গৃহবধূকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার অভিযোগ মেম্বরের বিরুদ্ধে
jugantor
গৃহবধূকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার অভিযোগ মেম্বরের বিরুদ্ধে

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৩৯:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরের এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতনে গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী নারী মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বকুল মিয়াকে আসামি করে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নং-১-এ মামলা করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা জানান, পাঁচ মাস আগে মীরপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম রিংকুর সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। রিংকু অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর খোঁজখবর না নেওয়ায় ও ভরণপোষণ না দেওয়ার কারণে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিল তার মেয়ে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বকুল মিয়া সরকারি গর্ভবতীদের জন্য রেশন কার্ড দেওয়া ও মাটি কাটার চাকরির লোভ দেখিয়ে দুই দফায় তার কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

ওই গৃহবধূর মা আরও জানান, গত ১৮ আগস্ট গর্ভবতী নারীদের জন্য কার্ড দেওয়ার কথা বলে বকুল মিয়া নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় গত ২৪ আগস্ট তার মেয়ে বাদী হয়ে বকুল মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নং-১-এ মামলা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক কিরণ শংকর রায় ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এটি একটি ফাঁসি কিংবা যাবজ্জীবন সাজাযোগ্য গুরুতর অপরাধ।

এদিকে এ মামলার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩১ আগস্ট রাতে ওই নারীকে মারধর করার সময় পেটে সজোরে লাথি দিলে গুরুতর আহত এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণের শিকার হন তিনি। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই নির্যাতিতা নারী একটি মৃত শিশু প্রসব করেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডা. মো. হেলাল উদ্দিন চিকিৎসাধীন ওই নারীর রক্তপাত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, নির্যাতনের ফলেই তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে কিনা।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা জানান, চিকিৎসা সনদ হাতে পাওয়ার পর গর্ভের শিশু হত্যার অপরাধেও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মূল অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বকুল মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে রিং করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রেফতার এড়াতে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার পরিদর্শক রমিজুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত শেষ হলেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গৃহবধূকে ধর্ষণ, গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার অভিযোগ মেম্বরের বিরুদ্ধে

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরের এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতনে গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী নারী মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বকুল মিয়াকে আসামি করে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নং-১-এ মামলা করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা জানান, পাঁচ মাস আগে মীরপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম রিংকুর সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। রিংকু অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর খোঁজখবর না নেওয়ায় ও ভরণপোষণ না দেওয়ার কারণে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিল তার মেয়ে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বকুল মিয়া সরকারি গর্ভবতীদের জন্য রেশন কার্ড দেওয়া ও মাটি কাটার চাকরির লোভ দেখিয়ে দুই দফায় তার কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

ওই গৃহবধূর মা আরও জানান, গত ১৮ আগস্ট গর্ভবতী নারীদের জন্য কার্ড দেওয়ার কথা বলে বকুল মিয়া নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় গত ২৪ আগস্ট তার মেয়ে বাদী হয়ে বকুল মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নং-১-এ মামলা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক কিরণ শংকর রায় ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এটি একটি ফাঁসি কিংবা যাবজ্জীবন সাজাযোগ্য গুরুতর অপরাধ।

এদিকে এ মামলার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩১ আগস্ট রাতে ওই নারীকে মারধর করার সময় পেটে সজোরে লাথি দিলে গুরুতর আহত এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণের শিকার হন তিনি। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই নির্যাতিতা নারী একটি মৃত শিশু প্রসব করেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডা. মো. হেলাল উদ্দিন চিকিৎসাধীন ওই নারীর রক্তপাত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, নির্যাতনের ফলেই তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে কিনা।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা জানান, চিকিৎসা সনদ হাতে পাওয়ার পর গর্ভের শিশু হত্যার অপরাধেও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মূল অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বকুল মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে রিং করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রেফতার এড়াতে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার পরিদর্শক রমিজুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত শেষ হলেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন