সিনহা হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুলকে ওসি প্রদীপের আইনজীবীর জেরা
jugantor
সিনহা হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুলকে ওসি প্রদীপের আইনজীবীর জেরা

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫১:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

সিনহা হত্যা

চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সেনাবাহিনীর অব. মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় আজ বুধবারও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলাম সাক্ষ্য প্রদান করছেন।

বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত বাদীপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ষষ্ঠ সাক্ষী শহিদুল ইসলামকে জেরা করছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ১৫ আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

মঙ্গলবার এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আমিন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এদিকে সিনহা হত্যা মামলার ৬ষ্ঠ দিনের বিচারকার্য শুরুতে সরকারি নিয়মনীতির আলোকে আসামি প্রদীপ কুমার দাশ একজন প্রথম শ্রেণির অফিসার হিসেবে কারাগারে যে সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারাগারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত। আদালত কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ নামা পাঠানো হবে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের অপর এক আইনজীবী ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছিল তা তলবের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন।

এ সময় সরকারি কৌশলী তার বিরোধীতা করে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নথি। এটি এই মামলায় এই মুহূর্তে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই। এর পরপরই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাফেজ মো. আমিনের জবানবন্দি রেকর্ড শুরু করেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, মঙ্গলবারের হাফেজ মো. আমিনের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যাধিক। কারণ হাফেজ মো. আমিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাই সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতের মতো হাফেজ আমিনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৩ আগস্ট শুরু হয় মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতের নির্ধারণ করা প্রথম তিনদিনের প্রথমদিন পুরো ও দ্বিতীয় দিনের অর্ধেক সময় মামলার বাদি নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন ফেরদৌসের সাক্ষ্য ও জেরা হয়।

পরে শুরু হয় সিনহার সফরসঙ্গী ও হত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য। এ দুজনের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিচার কার্যের প্রথম নির্ধারিত তিনদিন।

ফলে এ তিনদিনের জন্য নোটিশ পাওয়া ১৫ সাক্ষীর মাঝে বাকি ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৫ আগস্ট আদালত ৫ থেকে ৮ সেপ্টম্বর টানা চারদিন পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য্য করেন। সেই মতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাকি সাক্ষীদের একজনের সাক্ষ্য শুরু হয়ে সারাদিন তাকেই জেরায় দিন শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিনও একইভাবে একজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

সিনহা হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুলকে ওসি প্রদীপের আইনজীবীর জেরা

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সিনহা হত্যা
ফাইল ছবি

চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সেনাবাহিনীর অব. মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় আজ বুধবারও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলাম সাক্ষ্য প্রদান করছেন।

বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত বাদীপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ষষ্ঠ সাক্ষী শহিদুল ইসলামকে জেরা করছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ১৫ আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

মঙ্গলবার এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদের ইমাম  হাফেজ মো. আমিন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এদিকে সিনহা হত্যা মামলার ৬ষ্ঠ দিনের বিচারকার্য শুরুতে সরকারি নিয়মনীতির আলোকে আসামি প্রদীপ কুমার দাশ একজন প্রথম শ্রেণির অফিসার হিসেবে কারাগারে যে সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারাগারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত। আদালত কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ নামা পাঠানো হবে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের অপর এক আইনজীবী ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছিল তা তলবের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন।  

এ সময় সরকারি কৌশলী তার বিরোধীতা করে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নথি। এটি এই মামলায় এই মুহূর্তে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই।  এর পরপরই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাফেজ মো. আমিনের জবানবন্দি রেকর্ড শুরু করেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, মঙ্গলবারের হাফেজ মো. আমিনের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যাধিক। কারণ হাফেজ মো. আমিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাই সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতের মতো হাফেজ আমিনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

গত ২৩ আগস্ট শুরু হয় মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতের নির্ধারণ করা প্রথম তিনদিনের প্রথমদিন পুরো ও দ্বিতীয় দিনের অর্ধেক সময় মামলার বাদি নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন ফেরদৌসের সাক্ষ্য ও জেরা হয়।

পরে শুরু হয় সিনহার সফরসঙ্গী ও হত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য। এ দুজনের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিচার কার্যের প্রথম নির্ধারিত তিনদিন।

ফলে এ তিনদিনের জন্য নোটিশ পাওয়া ১৫ সাক্ষীর মাঝে বাকি ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৫ আগস্ট আদালত ৫ থেকে ৮ সেপ্টম্বর টানা চারদিন পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য্য করেন। সেই মতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাকি সাক্ষীদের একজনের সাক্ষ্য শুরু হয়ে সারাদিন তাকেই জেরায় দিন শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিনও একইভাবে একজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মেজর সিনহার মৃত্যু

আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন