আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশি মাছ চাষ
jugantor
আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশি মাছ চাষ

  সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫২:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশি মাছ চাষ

প্রায় হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ চাষ করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিতে। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রদর্শনী পুকুরে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে এসব মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে চাষিরা মাছ বাজারে ওঠায় কম দামে আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে মানুষের।

রংপুর বিভাগের আট জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫৭৩টি পুকুরে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাঁচটি ইউনিয়নে ১২টি পুকুরে প্রকল্পের আওতায় মাছ চাষ করা হচ্ছে।এসব পুকুরে শিং, মাগুর, পাবদা, গলদা চিংড়ি, গুলশা ইত্যাদি মাছের চাষ হচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস জানান, মাঠপর্যায়ে চাষি ও পুকুর নির্বাচন করে মাছ চাষের জন্য তৈরি করা হয়। চাষিদের পোনা মাছ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। একজন চাষিকে এসব সুবিধা দিয়ে আরও পাঁচজন বন্ধু চাষি নির্বাচন করা হয়। যাতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এ জন্য সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এসব পুকুর সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য রয়েছে একজন লিফম্যান। ছোটখাটো সমস্যা হলে সমাধান করেন।

এ প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) উপপ্রকল্প পরিচালক বদরুজ্জামান মানিক জানান, রংপুর বিভাগে ৫৭৩টি পুকুরে দেশি মাছ আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের উপকরণ সহায়তা বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। চাষিরা আগ্রহ নিয়ে এসব মাছের চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ি গ্রামের মাছচাষি মোহেবুল্লাহ সরকার জানান, তিনি ৪০ শতক পুকুরে শিং, মাগুর ও অন্যান্য মাছের চাষ করেছেন। মাত্র কয়েক মাসে মাছ খাবার উপযোগী হয়েছে।

তিনি আশা করছেন পুকুরে এক হাজার ৩৩৩ কেজি মাছ উৎপাদিত হবে, যা বর্তমান বাজারমূল্যে তিন লাখ তিন হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এতে খরচ বাদে তার এক লাখ ৬৪ হাজার টাকা লাভ থাকবে। এসব দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিও মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন।

আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশি মাছ চাষ

 সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশি মাছ চাষ
ছবি: যুগান্তর

প্রায় হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ চাষ করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিতে। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রদর্শনী পুকুরে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে এসব মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে চাষিরা মাছ বাজারে ওঠায় কম দামে আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে মানুষের।

রংপুর বিভাগের আট জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫৭৩টি পুকুরে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাঁচটি ইউনিয়নে ১২টি পুকুরে প্রকল্পের আওতায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এসব পুকুরে শিং, মাগুর, পাবদা, গলদা চিংড়ি, গুলশা ইত্যাদি মাছের চাষ হচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস জানান, মাঠপর্যায়ে চাষি ও পুকুর নির্বাচন করে মাছ চাষের জন্য তৈরি করা হয়। চাষিদের পোনা মাছ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। একজন চাষিকে এসব সুবিধা দিয়ে আরও পাঁচজন বন্ধু চাষি নির্বাচন করা হয়। যাতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এ জন্য সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এসব পুকুর সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য রয়েছে একজন লিফম্যান। ছোটখাটো সমস্যা হলে সমাধান করেন।

এ প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) উপপ্রকল্প পরিচালক বদরুজ্জামান মানিক জানান, রংপুর বিভাগে ৫৭৩টি পুকুরে দেশি মাছ আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের উপকরণ সহায়তা বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। চাষিরা আগ্রহ নিয়ে এসব মাছের চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ি গ্রামের মাছচাষি মোহেবুল্লাহ সরকার জানান, তিনি ৪০ শতক পুকুরে শিং, মাগুর ও অন্যান্য মাছের চাষ করেছেন। মাত্র কয়েক মাসে মাছ খাবার উপযোগী হয়েছে। 

তিনি আশা করছেন পুকুরে এক হাজার ৩৩৩ কেজি মাছ উৎপাদিত হবে, যা বর্তমান বাজারমূল্যে তিন লাখ তিন হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এতে খরচ বাদে তার এক লাখ ৬৪ হাজার টাকা লাভ থাকবে। এসব দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিও মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন