পানির উপর হচ্ছে শসা, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স
jugantor
পানির উপর হচ্ছে শসা, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১৪:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি বছর নেত্রকোনার হাওড় অঞ্চলে শাকসবজির আবাদ করা যায়নি। তাই বিকল্প পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে শাকসবজির আবাদ।

বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে শসা, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। অভিনব এ পদ্ধতিতে কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় খুশি চাষীরাও। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে এ সবজি আবাদে নেত্রকোনাসহ আশপাশের এলাকায় মিটছে চাহিদা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার জেলার পূর্বধলার কোমা বিল একসময় ভরে থাকতো কচুরিপানায়। এখন সেখানে ভাসমান পদ্ধতিতে শাকসবজির আবাদ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে আবাদ করেছেন উচ্চ ফলনশীল সুন্দরী জাতের লাউ, শসাসহ অন্যান্য সবজির।

অসময়ে উৎপাদিত এসব লাউ ও চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে, টমেটো কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

পূর্বধলার কোমা বিলে ভাসমান সবজি চাষী মো. আব্দুল মোনায়েম খান বলেন, ভাসমান পদ্ধতিতে সার, কীটনাশকসহ বাড়তি খরচ না থাকায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। এক সময় বর্ষাকালে কর্মহীন থাকতো এই এলাকার মানুষ। আর এখন ভাসমান সবজির চাষ করে সবাই স্বাবলম্বী। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

ওই এলাকার দিগজান গ্রামের কৃষক সুহেল মিয়া, আব্দুস সালাম, আবুল কালাম, মো. শহীদ মিয়া বাদশা মিয়া, ছোচাউড়া গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক, খোকন মিয়া বলেন, আমরা এক সময় বর্ষাকালে আড্ডা দিতাম। এখন বাড়ির পাশের বিলে কচুরিপানা জমাট করে স্তূপ দিয়ে তার উপরে বিভিন্ন শাক সবজির চাষ করি। অল্প কিছু দিনেই ভালো ফলন হয়। কোনো সার কীটনাশক লাগে না। নিজেদের শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে আমরা বাজারেও বিক্রি করতে পারি।

পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় কয়েকশ একর জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি আবাদ হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কম খরচে লাভবান হওয়ায় ভাসমান সবজির আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফএম মোবারক আলী বলেন, শুধু পূর্বধলাই নয় নেত্রকোনা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় ভাসমান এ পদ্ধতিতে শাকসবজির আবাদ শুরু হয়েছে। অসময়ে শাকসবজির চাষাবাদ হাওড়াঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে দিলে একদিকে যেমন মিটবে চাহিদা অন্যদিকে ফিরে আসবে কৃষকদের সচ্ছলতাও। অসময়ে সবজি চাষে চাষীরা কয়েকগুণ লাভে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

পানির উপর হচ্ছে শসা, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি বছর নেত্রকোনার হাওড় অঞ্চলে শাকসবজির আবাদ করা যায়নি। তাই বিকল্প পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে শাকসবজির আবাদ।

বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে শসা, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। অভিনব এ পদ্ধতিতে কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় খুশি চাষীরাও। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে এ সবজি আবাদে নেত্রকোনাসহ আশপাশের এলাকায় মিটছে চাহিদা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার জেলার পূর্বধলার কোমা বিল একসময় ভরে থাকতো কচুরিপানায়। এখন সেখানে ভাসমান পদ্ধতিতে শাকসবজির আবাদ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে আবাদ করেছেন উচ্চ ফলনশীল সুন্দরী জাতের লাউ, শসাসহ অন্যান্য সবজির।

অসময়ে উৎপাদিত এসব লাউ ও চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে, টমেটো কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

পূর্বধলার কোমা বিলে ভাসমান সবজি চাষী মো. আব্দুল মোনায়েম খান বলেন, ভাসমান পদ্ধতিতে সার, কীটনাশকসহ বাড়তি খরচ না থাকায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। এক সময় বর্ষাকালে কর্মহীন থাকতো এই এলাকার মানুষ। আর এখন ভাসমান সবজির চাষ করে সবাই স্বাবলম্বী। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

ওই এলাকার দিগজান গ্রামের কৃষক সুহেল মিয়া, আব্দুস সালাম, আবুল কালাম, মো. শহীদ মিয়া বাদশা মিয়া, ছোচাউড়া গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক, খোকন মিয়া বলেন, আমরা এক সময় বর্ষাকালে আড্ডা দিতাম। এখন বাড়ির পাশের বিলে কচুরিপানা জমাট করে স্তূপ দিয়ে তার উপরে বিভিন্ন শাক সবজির চাষ করি। অল্প কিছু দিনেই ভালো ফলন হয়। কোনো সার কীটনাশক লাগে না। নিজেদের শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে আমরা বাজারেও বিক্রি করতে পারি।

পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় কয়েকশ একর জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি আবাদ হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কম খরচে লাভবান হওয়ায় ভাসমান সবজির আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফএম মোবারক আলী বলেন, শুধু পূর্বধলাই নয় নেত্রকোনা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় ভাসমান এ পদ্ধতিতে শাকসবজির আবাদ শুরু হয়েছে। অসময়ে শাকসবজির চাষাবাদ হাওড়াঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে দিলে একদিকে যেমন মিটবে চাহিদা অন্যদিকে ফিরে আসবে কৃষকদের সচ্ছলতাও। অসময়ে সবজি চাষে চাষীরা কয়েকগুণ লাভে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন