ক্লিনিক নিয়ে দ্বন্দ্ব, চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ
jugantor
ক্লিনিক নিয়ে দ্বন্দ্ব, চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ

  বগুড়া ব্যুরো  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫১:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

নার্স সাদ্দাম হোসেন

ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে বিরোধে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম হোসেন (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনার সময় নার্স সাদ্দাম হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

নার্স সাদ্দাম দু’মাস আগে সেলিমের ছোট ভাই শাহিন আলমকে (২৪) একই কায়দায় হত্যা করে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের অপর ভাই আবদুস সামাদ সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন হত্যার উদ্দেশ্যে ইনজেকশন পুশ করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া সদরের পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে অংশীদার কাম নার্স সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে শাহিন আলম ও তার ভাই সেলিম হোসেনের (ম্যানেজার) বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রায় দু’মাস আগে শাহিন আলমকে চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠে। কোনো প্রমাণ না থাকায় ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।

সাদ্দাম হোসেন গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে। নিহত সেলিম একই উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে।

নিহত সেলিমের ভাই মামলার বাদী আবদুস সামাদ জানান, তারা সাতজন প্রায় ৯মাস আগে পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। সাতজনের মধ্যে তাদের পরিবারের চারজনের অর্ধেক এবং অপর অর্ধেক শেয়ার সাদ্দাম হোসেনের ছিল। তাদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন নার্সের (সেবক) এবং সেলিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় সেলিম অসুস্থতা বোধ করেন। তখন সাদ্দাম হোসেন জানান, তার (সেলিম) উচ্চ রক্তচাপ আছে; হাসপাতালে নেওয়া দরকার। খবর পেয়ে সামাদ ১০.৫০ মিনিটে ভাইকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চতুর্থ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন। সাদ্দাম হোসেন রাত ১২.৫ মিনিটে হাসপাতালে সেলিমকে দেখতে যান। এ সময় তার শরীরে স্যালাইন চলছিল। একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন তার পকেট থেকে ইনজেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানোর ক্যানুলা দিয়ে পুশ করেন। কিসের ইনজেকশন দেওয়া হলো জানতে চাইলে সাদ্দাম জানান, গ্যাসের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। তিনি অ্যাম্পুলের লেবেল ছিড়ে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টাকরেন।

এর ১০ মিনিটের মধ্যে সেলিম মৃতুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন কর্তব্যরত নার্স ও অন্যরা সাদ্দাম হোসেনকে চেতনানাশক ইনজেকশন অ্যাম্পুলসহ আটক করে পুলিশে দেন।

আব্দুস সামাদ আরো জানান, গত ৭ জুলাই তার অপর ছোট ভাই শাহীন আলম অসুস্থতাবোধ করলে তাকে তাদের পীরগাছা বাজারের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করার পর রাতে শাহীন মারা যান। পরে বলা হয় হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। তখন শাহীনের মৃত্যুকে কেউ সন্দেহ না করায় সাদ্দাম হোসেন তার অপর ভাই সেলিমকে একই কায়দায় হত্যা করল।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন পার্টনার সেলিম হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্লিনিকের আয় থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। এইক্ষোভ থেকে তিনি কৌশলে সেলিমকে হত্যা করেছেন। তবে দু’মাস আগে শাহীনকে হত্যার ব্যাপারে তিনি মুখ খোলেননি। তাকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

ক্লিনিক নিয়ে দ্বন্দ্ব, চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ

 বগুড়া ব্যুরো 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নার্স সাদ্দাম হোসেন
অভিযুক্ত নার্স সাদ্দাম হোসেন। ছবি: ‍যুগান্তর

ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে বিরোধে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম হোসেন (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনার সময় নার্স সাদ্দাম হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। 

নার্স সাদ্দাম দু’মাস আগে সেলিমের ছোট ভাই শাহিন আলমকে (২৪) একই কায়দায় হত্যা করে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের অপর ভাই আবদুস সামাদ সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন হত্যার উদ্দেশ্যে ইনজেকশন পুশ করার কথা স্বীকার করেছে। তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া সদরের পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে অংশীদার কাম নার্স সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে শাহিন আলম ও তার ভাই সেলিম হোসেনের (ম্যানেজার) বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রায় দু’মাস আগে শাহিন আলমকে চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠে। কোনো প্রমাণ না থাকায় ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। 

সাদ্দাম হোসেন গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে। নিহত সেলিম একই উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে।

নিহত সেলিমের ভাই মামলার বাদী আবদুস সামাদ জানান, তারা সাতজন প্রায় ৯ মাস আগে পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। সাতজনের মধ্যে তাদের পরিবারের চারজনের অর্ধেক এবং অপর অর্ধেক শেয়ার সাদ্দাম হোসেনের ছিল। তাদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন নার্সের (সেবক) এবং সেলিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় সেলিম অসুস্থতা বোধ করেন। তখন সাদ্দাম হোসেন জানান, তার (সেলিম) উচ্চ রক্তচাপ আছে; হাসপাতালে নেওয়া দরকার। খবর পেয়ে সামাদ ১০.৫০ মিনিটে ভাইকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চতুর্থ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন। সাদ্দাম হোসেন রাত ১২.৫ মিনিটে হাসপাতালে সেলিমকে দেখতে যান। এ সময় তার শরীরে স্যালাইন চলছিল। একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন তার পকেট থেকে ইনজেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানোর ক্যানুলা দিয়ে পুশ করেন। কিসের ইনজেকশন দেওয়া হলো জানতে চাইলে সাদ্দাম জানান, গ্যাসের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। তিনি অ্যাম্পুলের লেবেল ছিড়ে  হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

 এর ১০ মিনিটের মধ্যে সেলিম মৃতুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন কর্তব্যরত নার্স ও অন্যরা সাদ্দাম হোসেনকে চেতনানাশক ইনজেকশন অ্যাম্পুলসহ আটক করে পুলিশে দেন।

আব্দুস সামাদ আরো জানান, গত ৭ জুলাই তার অপর ছোট ভাই শাহীন আলম অসুস্থতাবোধ করলে তাকে তাদের পীরগাছা বাজারের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করার পর রাতে শাহীন মারা যান। পরে বলা হয় হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। তখন শাহীনের মৃত্যুকে কেউ সন্দেহ না করায় সাদ্দাম হোসেন তার অপর ভাই সেলিমকে একই কায়দায় হত্যা করল।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন পার্টনার সেলিম হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্লিনিকের আয় থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। এই ক্ষোভ থেকে তিনি কৌশলে সেলিমকে হত্যা করেছেন। তবে দু’মাস আগে শাহীনকে হত্যার ব্যাপারে তিনি মুখ খোলেননি। তাকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন