কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের ২০ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা
jugantor
কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের ২০ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা

  সাব্বির আহমেদ সুবীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৩৬:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের ২২১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটি নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ২০ জন নেতা ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র, প্রবাসী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার ভাইয়ের পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে স্থান পেয়েছে সন্তানের পিতা, অছাত্র, প্রবাসী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার ভাই। জেলা কমিটির নেতা ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেওয়া হয়েছে কমিটিতে। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেনি এমন অনেকেই ঠাঁই পেয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট ৭ সদস্যবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শেখ মোহাম্মদ হাফিজ উল্লাহকে সভাপতি ও রুবেল চৌধুরী ফুজায়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে যে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে ঘোষিত কমিটির কোনো মিল নেই বলে জানা গেছে।

জানা যায়, কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, আওয়ামী লীগ থেকে অনুপ্রবেশকারী, অযোগ্য এমন অনেককেই স্থান দেওয়া হয়েছে। মামলা হামলার স্বীকার হয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ছাত্রদলের পেছনে ব্যয় করার পরও অনেকের ঠাঁই হয়নি কমিটিতে। অথচ কোনো ত্যাগ স্বীকার না করেও পদ বাগিয়ে নিয়েছেন অনেকে। কোনো এক ভাইয়ের ইশারায় কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ত্যাগী নেতারা।

ছাত্রত্ব থাকা ও ন্যূনতম এসএসসি পাশের নীতিমালা আছে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে। অথচ পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেননি এমন অসংখ্য অছাত্র ঠাঁই পেয়েছেন নবগঠিত এ কমিটিতে। আছেন প্রবাসীও।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, এমন অনেকেই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন যাদের উপজেলা কমিটির নেতারা চিনেন না বা উপজেলা কমিটিতেও পদ পাননি। তারাই জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। মূলত কেন্দ্রীয় কমিটিতে লবিং করে পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ফয়জুর রহমান খোকন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পাঠানো তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিয়েছি। অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা আছেন তাই তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টা একটু বিবেচনা করেছি। আর যারা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদলের কমিটিতে আছেন তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী মুহিবুল ইসলাম ডিকন যুগান্তরকে বলেন, এ কমিটি নিয়ে আমরা হতাশ। তাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্বেচ্ছায় কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই কমিটির ৩ নম্বর সহ-সভাপতি সাঈদ হাসান সানী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসঙ্গে তাদের অসংখ্য ছবি আছে। তার বড়ভাই পাপ্পু যুবলীগ নেতা ও ছোটভাই ডেনি ছাত্রলীগ নেতা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী ফুজায়েল কমিটি নিয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি কাউকে জানাননি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাফিজ উল্লাহ কমিটি নিয়ে ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দেননি। কমিটি নিয়ে তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, যাদের ইউনিয়ন কমিটিতে থাকার মতো কোনো যোগ্যতা নেই তাদের জেলা কমিটিতে রেখে আমাদের মতো ত্যাগীদের অপমান করেছে। তাই আপাতত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করেছি।

কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের ২০ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা

 সাব্বির আহমেদ সুবীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের ২২১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটি নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ২০ জন নেতা ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র, প্রবাসী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার ভাইয়ের পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে স্থান পেয়েছে সন্তানের পিতা, অছাত্র, প্রবাসী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার ভাই। জেলা কমিটির নেতা ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেওয়া হয়েছে কমিটিতে। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেনি এমন অনেকেই ঠাঁই পেয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট ৭ সদস্যবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শেখ মোহাম্মদ হাফিজ উল্লাহকে সভাপতি ও রুবেল চৌধুরী ফুজায়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে যে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে ঘোষিত কমিটির কোনো মিল নেই বলে জানা গেছে।

জানা যায়, কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, আওয়ামী লীগ থেকে অনুপ্রবেশকারী, অযোগ্য এমন অনেককেই স্থান দেওয়া হয়েছে। মামলা হামলার স্বীকার হয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ছাত্রদলের পেছনে ব্যয় করার পরও অনেকের ঠাঁই হয়নি কমিটিতে। অথচ কোনো ত্যাগ স্বীকার না করেও পদ বাগিয়ে নিয়েছেন অনেকে। কোনো এক ভাইয়ের ইশারায় কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ত্যাগী নেতারা।

ছাত্রত্ব থাকা ও ন্যূনতম এসএসসি পাশের নীতিমালা আছে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে। অথচ পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেননি এমন অসংখ্য অছাত্র ঠাঁই পেয়েছেন নবগঠিত এ কমিটিতে। আছেন প্রবাসীও।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, এমন অনেকেই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন যাদের উপজেলা কমিটির নেতারা চিনেন না বা উপজেলা কমিটিতেও পদ পাননি। তারাই জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। মূলত কেন্দ্রীয় কমিটিতে লবিং করে পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ফয়জুর রহমান খোকন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পাঠানো তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিয়েছি। অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা আছেন তাই তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টা একটু বিবেচনা করেছি। আর যারা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদলের কমিটিতে আছেন তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী মুহিবুল ইসলাম ডিকন যুগান্তরকে বলেন, এ কমিটি নিয়ে আমরা হতাশ। তাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্বেচ্ছায় কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই কমিটির ৩ নম্বর সহ-সভাপতি সাঈদ হাসান সানী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসঙ্গে তাদের অসংখ্য ছবি আছে। তার বড়ভাই পাপ্পু যুবলীগ নেতা ও ছোটভাই ডেনি ছাত্রলীগ নেতা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী ফুজায়েল কমিটি নিয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি কাউকে জানাননি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাফিজ উল্লাহ কমিটি নিয়ে ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দেননি। কমিটি নিয়ে তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, যাদের ইউনিয়ন কমিটিতে থাকার মতো কোনো যোগ্যতা নেই তাদের জেলা কমিটিতে রেখে আমাদের মতো ত্যাগীদের অপমান করেছে। তাই আপাতত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করেছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন