অফিস না করে বাড়িতে বসেই বেতন নেন ইউপি সচিব শিমু
jugantor
অফিস না করে বাড়িতে বসেই বেতন নেন ইউপি সচিব শিমু

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪৬:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যথারীতি অফিস করলেও অফিস করছেন না উপজেলার ৪নং যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শারমিন ইসলাম শিমু।

ফলে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ইউনিয়নবাসী। অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড হচ্ছে ব্যাহত। তিনি বাড়িতে বসে থেকেই প্রতি মাসে সঠিক সময়ে বেতন তুলে নিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাগজপত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলেও তিনি অফিসে আসেন না।

নিরুপায় হয়ে ওই সব কাগজপত্র স্বাক্ষরের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ওই সচিবের বাড়িতে চৌকিদার দফাদার পাঠিয়ে দেন স্বাক্ষর করার জন্য। এরপরও তিনি স্বাক্ষর করেন তার মর্জিমাফিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই চৌকিদার দফাদারদের বাড়ির বাইরে বসিয়ে রাখেন।

তিনি স্বাক্ষর করলে আবার তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর ওই কাগজপত্র ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জনগণের কাছে বিতরণ করা হয়। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ৪নং যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

শনিবার সরেজমিন জানা যায়, যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সচিব শারমিন ইসলাম শিমু ২০১৭ সালের ১১ জুলাই যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি পরিষদে বেশিরভাগ সময়ই অনুপস্থিত থাকেন। কোনো মাসে মন চাইলে আসেন, আবার কোনো মাসে তিনি আসেনই না।

পরিষদে জন্মনিবন্ধন, সিটিজেন সার্টিফিকেট, বিধবার কার্ড, বয়স্ক ভাতার কার্ড, গর্ভবতী নারীদের কার্ডসহ নানা কার্ডে স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী ইসহাকের কাছে গিয়ে ভিড় জমান।

ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে সব কাগজপত্র গ্রামপুলিশ বা নিজের ব্যক্তিগত লোকজন দিয়ে সচিবের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ইসহাক বলেন, আমার কোনো কথারই কর্ণপাত করেন না ওই সচিব শারমিন ইসলাম শিমু। ঢাকা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করার পরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তিনি এখনো বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। অফিস না করে সরকারি বেতন ঠিকই উত্তোলন করছেন।

এ বিষয়ে সচিব শারমিন ইসলাম শিমু বলেন, পরিষদের কোনো কাজ পেন্ডিং আছে বলে আমার মনে হয় না। যেখানেই থাকি না কেন, কাজ আমি ফেলে রাখি না। তবে বাড়ি থেকে কাগজপত্র স্বাক্ষর করে নিয়ে আসার কথা বললে তিনি বলেন, এতে আপনার সমস্যা কোথায়। যেভাবেই হোক জনগণ সেবা তো পাচ্ছে নাকি।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আমি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।

অফিস না করে বাড়িতে বসেই বেতন নেন ইউপি সচিব শিমু

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যথারীতি অফিস করলেও অফিস করছেন না উপজেলার ৪নং যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শারমিন ইসলাম শিমু। 

ফলে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ইউনিয়নবাসী। অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড হচ্ছে ব্যাহত। তিনি বাড়িতে বসে থেকেই প্রতি মাসে সঠিক সময়ে বেতন তুলে নিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাগজপত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলেও তিনি অফিসে আসেন না।

নিরুপায় হয়ে ওই সব কাগজপত্র স্বাক্ষরের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ওই সচিবের বাড়িতে চৌকিদার দফাদার পাঠিয়ে দেন স্বাক্ষর করার জন্য। এরপরও তিনি স্বাক্ষর করেন তার মর্জিমাফিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই চৌকিদার দফাদারদের বাড়ির বাইরে বসিয়ে রাখেন।

তিনি স্বাক্ষর করলে আবার তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর ওই কাগজপত্র ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জনগণের কাছে বিতরণ করা হয়। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ৪নং যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

শনিবার সরেজমিন জানা যায়, যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সচিব শারমিন ইসলাম শিমু ২০১৭ সালের ১১ জুলাই যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি পরিষদে বেশিরভাগ সময়ই অনুপস্থিত থাকেন। কোনো মাসে মন চাইলে আসেন, আবার কোনো মাসে তিনি আসেনই না। 

পরিষদে জন্মনিবন্ধন, সিটিজেন সার্টিফিকেট, বিধবার কার্ড, বয়স্ক ভাতার কার্ড, গর্ভবতী নারীদের কার্ডসহ নানা কার্ডে স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী ইসহাকের কাছে গিয়ে ভিড় জমান।

ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে সব কাগজপত্র গ্রামপুলিশ বা নিজের ব্যক্তিগত লোকজন দিয়ে সচিবের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ইসহাক বলেন, আমার কোনো কথারই কর্ণপাত করেন না ওই সচিব শারমিন ইসলাম শিমু। ঢাকা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করার পরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তিনি এখনো বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। অফিস না করে সরকারি বেতন ঠিকই উত্তোলন করছেন।

এ বিষয়ে সচিব শারমিন ইসলাম শিমু বলেন, পরিষদের কোনো কাজ পেন্ডিং আছে বলে আমার মনে হয় না। যেখানেই থাকি না কেন, কাজ আমি ফেলে রাখি না। তবে বাড়ি থেকে কাগজপত্র স্বাক্ষর করে নিয়ে আসার কথা বললে তিনি বলেন, এতে আপনার সমস্যা কোথায়। যেভাবেই হোক জনগণ সেবা তো পাচ্ছে নাকি।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আমি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন