সিজারের পর রক্তক্ষরণ, বারবার ডাকলেও আসেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ
jugantor
সিজারের পর রক্তক্ষরণ, বারবার ডাকলেও আসেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

  যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩০:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার

টাঙ্গাইল শহরের নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের দায়িত্ব অবহেলায় রিনা বেগম (২৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। রিনা বেগম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের রাঙাচিরা গ্রামের ইসরাইল মিয়ার স্ত্রী।

ইসরাইল মিয়া জানান, প্রসব ব্যথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস সেন্টারে রিনা বেগমকে ভর্তি করা হয়। গাইনী চিকিৎসকডা. সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে অস্ত্রপচারের (সিজার) মাধ্যমে রিনা বেগম কন্যা সন্তান জন্ম দেন। পরে তাকে কেবিনে আনার পর রাত থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

বিষয়টি ক্লিনিকের নার্সকে জানালে তিনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারকে অবগত করেন। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা আসেননি। পরে সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রিনা বেগমকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়। কিন্তুপথেইতার মৃত্যু হয়।

ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স অনামিকা সরকার বলেন, আমি সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছি। রাতে ও বৃহস্পতিবারকি হয়েছে, সেটা আমি জানি না।

রিনা বেগমের মা চায়না বেগম বলেন, সিজার ভালোভাবে করা হয়নি। সিজার করার পর পরই পেট ফুলতে থাকে। পেটের দুই পাশ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার মেয়ে বারবার ডাক্তারের কথা বলেছে। কিন্তু ডাক্তার আসেনি। ডাক্তারের অবহেলায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে যারা সন্তানহারা করল আমি তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

নিহতের স্বামী ইসরাইল মিয়া বলেন, ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার মেয়ে এতিম হয়েছে। আমার মেয়েকে যারা এতিম করল আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।

ঘটনার পর ক্লিনিকের ম্যানেজার ও মালিক পালিয়ে গেছেন।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের অভ্যর্থনাকর্মী সাদিয়া আফরিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ক্লিনিকের ম্যানেজার সেলিম জাবেদ ও মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বাইরে আছেন। তারা কখন ফিরবে তাও জানি না। অনুমতি ছাড়া তাদের ফোন নম্বরও দেওয়া যাবে না।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, আমি খুবই ব্যস্ত আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিজারের পর রক্তক্ষরণ, বারবার ডাকলেও আসেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

 যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার
নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল শহরের নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের দায়িত্ব অবহেলায় রিনা বেগম (২৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। রিনা বেগম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের রাঙাচিরা গ্রামের ইসরাইল মিয়ার স্ত্রী।

ইসরাইল মিয়া জানান, প্রসব ব্যথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস সেন্টারে রিনা বেগমকে ভর্তি করা হয়। গাইনী চিকিৎসক ডা. সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে অস্ত্রপচারের (সিজার) মাধ্যমে রিনা বেগম কন্যা সন্তান জন্ম দেন। পরে তাকে কেবিনে আনার পর রাত থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

বিষয়টি ক্লিনিকের নার্সকে জানালে তিনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারকে অবগত করেন। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা আসেননি। পরে সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রিনা বেগমকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স অনামিকা সরকার বলেন, আমি সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছি। রাতে ও বৃহস্পতিবার কি হয়েছে, সেটা আমি জানি না।

রিনা বেগমের মা চায়না বেগম বলেন, সিজার ভালোভাবে করা হয়নি। সিজার করার পর পরই পেট ফুলতে থাকে। পেটের দুই পাশ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার মেয়ে বারবার ডাক্তারের কথা বলেছে। কিন্তু ডাক্তার আসেনি। ডাক্তারের অবহেলায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে যারা সন্তানহারা করল আমি তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

নিহতের স্বামী ইসরাইল মিয়া বলেন, ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার মেয়ে এতিম হয়েছে। আমার মেয়েকে যারা এতিম করল আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।

ঘটনার পর ক্লিনিকের ম্যানেজার ও মালিক পালিয়ে গেছেন।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের অভ্যর্থনাকর্মী সাদিয়া আফরিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ক্লিনিকের ম্যানেজার সেলিম জাবেদ ও মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বাইরে আছেন। তারা কখন ফিরবে তাও জানি না। অনুমতি ছাড়া তাদের ফোন নম্বরও দেওয়া যাবে না।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, আমি খুবই ব্যস্ত আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন