বন্যায় কুড়িগ্রামের ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ক্ষতি
jugantor
বন্যায় কুড়িগ্রামের ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ক্ষতি

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৬:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে এবারের শেষ সময়ের বন্যায় কৃষিতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থেকে রোপা আমন, শাক-সবজি নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এ বন্যায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রণোদনা আর আর্থিক সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকদের।

দেশের উত্তরের বন্যাকবলিত কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে আবাদের ক্ষয়ক্ষতি।

ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যাতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত। কৃষকদের অভিযোগ অসময়ের এ বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল এবং নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্যার পর যে ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার স্বপ্ন বুনেছিল বন্যার পানিতে মাটিতে মিশে কৃষকের স্বপ্ন নিভিয়ে গেছে। আগামীতে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে তা ভেবেই এখন দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষক। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ সীমান্তবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের।

রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আমন রোপণ করছি। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। লোকসান হলো প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা।

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে। এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি সেটাও বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন গারছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সোগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কি করমো জানি না।

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তলিয়ে সব ধান গাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর তার সামর্থ্য নেই।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানো ব্যয়সাধ্য। তাছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।

বল্লভের খাস ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে পরবর্তী দিনগুলো পার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রোপা আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাকসবজি ৬১ হেক্টর এবং বীজতলার ৬৭ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে এই বন্যায়। এতে রোপা আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শাকসবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলা ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

এছাড়াও সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকেও কৃষক বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছে। এতে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।

মঞ্জুরুল হক বলেন, প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে এ বন্যায়।

বন্যায় কুড়িগ্রামের ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ক্ষতি

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে এবারের শেষ সময়ের বন্যায় কৃষিতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থেকে রোপা আমন, শাক-সবজি নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এ বন্যায় প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রণোদনা আর আর্থিক সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকদের।

দেশের উত্তরের বন্যাকবলিত কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে আবাদের ক্ষয়ক্ষতি।

ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যাতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত। কৃষকদের অভিযোগ অসময়ের এ বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল এবং নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্যার পর যে ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার স্বপ্ন বুনেছিল বন্যার পানিতে মাটিতে মিশে কৃষকের স্বপ্ন নিভিয়ে গেছে। আগামীতে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে তা ভেবেই এখন দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষক। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ সীমান্তবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের।

রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আমন রোপণ করছি। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। লোকসান হলো প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা।

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে। এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি সেটাও বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন গারছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সোগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কি করমো জানি না।

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তলিয়ে সব ধান গাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর তার সামর্থ্য নেই।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানো ব্যয়সাধ্য। তাছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।

বল্লভের খাস ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে পরবর্তী দিনগুলো পার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রোপা আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাকসবজি ৬১ হেক্টর এবং বীজতলার ৬৭ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে এই বন্যায়। এতে রোপা আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শাকসবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলা ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

এছাড়াও সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকেও কৃষক বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছে। এতে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।

মঞ্জুরুল হক বলেন, প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে এ বন্যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন