কক্ষে ঢুকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের কিল ঘুসি লাথি
jugantor
কক্ষে ঢুকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের কিল ঘুসি লাথি

  পাবনা প্রতিনিধি  

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:১৮:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

মোখলেসুর রহমান নয়ন

পাবনায় গণপূর্ত অফিসে ঠিকাদারদের অস্ত্রের মহড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে কিল ঘুসি ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনা গণপূর্ত ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার রাতে পাবনা থানায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিত প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার।

জানা গেছে, বিষয়টি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে এবং রাত ১০টার পর মীমাংসা না হওয়ায় মিডিয়াসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার নূর কনস্ট্রাকশনের মালিক মোখলেসুর রহমান নয়ন (৪৫) নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের কক্ষে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে কথা বলতে আসেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী তার কক্ষে ছিলেন না।

আব্দুস সাত্তার ঠিকাদার নয়নকে নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ঠিকাদার প্রকৌশলীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে কিল ঘুসি ও লাথি মারতে শুরু করেন। আব্দুস সাত্তারের চিৎকারে অফিসের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে করতে ঠিকাদার নয়ন অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৭টার দিকে ঠিকাদার নয়নের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ করেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঠিকাদার নয়নকে তার অসমাপ্ত কিছু কাজ নিয়ম মাফিক শেষ করতে বলি। এ সময় হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি মারপিট শুরু করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। নিজ অফিসে এমন অপমানিত হবো কখনো কল্পনাও করিনি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে প্রকৌশলীকে মারপিটের এই ঘটনাটি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত মীমাংসা না হওয়ায় রাতে মিডিয়াসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম জানান, প্রকৌশলী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাবনা সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগের আলোকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঠিকাদারের হাতে প্রকৌশলীকে মারপিটের ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, এর আগেও ঠিকাদাররা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে শাসিয়েছে। ঠিকাদাররা কাজ নেবেন। কাজ না করলে বললেই যদি আমাদের অপরাধ হয় তাহলে বলার কিছুই থাকে না। এগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, অনেক ঠিকাদারের সঙ্গেই আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। তাই বলে মারধর করবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আব্দুস সাত্তারকে মারপিটের কথা শুনেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোখছেদুল আলম নয়নের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া শহরের ছাতিয়ানি এলাকায় তার বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ জুন ঠিকাদারি কাজের অজুহাতে আওয়ামী লীগ নেতা এ আর খান মামুন ও যুবলীগ নেতা শেখ লালু তাদের বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিন মাসের মাথায় আবারও এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতংক আর উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।

কক্ষে ঢুকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের কিল ঘুসি লাথি

 পাবনা প্রতিনিধি 
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মোখলেসুর রহমান নয়ন
মোখলেসুর রহমান নয়ন

পাবনায় গণপূর্ত অফিসে ঠিকাদারদের অস্ত্রের মহড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে কিল ঘুসি ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনা গণপূর্ত ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার রাতে পাবনা থানায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিত প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার।

জানা গেছে, বিষয়টি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে এবং রাত ১০টার পর মীমাংসা না হওয়ায় মিডিয়াসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার নূর কনস্ট্রাকশনের মালিক মোখলেসুর রহমান নয়ন (৪৫) নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের কক্ষে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে কথা বলতে আসেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী তার কক্ষে ছিলেন না।

আব্দুস সাত্তার ঠিকাদার নয়নকে নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ঠিকাদার প্রকৌশলীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে কিল ঘুসি ও লাথি মারতে শুরু করেন। আব্দুস সাত্তারের চিৎকারে অফিসের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে করতে ঠিকাদার নয়ন অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৭টার দিকে ঠিকাদার নয়নের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ করেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঠিকাদার নয়নকে তার অসমাপ্ত কিছু কাজ নিয়ম মাফিক শেষ করতে বলি। এ সময় হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি মারপিট শুরু করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। নিজ অফিসে এমন অপমানিত হবো কখনো কল্পনাও করিনি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে প্রকৌশলীকে মারপিটের এই ঘটনাটি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত মীমাংসা না হওয়ায় রাতে মিডিয়াসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম জানান, প্রকৌশলী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাবনা সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগের আলোকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঠিকাদারের হাতে প্রকৌশলীকে মারপিটের ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, এর আগেও ঠিকাদাররা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে শাসিয়েছে। ঠিকাদাররা কাজ নেবেন। কাজ না করলে বললেই যদি আমাদের অপরাধ হয় তাহলে বলার কিছুই থাকে না। এগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, অনেক ঠিকাদারের সঙ্গেই আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। তাই বলে মারধর করবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আব্দুস সাত্তারকে মারপিটের কথা শুনেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোখছেদুল আলম নয়নের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া শহরের ছাতিয়ানি এলাকায় তার বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ জুন ঠিকাদারি কাজের অজুহাতে আওয়ামী লীগ নেতা এ আর খান মামুন ও যুবলীগ নেতা শেখ লালু তাদের বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিন মাসের মাথায় আবারও এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতংক আর উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন