বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
jugantor
বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

  কুড়িগ্রাম ও রৌমারী প্রতিনিধি  

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৭:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা সীমান্তে গরু পারাপার করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে সহিবর রহমান (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার মধ্যরাত ২টার দিকে উপজেলার খেতারচর গ্রামের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৫৪-৭-টি এর কাছে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় নিহতের মা ছকিরন বেওয়া বিএসএফের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যার অভিযোগ এনে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, সহিবর রহমান মাঝরাতে ১০৫৪ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছ দিয়ে সঙ্গীদের সঙ্গে গরু পারাপার করছিলেন। এ সময় ভারতীয় দ্বীপচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা টের পেয়ে তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সহিবুর রহমান।

পরে শনিবার সকালে পুলিশ তার লাশ সুরতহাল শেষে দুপুরে রৌমারী থানায় নিয়ে যায়। তিনি একই ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের ইরাজ উদ্দিনের পূত্র। তিনি কাউনিয়রচরে শ্বশুর বশির উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করতেন। স্ত্রী লিপি বেগমসহ তার ২ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

তবে নিহতের মা ছকিরন বেওয়া দাবি করেছেন, তার ছেলে কৃষিশ্রমিক। শনিবার ভোররাতে জিঞ্জিরাম নদীতে কয়েকজন মিলে মাছ ধরতে যায়। সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় বিএসএফ অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি করে হত্যা করে। তিনি এ হত্যার বিচার দাবি করেন।

কুড়িগ্রাম-৩৫ জামালপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মুনতাসির মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় অফিস স্টাফ হাবিলদার মুকিতের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। হাবিলদার মুকিত স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানান, বিএসএফের গুলিতে সহিবর নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি রৌমারী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা বিওপির কমান্ডার জয়েন উদ্দিন জানান, রাত ২টার দিকে ওই সীমান্তে কয়েক রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে একটি টহল দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। কিন্তু ওই সময় বিএসএফ বা হতাহতের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত থেকে ৫০-৬০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লাশ পড়ে আছে।

রৌমারী থানার এসআই আনোয়ারুল কবীর জানান, বিজিবির কাছে খবর পেয়ে শনিবার সকাল ৯টায় দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর থেকে সহিবুর রহমানের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। সীমান্ত থেকে ৫০-৬০ গজ দূরে জিঞ্জিরাম নদীতে লাশটি পড়েছিল। পরে স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। লাশের বুকের বামপাশে একটি গুলিবিদ্ধের চিহ্ন রয়েছে। লাশ সুরতহালের পর দুপুর ১২টায় রৌমারী থানায় আনা হয়।

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

 কুড়িগ্রাম ও রৌমারী প্রতিনিধি 
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা সীমান্তে গরু পারাপার করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে সহিবর রহমান (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। 

শনিবার মধ্যরাত ২টার দিকে উপজেলার খেতারচর গ্রামের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৫৪-৭-টি এর কাছে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় নিহতের মা ছকিরন বেওয়া বিএসএফের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যার অভিযোগ এনে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। 

ওই এলাকার ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, সহিবর রহমান মাঝরাতে ১০৫৪ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছ দিয়ে সঙ্গীদের সঙ্গে গরু পারাপার করছিলেন। এ সময় ভারতীয় দ্বীপচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা টের পেয়ে তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সহিবুর রহমান। 

পরে শনিবার সকালে পুলিশ তার লাশ সুরতহাল শেষে দুপুরে রৌমারী থানায় নিয়ে যায়। তিনি একই ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের ইরাজ উদ্দিনের পূত্র। তিনি কাউনিয়রচরে শ্বশুর বশির উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করতেন। স্ত্রী লিপি বেগমসহ তার ২ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। 

তবে নিহতের মা ছকিরন বেওয়া দাবি করেছেন, তার ছেলে কৃষিশ্রমিক। শনিবার ভোররাতে জিঞ্জিরাম নদীতে কয়েকজন মিলে মাছ ধরতে যায়। সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় বিএসএফ অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি করে হত্যা করে। তিনি এ হত্যার বিচার দাবি করেন।

কুড়িগ্রাম-৩৫ জামালপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মুনতাসির মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় অফিস স্টাফ হাবিলদার মুকিতের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। হাবিলদার মুকিত স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানান, বিএসএফের গুলিতে সহিবর নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি রৌমারী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। 

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা বিওপির কমান্ডার জয়েন উদ্দিন জানান, রাত ২টার দিকে ওই সীমান্তে কয়েক রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে একটি টহল দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। কিন্তু ওই সময় বিএসএফ বা হতাহতের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত থেকে ৫০-৬০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লাশ পড়ে আছে।

রৌমারী থানার এসআই আনোয়ারুল কবীর জানান, বিজিবির কাছে খবর পেয়ে শনিবার সকাল ৯টায় দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর থেকে সহিবুর রহমানের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। সীমান্ত থেকে ৫০-৬০ গজ দূরে জিঞ্জিরাম নদীতে লাশটি পড়েছিল। পরে স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। লাশের বুকের বামপাশে একটি গুলিবিদ্ধের চিহ্ন রয়েছে। লাশ সুরতহালের পর দুপুর ১২টায় রৌমারী থানায় আনা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন