ভাবির সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া, অতঃপর...
jugantor
ভাবির সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া, অতঃপর...

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছরের ১০ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়া গ্রামের মো. জমির আলীর ছেলে রাসেল (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ১৫ জুলাই সকালে তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতর থেকে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ও পুরো গায়ে পোকায় খাওয়া পচা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।

পরে নিহতের বাবা শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের ১৪ মাস পর হত্যার রহস্য উদঘাটর করল গাজীপুর পিবিআই।

রাসেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার পাবুরিয়াচালা গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর ছেলে মো. রানা (২২), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. হেলাল (৪৫), মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে মো. কাউছার (২৩)।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত রাসেলের বাবা মো. জমির উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন রাসেলের বাবা জমির উদ্দিন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মামলা তদন্তভার নেওয়ার পর নানা দিক বিবেচনায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রানা, কাউছার ও হেলালকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, আসামি কাউছারের ভাবির সঙ্গে নিহত রাসেলের পরকীয়া ছিল। রাসেল এবং গ্রেফতারকৃত আসামি রানা একইসঙ্গে চলাফেরা করতেন। একপর্যায়ে রানার ভাবির সঙ্গে রাসেলের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। এ সম্পর্কের খবর রাসেল জানতে পারায় রাসেল-রানার বন্ধুত্বের সম্পর্কের অবনতি হয়।

২০২০ সালের ১০ জুলাই দুপুরে নিহত রাসেল ও গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে শহুরেটেক নামীয় গজারি বনের ভেতর মোবাইল ফোনে ডেকে আনেন ওই নারী। রাসেল ঘটনাস্থলে গেলে গ্রেফতারকৃত রানা, কাউছার এবং হেলালদের সহযোগিতায় গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য রশির একটি মাথা গাছে ঝুলিয়ে রাখে এবং রশির অপর মাথা লাশটির গলায় পেঁচিয়ে গাছে ঝুলাতে না পেরে মাটিতে বসিয়ে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক বছর দুই মাস আগের। গাজীপুর পিবিআই মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে তিনজন আসামিকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। মো. রানাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে আসামিদের নাম উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে তিনি জানান।

ভাবির সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া, অতঃপর...

 শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছরের ১০ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়া গ্রামের মো. জমির আলীর ছেলে রাসেল (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ১৫ জুলাই সকালে তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতর থেকে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ও পুরো গায়ে পোকায় খাওয়া পচা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।

পরে নিহতের বাবা শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের ১৪ মাস পর হত্যার রহস্য উদঘাটর করল গাজীপুর পিবিআই।

রাসেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার পাবুরিয়াচালা গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর ছেলে মো. রানা (২২), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. হেলাল (৪৫), মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে মো. কাউছার (২৩)।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত রাসেলের বাবা মো. জমির উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন রাসেলের বাবা জমির উদ্দিন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মামলা তদন্তভার নেওয়ার পর নানা দিক বিবেচনায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রানা, কাউছার ও হেলালকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, আসামি কাউছারের ভাবির সঙ্গে নিহত রাসেলের পরকীয়া ছিল। রাসেল এবং গ্রেফতারকৃত আসামি রানা একইসঙ্গে চলাফেরা করতেন। একপর্যায়ে রানার ভাবির সঙ্গে রাসেলের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। এ সম্পর্কের খবর রাসেল জানতে পারায় রাসেল-রানার বন্ধুত্বের সম্পর্কের অবনতি হয়।

২০২০ সালের ১০ জুলাই দুপুরে নিহত রাসেল ও গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে শহুরেটেক নামীয় গজারি বনের ভেতর মোবাইল ফোনে ডেকে আনেন ওই নারী। রাসেল ঘটনাস্থলে গেলে গ্রেফতারকৃত রানা, কাউছার এবং হেলালদের সহযোগিতায় গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য রশির একটি মাথা গাছে ঝুলিয়ে রাখে এবং রশির অপর মাথা লাশটির গলায় পেঁচিয়ে গাছে ঝুলাতে না পেরে মাটিতে বসিয়ে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক বছর দুই মাস আগের। গাজীপুর পিবিআই মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে তিনজন আসামিকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে।
 
গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। মো. রানাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে আসামিদের নাম উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে তিনি জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন