সৈকতে এক মাসে ৫ জনের মৃত্যু, উদ্ধার ৩১৫
jugantor
সৈকতে এক মাসে ৫ জনের মৃত্যু, উদ্ধার ৩১৫

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৮:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার সমুদ্রে অতীতের মতো আবারো মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। করোনার কারণে দীর্ঘ ৪ মাস ১৯ দিন পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার পর গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখ খুলে দেয়া হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

খুলে দেয়ার পর থেকে গত একমাসে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে এবং ভেসে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি লাইফগার্ড কর্মীরা পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় জীবিত উদ্ধার করেছে ৩১৫ জনকে।

মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে সাগরে গোসলে নামার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ১০ নির্দেশনা জারি করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

সরেজমিন এবং পর্যটকসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ আগস্ট খুলে দেয়া হয়। অনেকদিন সমুদ্রস্নান ও বালিয়াড়িতে খেলার আনন্দ থেকে বিরত থাকা পর্যটকরা এবার মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ, হৈ-হুল্লোড়ে পুষিয়ে নিচ্ছেন বিগত দিনগুলো। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক-ওদিক।

ওয়াটার বাইক, স্পিডবোট ও সাঁতারো টায়ারে চড়ে মনের সজীবতা ফিরিয়ে আনছেন তারা। কিন্তু বেশি আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে মনের অজান্তে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছেন তারা।

সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহে সৈকতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হোটেলে উঠে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি শখের প্যারাসাইলিংয়ে চড়তে গিয়ে আহত হয়েছেন নারী পর্যটকও।

সাগরে গোসল করতে নামা পর্যটকদের জীবন রক্ষার কাছে থাকা লাইফগার্ডকর্মী শাহাদৎ হোসেন জানান, পর্যটকদের অসাবধনতা ও লাইফগাডের্র দেয়া নির্দেশনা যথা- জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, হুশিয়ারি বাঁশি, বিভিন্ন সংকেত ও লাল পতাকার সংকেত অমান্য করার কারণে বারংবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা।

এদিকে গত এক মাসে সাগরে গোসল করতে নেমে যারা মারা গেছেন তারা হলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার শ্যামলীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে তৌনিক মকবুলের (২৩)। তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে সমুদ্র থেকে পর্যটক মেহের ফারাবি অভ্রসহ দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২১ আগস্ট সাগরে গোসল করতে নেমে ভেসে যায় ইরফানুল ইসলাম নামের এক স্কুলছাত্র। পরে কলাতলীর সায়মন পয়েন্টে তার লাশ ভেসে আসে। সে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্র।

পাশাপাশি গত কয়েক দিন হোটেলে বসে অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দরিয়া নগর এলাকায় নিয়ম ভেঙে প্যারাসাইলিংয়ে চড়তে গিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার তারিকুল ইসলামের স্ত্রী তিন্নি আক্তার (২৬) মারাত্মক আহত হয়েছে।

সাগরে গোসলে নেমে মৃত্যুর ব্যাপারে লাইফগার্ডের সি সেইফ প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে সমুদ্রের অবস্থা যে রকম ছিল এখন ঠিক সে রকম নেই। প্রাকৃতিক নিয়মে সাগরের তলদেশ দিন দিন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বালু সরে গিয়ে সাগরে এখন বড় বড় গুপ্তখালের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এদিকে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে গত শুক্রবার সকালে সমুদ্রে গোসল করতে আগ্রহীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। এ সময় তিনি গোসল করতে ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, সমুদ্রের পানিতে নামার আগে ১০টি নির্দেশনা মানতে হবে পর্যটকসহ সবাইকে; যা আমরা সতর্ক বার্তা হিসেবে নির্ণয় করেছি। এ নির্দেশনা সৈকতের উল্লেখযোগ্য পয়েন্টে লাগানো হয়েছে। পর্যটকদের জানা উচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাইফগার্ড আছে। এখানে সিকিউরিটির ব্যবস্থা আছে। কোন চিহ্ন দিয়ে কি অর্থ প্রকাশ পায়, লাল পতাকার অর্থ কী ইত্যাদি।

তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে যারা কক্সবাজার সৈকতে বেড়াতে আসেন তারা অনেক সময় সিগন্যালগুলো খেয়াল করতে পারে না। তাদের অবগতির জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য এখানকার বিচকর্মীরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছেন।

সৈকতে এক মাসে ৫ জনের মৃত্যু, উদ্ধার ৩১৫

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
ফাইল ছবি

কক্সবাজার সমুদ্রে অতীতের মতো আবারো মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। করোনার কারণে দীর্ঘ ৪ মাস ১৯ দিন পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার পর গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখ খুলে দেয়া হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

খুলে দেয়ার পর থেকে গত একমাসে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে এবং ভেসে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি লাইফগার্ড কর্মীরা পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় জীবিত উদ্ধার করেছে ৩১৫ জনকে।

মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে সাগরে গোসলে নামার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ১০ নির্দেশনা জারি করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।  

সরেজমিন এবং পর্যটকসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ আগস্ট খুলে দেয়া হয়। অনেকদিন সমুদ্রস্নান ও বালিয়াড়িতে খেলার আনন্দ থেকে বিরত থাকা পর্যটকরা এবার মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ, হৈ-হুল্লোড়ে পুষিয়ে নিচ্ছেন বিগত দিনগুলো। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক-ওদিক।

ওয়াটার বাইক, স্পিডবোট ও সাঁতারো টায়ারে চড়ে মনের সজীবতা ফিরিয়ে আনছেন তারা। কিন্তু বেশি আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে মনের অজান্তে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছেন তারা। 

সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহে সৈকতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হোটেলে উঠে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি শখের প্যারাসাইলিংয়ে চড়তে গিয়ে আহত হয়েছেন নারী পর্যটকও।

সাগরে গোসল করতে নামা পর্যটকদের জীবন রক্ষার কাছে থাকা লাইফগার্ডকর্মী শাহাদৎ হোসেন জানান, পর্যটকদের অসাবধনতা ও লাইফগাডের্র দেয়া নির্দেশনা যথা- জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, হুশিয়ারি বাঁশি, বিভিন্ন সংকেত ও লাল পতাকার সংকেত অমান্য করার কারণে বারংবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা। 

এদিকে গত এক মাসে সাগরে গোসল করতে নেমে যারা মারা গেছেন তারা হলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার শ্যামলীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে তৌনিক মকবুলের (২৩)। তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে সমুদ্র থেকে পর্যটক মেহের ফারাবি অভ্রসহ দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২১ আগস্ট সাগরে গোসল করতে নেমে ভেসে যায় ইরফানুল ইসলাম নামের এক স্কুলছাত্র। পরে কলাতলীর সায়মন পয়েন্টে তার লাশ ভেসে আসে। সে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্র।

পাশাপাশি গত কয়েক দিন হোটেলে বসে অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দরিয়া নগর এলাকায় নিয়ম ভেঙে প্যারাসাইলিংয়ে চড়তে গিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার তারিকুল ইসলামের স্ত্রী তিন্নি আক্তার (২৬) মারাত্মক আহত  হয়েছে।

সাগরে গোসলে নেমে মৃত্যুর ব্যাপারে লাইফগার্ডের সি সেইফ প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে সমুদ্রের অবস্থা যে রকম ছিল এখন ঠিক সে রকম নেই। প্রাকৃতিক নিয়মে সাগরের তলদেশ দিন দিন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বালু সরে গিয়ে সাগরে এখন বড় বড় গুপ্তখালের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এদিকে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে গত শুক্রবার সকালে সমুদ্রে গোসল করতে আগ্রহীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। এ সময় তিনি গোসল করতে ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, সমুদ্রের পানিতে নামার আগে ১০টি নির্দেশনা মানতে হবে পর্যটকসহ সবাইকে; যা আমরা সতর্ক বার্তা হিসেবে নির্ণয় করেছি। এ নির্দেশনা সৈকতের উল্লেখযোগ্য পয়েন্টে লাগানো হয়েছে। পর্যটকদের জানা উচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাইফগার্ড আছে। এখানে সিকিউরিটির ব্যবস্থা আছে। কোন চিহ্ন দিয়ে কি অর্থ প্রকাশ পায়, লাল পতাকার অর্থ কী ইত্যাদি।

তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে যারা কক্সবাজার সৈকতে বেড়াতে আসেন তারা অনেক সময় সিগন্যালগুলো খেয়াল করতে পারে না। তাদের অবগতির জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য এখানকার বিচকর্মীরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন