লাল গোলাপে শিক্ষার্থীদের বরণ, দেওয়া হলো চকলেটও
jugantor
লাল গোলাপে শিক্ষার্থীদের বরণ, দেওয়া হলো চকলেটও

  যশোর ব্যুরো  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫২:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

লাল গোলাপে শিক্ষার্থীদের বরণ, দেওয়া হলো চকলেটও

দেড় বছর পর খুলেছে যশোরের দুই সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারির সংকট পেছনে ফেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

উপহার দেওয়া হয়েছে চকলেটও। ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর নতুন সাজে সেজেছে ক্যাম্পাস। এসব দেখে বিমোহিত শিক্ষার্থীরা। আর দীর্ঘদিন পর আবারও পাঠদান করতে পেরে খুশি শিক্ষকরাও।

তবে শিশুরা স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা এ নিয়ে অভিভাবকদের ভেতর রয়েছে শঙ্কা। কেউ কেউ আবার স্কুলের ক্লাস সময় বাড়ানোরও দাবিও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা দুই হাজার ২২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষাধিক। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় উপস্থিত হয়েছে এসব শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে সরকার যে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির দিনটা স্মরণীয় করতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে বরণ করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিন জানান, স্কুলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমার তাপমাত্রা মেপে, ফুল ও চকলেট দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষকরা। স্কুলে সাজ সাজ রব। স্কুলে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আশা করি এভাবে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সবাই অগের মতো স্কুলে হইচই করে বেড়াতে পারব।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার জানান, দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় আমি খুব খুশি হয়েছি। আবার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্লাস শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সরাসরি দীর্ঘদিন পর ক্লাস করে খুব ভালো লাগছে।

জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তানজিম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে এসে খুব খুশি। এমনি আমাদের জিলা স্কুলের পরিবেশ খুব সুন্দর। তার পর দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে দেখি, পুরো ক্যাম্পাস সাজ সাজ রব। স্কুলের প্রধান ফটকে আলোকসজ্জ্বা করা হয়। আমাদের বরণ করার জন্য ফুল-চকলেট দিয়েছে।

নুরজাহান নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন পর সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে একদিকে যেমন আনন্দিত; অন্যদিকে দুশ্চিন্তাও রয়েছি। হাজার হলেও বাচ্চা তো! বাসা থেকে মাস্ক পরিয়ে দিলেও কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকবে সেটি নিয়ে চিন্তিত। মাস্ক খুলে ফেলতে পারে। তা ছাড়া স্কুলের ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা সেটি নিয়েও রয়েছি উদ্বিগ্ন। সবচেয়ে ভালো লাগছে— এতদিন আমার মেয়ে সকাল ১০টা ১১ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকত। স্কুলের যাওয়ার আনন্দে আজ সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেছে। সব মিলিয়ে আবারও আমার সন্তান যে স্কুলে লেখাপড়ায় ফিরতে পেরেছে, এতে আমি খুব খুশি।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব পারভেজ বলেন, আমাদের ঈদের চেয়ে খুশি খুশি লাগছে। পুরা স্কুলটা সাজ সাজ রব। দীর্ঘদিন পর সশরীরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব। খুশিতে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠেছি। এর একটিই কারণ কত দ্রুত এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হবে। কখন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরিন সুলতানা জানান, স্কুলের ভেতরের জঙ্গল কেটে এবং স্কুল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরাও স্কুলে আসার পরে ক্যাম্পাস মুখর হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হওয়ায় তাদের জন্য আমরা অভ্যর্থনার জানিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন বলেন, স্কুল খোলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাজসাজ রব পড়েছে। আগের মতো স্কুলে শিক্ষার্থীদের হইচই মেতে উঠেছে। দৃশ্যটি দেখে ভালো লাগছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন পর স্কুল-কলেজ খুলেছে। সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, সেটি মেনেই যশোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ একেবারেই কম বিধায় কোনো সমস্যা হবে না।

লাল গোলাপে শিক্ষার্থীদের বরণ, দেওয়া হলো চকলেটও

 যশোর ব্যুরো 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
লাল গোলাপে শিক্ষার্থীদের বরণ, দেওয়া হলো চকলেটও
ছবি: যুগান্তর

দেড় বছর পর খুলেছে যশোরের দুই সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারির সংকট পেছনে ফেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। 

উপহার দেওয়া হয়েছে চকলেটও। ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর নতুন সাজে সেজেছে ক্যাম্পাস। এসব দেখে বিমোহিত শিক্ষার্থীরা। আর দীর্ঘদিন পর আবারও পাঠদান করতে পেরে খুশি শিক্ষকরাও। 

তবে শিশুরা স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা এ নিয়ে অভিভাবকদের ভেতর রয়েছে শঙ্কা। কেউ কেউ আবার স্কুলের ক্লাস সময় বাড়ানোরও দাবিও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা দুই হাজার ২২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষাধিক। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় উপস্থিত হয়েছে এসব শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে সরকার যে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির দিনটা স্মরণীয় করতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে বরণ করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিন জানান, স্কুলে  ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমার তাপমাত্রা মেপে, ফুল ও চকলেট দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষকরা। স্কুলে সাজ সাজ রব। স্কুলে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আশা করি এভাবে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সবাই অগের মতো স্কুলে হইচই করে বেড়াতে পারব।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার জানান, দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় আমি খুব খুশি হয়েছি। আবার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্লাস শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সরাসরি দীর্ঘদিন পর ক্লাস করে খুব ভালো লাগছে। 

জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তানজিম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে এসে খুব খুশি। এমনি আমাদের জিলা স্কুলের পরিবেশ খুব সুন্দর। তার পর দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে দেখি, পুরো ক্যাম্পাস সাজ সাজ রব। স্কুলের প্রধান ফটকে আলোকসজ্জ্বা করা হয়। আমাদের বরণ করার জন্য ফুল-চকলেট দিয়েছে।

নুরজাহান নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন পর সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে একদিকে যেমন আনন্দিত; অন্যদিকে দুশ্চিন্তাও রয়েছি। হাজার হলেও বাচ্চা তো! বাসা থেকে মাস্ক পরিয়ে দিলেও কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকবে সেটি নিয়ে চিন্তিত। মাস্ক খুলে ফেলতে পারে। তা ছাড়া স্কুলের ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা সেটি নিয়েও রয়েছি উদ্বিগ্ন। সবচেয়ে ভালো লাগছে— এতদিন আমার মেয়ে সকাল ১০টা ১১ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকত। স্কুলের যাওয়ার আনন্দে আজ সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেছে। সব মিলিয়ে আবারও আমার সন্তান যে স্কুলে লেখাপড়ায় ফিরতে পেরেছে, এতে আমি খুব খুশি।  

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব পারভেজ বলেন, আমাদের ঈদের চেয়ে খুশি খুশি লাগছে। পুরা স্কুলটা সাজ সাজ রব। দীর্ঘদিন পর সশরীরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব। খুশিতে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠেছি। এর একটিই কারণ কত দ্রুত এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হবে। কখন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা শিরিন সুলতানা জানান, স্কুলের ভেতরের জঙ্গল কেটে এবং স্কুল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরাও স্কুলে আসার পরে ক্যাম্পাস মুখর হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হওয়ায় তাদের জন্য আমরা অভ্যর্থনার জানিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন বলেন, স্কুল খোলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাজসাজ রব পড়েছে। আগের মতো স্কুলে শিক্ষার্থীদের হইচই মেতে উঠেছে। দৃশ্যটি দেখে ভালো লাগছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন পর স্কুল-কলেজ খুলেছে। সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, সেটি মেনেই যশোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ একেবারেই কম বিধায় কোনো সমস্যা হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন