ঘরে জায়গা নেই, ছেলেকে এতিমখানায় রেখেছেন দম্পতি!
jugantor
ঘরে জায়গা নেই, ছেলেকে এতিমখানায় রেখেছেন দম্পতি!

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৪৬:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবা-মা থাকার পরও এতিম শিশু হিসেবে এতিমখানায় বড় হচ্ছে ১৫ বছর বয়সি কিশোর নাসির হোসেন। এর একমাত্র কারণ থাকার মতো জায়গা নেই ঘরে।

যে কারণে বুকে পাথর বেঁধে একমাত্র ছেলেকে এতিমখানায় পাঠিয়ে দিয়েছেন মঞ্জুয়ারা-মোক্তার দম্পতি।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের চিরইল গ্রামে এই দরিদ্র পরিবারের বসবাস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নামমাত্র ঘরে থাকছেন তারা। ঘরের বাঁশের খুঁটি। পলিথিনে ঘেরা চারিদিক। সামান্য কয়েকটা মরিচা পড়া টিন রয়েছে ঘরের চালের ওপর। নেই টয়লেট-টিউবওয়েল ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক কাজ সারতে যেতে হয় অন্যের বাড়িতে। রান্না ঘরও নেই। জরাজীর্ণ ঘরের এক কোণে ভাঙ্গাচোরা চোকিতে রাতযাপন করেন। বৃষ্টি এলে কষ্টের সীমা থাকে না এই দম্পতির।

জানা গেছে, সরকারি একটি ঘরের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার বলেও ঘর পাননি পরিবারটি। বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ এই ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

মোক্তার হোসেন নামের ওই ব্যক্তি দিনমজুরি করে আবার কখনো বা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন গৃহিনী। ঘরে শোবার জায়গা না থাকায় একমাত্র ছেলে নাসির হোসেনকে একই উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের একটি মাদ্রাসায় এতিম শিশু হিসেবে রেখেছেন।

নিজেদের কোনো জায়গাজমি না থাকায় প্রায় দেড়যুগেরও অধিক সময় ধরে মোক্তার হোসেন তার নানী ফাতু জানের একটি
বিরোধপূর্ণ জায়গায় এভাবেই বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও আবুল হোসেন মাস্টার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে মোক্তার হোসেনের নানী ফাতু জানের পরিবারের আদালতে মামলা চলার কারণে ঘরটি মেরামত করাও সম্ভব হয়নি।

মঞ্জুয়ারা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, কষ্ট করতে করতে সবকিছু সয়ে গেছে। কিন্তু শোবার জায়গার অভাবে ছেলেকে এতিমখানায় রেখেছি এর জন্য খুব কষ্ট লাগে। অনেকেই সরকারি ঘর পেয়েছে। কিন্তু আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। অনেকবার মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু ঘর পাইনি।

মোক্তার হোসেন বলেন, দিনমজুরি করে সংসার চালানোই দায়। তারপর করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজও তেমন নেই। টিভিতে দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক গরিব মানুষকে নতুন ঘর করে দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, তিনি চাইলেই আমরা একটা ঘর পাব বলে বিশ্বাস করি।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আজিজুল হক যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। আমার কাছে ঘরের জন্য কয়েকবার এসেছিল। পরিষদ থেকে সম্ভবত নতুন ঘর বরাদ্দের তালিকায় তাদের নাম পাঠানো হয়েছে।

অসহায় ওই পরিবারটির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলামকে জানালে যুগান্তরকে বলেন, এর আগেই ওই ইউনিয়নে পাঁচটি নতুন ঘর করেছি। কিন্তু ওই তালিকায় তাদের নাম ছিল না। তবে নতুন ঘরের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই দরিদ্র পরিবারটিকে নতুন ঘর করে দেয়া হবে।

ঘরে জায়গা নেই, ছেলেকে এতিমখানায় রেখেছেন দম্পতি!

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবা-মা থাকার পরও এতিম শিশু হিসেবে এতিমখানায় বড় হচ্ছে ১৫ বছর বয়সি কিশোর নাসির হোসেন। এর একমাত্র কারণ থাকার মতো জায়গা নেই ঘরে।

যে কারণে বুকে পাথর বেঁধে একমাত্র ছেলেকে এতিমখানায় পাঠিয়ে দিয়েছেন মঞ্জুয়ারা-মোক্তার দম্পতি।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের চিরইল গ্রামে এই দরিদ্র পরিবারের বসবাস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নামমাত্র ঘরে থাকছেন তারা। ঘরের বাঁশের খুঁটি। পলিথিনে ঘেরা চারিদিক। সামান্য কয়েকটা মরিচা পড়া টিন রয়েছে ঘরের চালের ওপর। নেই টয়লেট-টিউবওয়েল ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক কাজ সারতে যেতে হয় অন্যের বাড়িতে। রান্না ঘরও নেই। জরাজীর্ণ ঘরের এক কোণে ভাঙ্গাচোরা চোকিতে রাতযাপন করেন। বৃষ্টি এলে কষ্টের সীমা থাকে না এই দম্পতির।

জানা গেছে, সরকারি একটি ঘরের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার বলেও ঘর পাননি পরিবারটি। বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ এই ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

মোক্তার হোসেন নামের ওই ব্যক্তি দিনমজুরি করে আবার কখনো বা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন গৃহিনী। ঘরে শোবার জায়গা না থাকায় একমাত্র ছেলে নাসির হোসেনকে একই উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের একটি মাদ্রাসায় এতিম শিশু হিসেবে রেখেছেন। 

নিজেদের কোনো জায়গাজমি না থাকায় প্রায় দেড়যুগেরও অধিক সময় ধরে মোক্তার হোসেন তার নানী ফাতু জানের একটি
বিরোধপূর্ণ জায়গায় এভাবেই বসবাস করছেন। 

স্থানীয়রা ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও আবুল হোসেন মাস্টার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে মোক্তার হোসেনের নানী ফাতু জানের পরিবারের আদালতে মামলা চলার কারণে ঘরটি মেরামত করাও সম্ভব হয়নি।

মঞ্জুয়ারা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, কষ্ট করতে করতে সবকিছু সয়ে গেছে। কিন্তু শোবার জায়গার অভাবে ছেলেকে এতিমখানায় রেখেছি এর জন্য খুব কষ্ট লাগে। অনেকেই সরকারি ঘর পেয়েছে। কিন্তু আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। অনেকবার মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু ঘর পাইনি।

মোক্তার হোসেন বলেন, দিনমজুরি করে সংসার চালানোই দায়। তারপর করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজও তেমন নেই। টিভিতে দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক গরিব মানুষকে নতুন ঘর করে দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, তিনি চাইলেই আমরা একটা ঘর পাব বলে বিশ্বাস করি।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আজিজুল হক যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। আমার কাছে ঘরের জন্য কয়েকবার এসেছিল। পরিষদ থেকে সম্ভবত নতুন ঘর বরাদ্দের তালিকায় তাদের নাম পাঠানো হয়েছে।

অসহায় ওই পরিবারটির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলামকে জানালে যুগান্তরকে বলেন, এর আগেই ওই ইউনিয়নে পাঁচটি নতুন ঘর করেছি। কিন্তু ওই তালিকায় তাদের নাম ছিল না। তবে নতুন ঘরের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই দরিদ্র পরিবারটিকে নতুন ঘর করে দেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন