অবশেষে বাড়ি-ভিটা দান করে দিতে চান তারা!
jugantor
অবশেষে বাড়ি-ভিটা দান করে দিতে চান তারা!

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৪:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভূমি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে বাড়ি-ভিটাছাড়া হয়েছেন এক অসহায় নারী। সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ বসতভিটায় থাকতে না পেরে অবশেষে তা সরকারের উন্নয়নমূলক কোনো কাজে বা সামাজিক মহৎ কোনো কাজে দান করে দিতে চায় ওই নারীর পরিবার।

এ ঘটনায় নির্যাতিত পরিবারটি রোববার বিকালে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ আকুতি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরজাহান মোরসালিন সীমা (৪৩) জানান, ২০১২ সালের ২৯ মে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অন্তপুর গ্রামের মামাশ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ ও মহিউল ইসলাম সাজুর কাছ থেকে তিনি ২৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ওই জমি খারিজ করে নিজ নামে নেন। তারপর থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছেন। ২০১৮ সালে এসে অপর মামাশ্বশুর আজিজুল ইসলাম মুকুল ওই জায়গায় তার অংশ আছে বলে দাবি করেন। ঘটনার সূত্রপাত ওখান থেকেই শুরু।

তিনি বলেন, এরপর আজিজুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য ধাপে ধাপে প্রায় ২ লাখ টাকা সীমার কাছ থেকে নেন। এরপর নানা টালবাহনা করে মামাশ্বশুর মুকুল, সাজু ও সামছুল গং বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকেন। সীমার স্বামী ঢাকায় চাকরির সুবাদে তিনিসহ পরিবারের লোকজন ঢাকায় অবস্থান করাকালীন মুকুল গং বসতভিটার দখল নিতে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে থাকা একাধিক গাছ কেটে ফেলেন এবং ভুক্তভোগীর বসতঘর দখল করে নেন।

এ ঘটনায় মামলা করায় মুকুল ও সামছুল গং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২০ সালের আগস্টে সীমার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করাসহ শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় সীমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া নুরজাহান মোরসালিন সীমা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ওসির কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষকে নিয়ে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মিটিং করে থানা পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। মুকুল ও সামছুল গং পুলিশের সামনে মীমাংসা মেনে নিলেও পরবর্তীতে তারা তা রক্ষা করেনি। এরপর প্রশাসনের পরামর্শে ভুক্তভোগী সীমা আদালতে মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর মুকুল ও সামছুল গং আমাকে (সীমা) মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে মামলার কাজে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামে গেলে সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিকুঞ্জ স্কুলের গেটের সামনে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করাকালীন তিনজন সন্ত্রাসী এসে তাকে পিস্তল দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেন এবং মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করাসহ ওই বসতভিটা ছেড়ে দিতে বলেন। সেই থেকে জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন তিনি।

রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নুরজাহান মোরসালিন সীমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, আপনারা সবাই মিলে হয় ওই জায়গাটি বিক্রি করে দেন। না হলে সরকারের উন্নয়নমূলক কোনো কাজে বা সামাজিক কোনো মহৎ কাজে দান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, এতেও আমি শান্তি পাব। তবুও মামাশ্বশুর মুকুল ও সামছুল গংদের হাত থেকে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করেন।

আজিজুল ইসলাম মুকুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সীমা ২৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে তিনি ১৮ শতাংশের মালিক। কারণ ওই জমিতে আমারও অংশ রয়েছে। আর সামছুল আমার আশ্রিত। সে আমার জমিতেই আছে।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে গিয়েছে তাই এ নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো আমরা দেখছি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নুরজাহান মোরসালিন সীমার স্বামী গোলাম সরোয়ার মোরসালিন টুটুল, জমি বিক্রেতা অপর এক মামাশ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ প্রমুখ।

অবশেষে বাড়ি-ভিটা দান করে দিতে চান তারা!

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভূমি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে বাড়ি-ভিটাছাড়া হয়েছেন এক অসহায় নারী। সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ বসতভিটায় থাকতে না পেরে অবশেষে তা সরকারের উন্নয়নমূলক কোনো কাজে বা সামাজিক মহৎ কোনো কাজে দান করে দিতে চায় ওই নারীর পরিবার।

এ ঘটনায় নির্যাতিত পরিবারটি রোববার বিকালে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ আকুতি জানায়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরজাহান মোরসালিন সীমা (৪৩) জানান, ২০১২ সালের ২৯ মে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অন্তপুর গ্রামের মামাশ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ ও মহিউল ইসলাম সাজুর কাছ থেকে তিনি ২৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ওই জমি খারিজ করে নিজ নামে নেন। তারপর থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছেন। ২০১৮ সালে এসে অপর মামাশ্বশুর আজিজুল ইসলাম মুকুল ওই জায়গায় তার অংশ আছে বলে দাবি করেন। ঘটনার সূত্রপাত ওখান থেকেই শুরু। 

তিনি বলেন, এরপর আজিজুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য ধাপে ধাপে প্রায় ২ লাখ টাকা সীমার কাছ থেকে নেন। এরপর নানা টালবাহনা করে মামাশ্বশুর মুকুল, সাজু ও সামছুল গং বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকেন। সীমার স্বামী ঢাকায় চাকরির সুবাদে তিনিসহ পরিবারের লোকজন ঢাকায় অবস্থান করাকালীন মুকুল গং বসতভিটার দখল নিতে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে থাকা একাধিক গাছ কেটে ফেলেন এবং ভুক্তভোগীর বসতঘর দখল করে নেন। 

এ ঘটনায় মামলা করায় মুকুল ও সামছুল গং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২০ সালের আগস্টে সীমার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করাসহ শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় সীমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া নুরজাহান মোরসালিন সীমা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ওসির কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষকে নিয়ে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মিটিং করে থানা পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। মুকুল ও সামছুল গং পুলিশের সামনে মীমাংসা মেনে নিলেও পরবর্তীতে তারা তা রক্ষা করেনি। এরপর প্রশাসনের পরামর্শে ভুক্তভোগী সীমা আদালতে মামলা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর মুকুল ও সামছুল গং আমাকে (সীমা) মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে মামলার কাজে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামে গেলে সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিকুঞ্জ স্কুলের গেটের সামনে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করাকালীন তিনজন সন্ত্রাসী এসে তাকে পিস্তল দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেন এবং মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করাসহ ওই বসতভিটা ছেড়ে দিতে বলেন। সেই থেকে জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন তিনি।

রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নুরজাহান মোরসালিন সীমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, আপনারা সবাই মিলে হয় ওই জায়গাটি বিক্রি করে দেন। না হলে সরকারের উন্নয়নমূলক কোনো কাজে বা সামাজিক কোনো মহৎ কাজে দান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, এতেও আমি শান্তি পাব। তবুও মামাশ্বশুর মুকুল ও সামছুল গংদের হাত থেকে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করেন। 

আজিজুল ইসলাম মুকুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সীমা ২৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে তিনি ১৮ শতাংশের মালিক। কারণ ওই জমিতে আমারও অংশ রয়েছে। আর সামছুল আমার আশ্রিত। সে আমার জমিতেই আছে।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে গিয়েছে তাই এ নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো আমরা দেখছি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নুরজাহান মোরসালিন সীমার স্বামী গোলাম সরোয়ার মোরসালিন টুটুল, জমি বিক্রেতা অপর এক মামাশ্বশুর আমিরুল ইসলাম চাঁদ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন