ত্রিশালে অতি দরিদ্রের কর্মসংস্থান প্রকল্পে অনিয়ম
jugantor
ত্রিশালে অতি দরিদ্রের কর্মসংস্থান প্রকল্পে অনিয়ম

  ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০০:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ব্যক্তিকে উপকারভোগী সাজিয়ে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার প্রকল্পেরকাজ আসলেও তারা জানতে পারেননি।অথচ জুলাই মাসে কাজ দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আমলীতলা বাজার থেকে জব্বার মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৩৬ জন লেবার (শ্রমিক) দিয়ে রাস্তার কাজ করার কথা থাকলেও কোনো কাজ হয়নি। রাস্তায় একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি।

সূত্র জানা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য রাস্তায় মাটি কাটার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেনউপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিদরিদ্রদের বাছাই করে কাজ বাবদ প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা হিসেবে প্রতিজনের আট থেকে দশ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম প্রকল্পে এমন অনেকের নাম ব্যবহার করেছেন যারা নিজেরাই জানেন না, তাদের নাম আছে। তাছাড়াকর্মসূচির লেবারের তালিকায় তার নিজের ছেলের নামও দিয়েছেন। এলাকার স্বচ্ছল ও বিত্তবান পোল্ট্রি ও ফিসারির মালিকের নামও ব্যবহার করা হয়েছে।

মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দিলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের কর্মসূচিতে লেবারের তালিকায়চেয়ারম্যান, মেম্বারদেরছেলে, বউ, আত্মীয়স্বজনের নাম ব্যবহার করেছেন। রাস্তার কাজ না করে তুলে নিয়েছেন বিল।রাস্তার কাজ না হওয়ার ফলেজনগণকেদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তার কাজ দিয়ে অন্য কয়েকটি রাস্তার কাজসহ এর বাজেট দিয়ে অন্য ভাঙা রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য কাজ করেছি। প্রকল্প দেখাতে লোক লাগে তাই আমার ছেলের নাম দিয়েছি। এলাকার বিত্তবানদের নাম কেন দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় আছে তাই তাদের নাম দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মঠবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মন্ডল বলেন, আমার জানা মতে মেম্বার রাস্তার কাজ করেছেন, আমাকে ছবি দেখিয়েছেন। মেম্বার সাহেবরা লেবারের তালিকা দিয়ে থাকেন, কার নাম দিয়েছেন তা আমার জানা নাই। আর টাকা তুলতে গেলে প্রকল্পের রাস্তার কাজের ছবি দেখিয়েবিল নিতে হয়। আমি মেম্বারের সঙ্গেকথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ঘটনাতদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ত্রিশালে অতি দরিদ্রের কর্মসংস্থান প্রকল্পে অনিয়ম

 ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
প্রকল্পের কাজে অনিয়ম
মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ব্যক্তিকে উপকারভোগী সাজিয়ে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার প্রকল্পের কাজ আসলেও তারা জানতে পারেননি। অথচ জুলাই মাসে কাজ দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আমলীতলা বাজার থেকে জব্বার মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৩৬ জন লেবার (শ্রমিক) দিয়ে রাস্তার কাজ করার কথা থাকলেও কোনো কাজ হয়নি। রাস্তায় একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি।

সূত্র জানা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য রাস্তায় মাটি কাটার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিদরিদ্রদের বাছাই করে কাজ বাবদ প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা হিসেবে প্রতিজনের আট থেকে দশ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম প্রকল্পে এমন অনেকের নাম ব্যবহার করেছেন যারা নিজেরাই জানেন না, তাদের নাম আছে। তাছাড়া কর্মসূচির লেবারের তালিকায় তার নিজের ছেলের নামও দিয়েছেন। এলাকার স্বচ্ছল ও বিত্তবান পোল্ট্রি ও ফিসারির মালিকের নামও ব্যবহার করা হয়েছে।

মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দিলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের কর্মসূচিতে লেবারের তালিকায় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের ছেলে, বউ, আত্মীয়স্বজনের নাম ব্যবহার করেছেন। রাস্তার কাজ না করে তুলে নিয়েছেন বিল। রাস্তার কাজ না হওয়ার ফলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তার কাজ দিয়ে অন্য কয়েকটি রাস্তার কাজসহ এর বাজেট দিয়ে অন্য ভাঙা রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য কাজ করেছি। প্রকল্প দেখাতে লোক লাগে তাই আমার ছেলের নাম দিয়েছি। এলাকার বিত্তবানদের নাম কেন দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় আছে তাই তাদের নাম দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মঠবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মন্ডল বলেন, আমার জানা মতে মেম্বার রাস্তার কাজ করেছেন, আমাকে ছবি দেখিয়েছেন। মেম্বার সাহেবরা লেবারের তালিকা দিয়ে থাকেন, কার নাম দিয়েছেন তা আমার জানা নাই। আর টাকা তুলতে গেলে প্রকল্পের রাস্তার কাজের ছবি দেখিয়ে বিল নিতে হয়। আমি মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ঘটনা তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন