপি দুটি ভাগে বিভক্ত। তাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চলছে দুটি গ্রুপের স্নায়ুযুদ্ধ। এখানে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন বশির। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম।

আতিকুল আলম গ্রুপ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে আওয়ামী লীগের মঞ্চ কাঁপানো সাইফুল ইসলাম খোকনের নাম প্রস্তাব করেছে। অপরপক্ষে মফিজ গ্রুপ থেকে আহ্বায়ক প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুজ্জামান শরীফের নাম।

তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আহ্বায়ক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম খোকন সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে দলের অনেক ক্ষতি করেছেন। তিনি প্রায়ই আওয়ামী লীগের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রের উপস্থিতিতে সরকারের গুণকীর্তন করেন। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নৌকার মঞ্চে উঠে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চান। তার বক্তব্যের এমন ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। এই ভিডিও দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি নিয়ে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চান্দিনার নেতাকর্মীরা। এ সময় তিনি তাকে বাদ দিয়ে কমিটি করার নির্দেশনা দেন বলেও জানান নেতাকর্মীরা।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে জেলা যুবদল ও কেন্দ্রীয় যুবদলের কুমিল্লা বিভাগীয় টিম সেই খোকনকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় দপ্তর এ কমিটি জমা দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, আমি দলের একজন ত্যাগী নেতা, দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ ও শ্রম রয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো আঁতাত নেই, দলের অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা বিভাগীয় টিম প্রধান জাকির হোসেন সিদ্দিকী জানান, আমরা চান্দিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রে জমা দিয়েছি, কিন্তু অনুমোদন দিবে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রীয় কমিটি সব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই হয়তো কমিটি দিতে পারে।

খোকনের এমন ভিডিও থাকার পরেও তার নাম প্রস্তাব করে কীভাবে জমা দেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

কেন্দ্রীয় যুবদলের কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সভাপতি ভিপি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে দলের ক্ষতি সাধনে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে খোকন কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে পারবে না।

চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী কাজী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, খোকন যে কাজ করেছে এতে তো তার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পদও থাকার কথা না, সেখানে নতুন পদ পাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। সারাদেশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি তো এমনি হয়।

নৌকার পক্ষে মঞ্চ কাঁপানো নেতাকে যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর প্রস্তাব!

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লার চান্দিনায় আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের পক্ষে মঞ্চ কাঁপানো এক নেতাকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৩১ সদস্যবিশিষ্ট চান্দিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের জন্য একাধিক গ্রুপ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

এর মধ্যে প্রস্তাবিত একটি কমিটিতে সাইফুল ইসলাম খোকন নামে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কিত ওই ব্যক্তিকে আহ্বায়ক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খবর চান্দিনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছলে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে বিতর্কিত ওই নেতাকে বাদ দিয়ে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করলেও রহস্যজনক কারণে তা কৌশলে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরই মাঝে উপজেলার পদপ্রত্যাশী এবং নেতাকর্মীদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে আলোচনাও করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের জীবন বৃত্তান্তও গ্রহণ করে। প্রায় এক বছর পূর্ণ হলো এসব আনুষ্ঠানিকতার।

নেতাকর্মীরা জানান, চান্দিনায় বিএনপি দুটি ভাগে বিভক্ত। তাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চলছে দুটি গ্রুপের স্নায়ুযুদ্ধ। এখানে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন বশির। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম।

আতিকুল আলম গ্রুপ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে আওয়ামী লীগের মঞ্চ কাঁপানো সাইফুল ইসলাম খোকনের নাম প্রস্তাব করেছে। অপরপক্ষে মফিজ গ্রুপ থেকে আহ্বায়ক প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুজ্জামান শরীফের নাম।

তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আহ্বায়ক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম খোকন সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে দলের অনেক ক্ষতি করেছেন। তিনি প্রায়ই আওয়ামী লীগের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রের উপস্থিতিতে সরকারের গুণকীর্তন করেন। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নৌকার মঞ্চে উঠে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চান। তার বক্তব্যের এমন ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। এই ভিডিও দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি নিয়ে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চান্দিনার নেতাকর্মীরা। এ সময় তিনি তাকে বাদ দিয়ে কমিটি করার নির্দেশনা দেন বলেও জানান নেতাকর্মীরা।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে জেলা যুবদল ও কেন্দ্রীয় যুবদলের কুমিল্লা বিভাগীয় টিম সেই খোকনকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় দপ্তর এ কমিটি জমা দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, আমি দলের একজন ত্যাগী নেতা, দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ ও শ্রম রয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো আঁতাত নেই, দলের অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা বিভাগীয় টিম প্রধান জাকির হোসেন সিদ্দিকী জানান, আমরা চান্দিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রে জমা দিয়েছি, কিন্তু অনুমোদন দিবে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রীয় কমিটি সব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই হয়তো কমিটি দিতে পারে।

খোকনের এমন ভিডিও থাকার পরেও তার নাম প্রস্তাব করে কীভাবে জমা দেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। 

কেন্দ্রীয় যুবদলের কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সভাপতি ভিপি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে দলের ক্ষতি সাধনে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে খোকন কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে পারবে না।

চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী কাজী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, খোকন যে কাজ করেছে এতে তো তার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পদও থাকার কথা না, সেখানে নতুন পদ পাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। সারাদেশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি তো এমনি হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন