এক যুগ ধরে শিকলবন্দি সাঈদ
jugantor
এক যুগ ধরে শিকলবন্দি সাঈদ

  কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৬:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় প্রায় এক যুগ ধরে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে আবু সাঈদ (২৫) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে। মুক্ত থাকলে হারানোর ভয় ও অন্যের ক্ষতি করতে পারেন, এমন আশংকায় সাঈদকে এভাবে বন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা।

সাঈদ উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের মধুকুড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।

সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুকাল থেকেই সাঈদ কিছুটা হাবাগোবা ছিল। সে হাবাগোবা হলেও নিয়মিত স্কুলে যেত। আর তার বাবা বাবুল মিয়াকেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতো। এভাবেই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছিল সাঈদ। তার বয়স যখন ১৩ তখন হঠাৎ করেই সাঈদের মধ্যে মানসিক কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়।

সাঈদের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এতে তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাঝেমধ্যেইসে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পর আবারো বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর সাঈদলোকজনকে মারধর শুরু করলে তারপায়ে শিকল বেঁধে বন্দি করে রাখা হয়।

সাঈদকে রাতে বাড়ির বারান্দায় এবং সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানেই খাবার দেওয়া হয় তাকে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে সাঈদের শিকলবন্দী জীবন।

সাঈদের বাবা বাবুল মিয়া (৫৫) যুগান্তরকে বলেন, স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় আবু সাঈদ। বড় মেয়ের বয়স যখন ১৩ ঠিক তখনই তাকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া গ্রামের রব্বানী নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় সে সময় কাবিননামা করা সম্ভব হয়নি। বিয়ের দুই বছর যেতে না যেতেই একটি শিশু সন্তানসহ মেয়েটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমি শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। একদিকে সংসার, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ। অল্প কিছু জমি ছিল তা পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে চিকিৎসা ও সংসার খরচ চালাচ্ছি। কিন্তু তা দিয়ে আর কতদিন, এই অবস্থায় আর্থিক সংকটের কারণে ছেলে সাঈদ ও আমার চিকিৎসা বন্ধ রেখেছি।

ভুক্তভোগী এই পিতাবলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার মহোদয়ের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছি। এদিকে ঘরের অবস্থাও নাজুক। অল্প বৃষ্টিতেই ঘর পানিতে ভেসে যায়। একটি সরকারি ঘরের জন্য এমপি মহোদয়েরসুপারিশসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে বার বার যোগাযোগ করেছি। কিন্তুভাগ্যে ঘর জোটেনি। আমি ভাঙা ঘরে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অতি কষ্টেএভাবেই দিন পার করছি।

সাঈদের মা সেলিনা খাতুন (৪৩) যুগান্তরকে বলেন, আমরা গরীব বিধায় ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে চোখের সামনেই প্রতিনিয়ত সাঈদের বন্দিদশা দেখতে হচ্ছে ।

বিষয়টি অবহিত করলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা বলেন, সাঈদের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে তার সুচিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক যুগ ধরে শিকলবন্দি সাঈদ

 কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় প্রায় এক যুগ ধরে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে আবু সাঈদ (২৫) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে। মুক্ত থাকলে হারানোর ভয় ও অন্যের ক্ষতি করতে পারেন, এমন আশংকায় সাঈদকে এভাবে বন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা। 

সাঈদ উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের মধুকুড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।

সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুকাল থেকেই সাঈদ কিছুটা হাবাগোবা ছিল। সে হাবাগোবা হলেও নিয়মিত স্কুলে যেত। আর তার বাবা বাবুল মিয়াকেও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতো। এভাবেই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছিল সাঈদ। তার বয়স যখন ১৩ তখন হঠাৎ করেই সাঈদের মধ্যে মানসিক কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। 

সাঈদের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এতে তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাঝেমধ্যেই সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পর আবারো বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর সাঈদ লোকজনকে মারধর শুরু করলে তার পায়ে শিকল বেঁধে বন্দি করে রাখা হয়।  

সাঈদকে রাতে বাড়ির বারান্দায় এবং সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানেই খাবার দেওয়া হয় তাকে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে সাঈদের শিকলবন্দী জীবন।

সাঈদের বাবা বাবুল মিয়া (৫৫) যুগান্তরকে বলেন,  স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় আবু সাঈদ। বড় মেয়ের বয়স যখন ১৩ ঠিক তখনই তাকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া গ্রামের রব্বানী নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ায় সে সময় কাবিননামা করা সম্ভব হয়নি। বিয়ের দুই বছর যেতে না যেতেই একটি শিশু সন্তানসহ মেয়েটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমি শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। একদিকে সংসার, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ। অল্প কিছু জমি ছিল তা পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে চিকিৎসা ও সংসার খরচ চালাচ্ছি। কিন্তু তা দিয়ে আর কতদিন, এই অবস্থায় আর্থিক সংকটের কারণে ছেলে সাঈদ ও আমার চিকিৎসা বন্ধ রেখেছি। 

ভুক্তভোগী এই পিতা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার মহোদয়ের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছি। এদিকে ঘরের অবস্থাও নাজুক। অল্প বৃষ্টিতেই ঘর পানিতে ভেসে যায়। একটি সরকারি ঘরের জন্য এমপি মহোদয়ের সুপারিশসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে বার বার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু ভাগ্যে ঘর জোটেনি। আমি ভাঙা ঘরে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অতি কষ্টে এভাবেই দিন পার করছি।  

সাঈদের মা সেলিনা খাতুন (৪৩) যুগান্তরকে বলেন, আমরা গরীব বিধায় ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে চোখের সামনেই প্রতিনিয়ত সাঈদের বন্দিদশা দেখতে হচ্ছে ।
 
 বিষয়টি অবহিত করলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা বলেন, সাঈদের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে তার সুচিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন