বগুড়ার ৪ খুনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি

  বগুড়া ব্যুরো ০৮ মে ২০১৮, ১৮:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া
ফাইল ছবি

বগুড়ায় প্রথমবারের মতো চার খুনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি।

মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে। নিহতরা সকলে মাদকসেবী এবং মাদক কিনতে ছিঁচকে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় স্ত্রীরা তাদের তালাক দিয়ে চলে গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে হত্যার ক্লু উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা পরকীয়া, চুরির মালামাল ভাগবাটোয়ারা, মাদকসেবন, জুয়া ও এলাকার দুপক্ষের বিরোধকে সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছেন।

নিহতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের কাঠগাড়া চকপাড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে পানের দোকানি সাবরুল ইসলাম সাবু (৩৫), একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রংমিস্ত্রি জাকারিয়া ইসলাম (৩২), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচপাইকা গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০) এবং একই উপজেলার নান্দাইল গ্রামের সামছুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে খবির উদ্দিন বাউশা (৩৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বজনরা বাউশার লাশ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে সবার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে শিবগঞ্জের আটমুল ইউনিয়নের গাংনাই নদীর পশ্চিমে ডাবইর এলাকার ধানক্ষেতে হাঁটুপানির মধ্যে গলাকাটা, পেছনে হাত বাঁধা ও একজনের পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা চারটি লাশ উদ্ধার করে।

একনজর লাশগুলো দেখতে শত শত মানুষ ওই মাঠে ভিড় করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাবু ও জাকারিয়ার পরিচয় মিললেও অপর দুজন ছিলেন অজ্ঞাত।

সোমবার সন্ধ্যায় হেলাল ও মঙ্গলবার দুপুরে বাউশার পরিচয় মেলে। বগুড়ায় প্রথমবারের মতো চার খুনের ঘটনায় প্রশাসন বিপাকে পড়েছে। রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবি পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে আলোচিত ও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি।

শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, ওসি (অপারেশন) জাহিদ হাসান ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, নিহত দুজন বগুড়ার শিবগঞ্জের কাঠগাড়া চকপাড়ার এবং অপর দুজন পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পৃথক গ্রামের বাসিন্দা।

নিহত সবার কাছে মাদক পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এরা সবাই মাদকসেবী। মাদক কেনার টাকা সংগ্রহে ছিঁচকে চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল।

কালাইয়ের পুনট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস নিশ্চিত করেছেন, নিহত হেলাল ও বাউশা মাদকসেবী। তারা ছিঁচকে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এদিকে কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, গত নির্বাচনে আটমুল ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থক মোজাফফর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক রেজাউল।

এ নির্বাচন নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা-হামলার ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে রেজাউল মাদকসহ গ্রেফতার হন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাজতে যান।

এ জন্য তিনি চেয়ারম্যান মোজাফফরকে দায়ী করেন। কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে চার খুনের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তারা বলছেন, পরকীয়া, মাদক ব্যবসা, চুরির মাল ভাগবাটোয়ারা এবং এলাকার দুপক্ষের বিরোধে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটতে পারে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মশিউর রহমান মণ্ডল জানান, নিহতরা বিবাহিত হলেও বর্তমানে কোনো স্ত্রী তাদের সঙ্গে নেই। সবাই তাদের তালাক দিয়ে চলে গেছেন।

তিনি আশা করেন, শিগগিরই ৪ খুনের রহস্য উদঘাটিত ও ঘাতকরা গ্রেফতার হবে। কাউকে আটক করার কথা তিনি স্বীকার করেননি।

তবে কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, হয়তো একজনকে হত্যার কথা ছিল। সাক্ষী না রাখতে অন্যদের খুন করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এ হত্যা রহস্য উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল জলিলের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন।

অন্য সদস্যরা হলেন, শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মশিউর রহমান মণ্ডল, শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, ওসি (অপারেশন) জাহিদ হাসান, ডিবি ইন্সপেক্টর আসলাম আলী, ডিবির এসআই ফিরোজ ও সোহেল রানা।

তদন্ত প্রধান আবদুল জলিল জানান, তাদের দ্রুত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডগুলোর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

অপরদিকে চার খুনের ঘটনায় এলাকার কেউ মুখ খুলছেন না। অনেকে পুলিশের হয়রানি ও গ্রেফতার বাণিজ্যের আশঙ্কা করছেন। হয়রানি এড়াতে অভিভাবকরা কাউকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এলাকার জনগণ ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। নিহতদের স্বজনরাও কিছু বলতে পারছেন না।

এরা শুধু বলছেন, তাদের কারো স্ত্রী নেই যে কারণে অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে আড্ডা দিত। এছাড়া মাদকসেবন করত। কেউ বলছেন, আটমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাফফর ও নির্বাচনে পরাজিত রেজাউলের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রেজাউলকে মাদক দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান মোজাফফরের বিরুদ্ধে। যদিও চেয়ারম্যান অভিযোগটি দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। জনগণের ধারণা, নিহতরা মোজাফফরের সমর্থক। আর ওই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হতে পারে।

নিহত জাকারিয়ার মা জাহানারা ও মামা মনসুর মণ্ডল জানান, জাকারিয়া অন্য এলাকার লোকজনের সঙ্গে মিশত এবং নেশা করত। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে আড্ডা দিত।

মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ায় ঘটনায় জাকারিয়ার সঙ্গে এলাকার শাহীন ও আলালের বিরোধ চলছিল। তবে তারা হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, মঙ্গলবার বিকালে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি চার খুনের ঘটনার কারণ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

তার ধারণা, নারী, মাদক বা জুয়ার কারণে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। কর্মকর্তার বিশ্বাস দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনিরা গ্রেফতার হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×