ধাওয়া খেয়ে জেলের মৃত্যুতে তোলপাড়, ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ ৪ নৌ পুলিশ
jugantor
ধাওয়া খেয়ে জেলের মৃত্যুতে তোলপাড়, ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ ৪ নৌ পুলিশ

  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৭:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ পাড়ের চরবালিয়াতলীতে পুলিশি ধাওয়ায় জেলে সুজন হাওলাদারের (৩০) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে। জেলেসহ স্থানীয় শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ সুজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দাবি করে নৌপুলিশকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে অবরুদ্ধ রাখে। বিরাজ করে চরম উত্তেজনা।

কলাপাড়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহায়তায় অবরুদ্ধ নৌপুলিশের এএসআই মামুনসহ তার সহযোগীদের ছয় ঘণ্টা পরে উদ্ধার করেন। জেলে ও স্থানীয় মানুষ জড়িত নৌ-পুলিশের সদস্যদের বিচারের দাবিতে শেষে বিকালে বিক্ষোভ করেছে। বর্তমানে নিহত জেলে সুজনের লাশ কলাপাড়া হাসপাতালে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নৌপুলিশের সদস্যরা ট্রলারযোগে জেলেদের অনেকক্ষণ ধাওয়া করলে জেলেরা তাদের ট্রলারটি কিনারে ভিড়ে চারজনে দৌড়ে পালায়। ট্রলারে থাকা সুজনকে নৌপুলিশ ধরে পেটায়। ট্রলারের জালের ওপরে সুজন অচেতন হয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে যায় সুজন মারা গেছে। এতে বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ ও জেলেরা নৌপুলিশের সদস্যদের ট্রলারসহ অবরুদ্ধ করে রাখে। অচেতন সুজনকে প্রথমে বাবলাতলা বাজারে নিয়ে যায় স্বজনরা।

তবে অভিযুক্ত এএসআই মামুন জানান, তারা টহল দিচ্ছিলেন, এ সময় তাদের দেখে সুজনদের ট্রলারটি দ্রুত চালিয়ে কিনারে ভিড়ায়। অপর জেলেরা দৌড়ে চলে যায়। এ সময় তারা ট্রলারের কাছে গিয়ে জালের ওপরে সুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ট্রলারে কারেন্ট জাল ছিল বলে পুলিশ দেখে ওরা পালাচ্ছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মামুন। পেটানোর কথা অস্বীকার করেন তিনি।

লালুয়ার বানাতিবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন খবর শুনে কর্মস্থলে আসতেছেন। ঘটনাস্থলে কলাপাড়া থানা পুলিশ রয়েছে।

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষকে উত্তেজিত দেখি এবং তাদের শান্ত করে করে অবরুদ্ধ ৪ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি।

নিহত সুজনের মামা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ওদের ট্রলার নৌপুলিশ ধাওয়া করে চিপা খালে ঢুকায়। সেখান থেকে চারজন লাফাইয়া পইড়্যা কিনারে আয়। আর সুজন ট্রলারের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে আছিল। প্রথমে বাবলা তলার ডাক্তারদের কাছে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে আসেন।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, হাজার হাজার মানুষ নৌপুলিশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কলাপাড়া ও মহিপুর থেকে ২০-২৫ জন পুলিশ এসেছে। তাদের শান্ত করে নৌপুলিশের সদস্যদের নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে একাধিক অফিসারের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স গেছেন।

ধাওয়া খেয়ে জেলের মৃত্যুতে তোলপাড়, ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ ৪ নৌ পুলিশ

 কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ পাড়ের চরবালিয়াতলীতে পুলিশি ধাওয়ায় জেলে সুজন হাওলাদারের (৩০) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে। জেলেসহ স্থানীয় শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ সুজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দাবি করে নৌপুলিশকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে অবরুদ্ধ রাখে। বিরাজ করে চরম উত্তেজনা।

কলাপাড়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহায়তায় অবরুদ্ধ নৌপুলিশের এএসআই মামুনসহ তার সহযোগীদের ছয় ঘণ্টা পরে উদ্ধার করেন। জেলে ও স্থানীয় মানুষ জড়িত নৌ-পুলিশের সদস্যদের বিচারের দাবিতে শেষে বিকালে বিক্ষোভ করেছে। বর্তমানে নিহত জেলে সুজনের লাশ কলাপাড়া হাসপাতালে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নৌপুলিশের সদস্যরা ট্রলারযোগে জেলেদের অনেকক্ষণ ধাওয়া করলে জেলেরা তাদের ট্রলারটি কিনারে ভিড়ে চারজনে দৌড়ে পালায়। ট্রলারে থাকা সুজনকে নৌপুলিশ ধরে পেটায়। ট্রলারের জালের ওপরে সুজন অচেতন হয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে যায় সুজন মারা গেছে। এতে বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ ও জেলেরা নৌপুলিশের সদস্যদের ট্রলারসহ অবরুদ্ধ করে রাখে। অচেতন সুজনকে প্রথমে বাবলাতলা বাজারে নিয়ে যায় স্বজনরা।

তবে অভিযুক্ত এএসআই মামুন জানান, তারা টহল দিচ্ছিলেন, এ সময় তাদের দেখে সুজনদের ট্রলারটি দ্রুত চালিয়ে কিনারে ভিড়ায়। অপর জেলেরা দৌড়ে চলে যায়। এ সময় তারা ট্রলারের কাছে গিয়ে জালের ওপরে সুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ট্রলারে কারেন্ট জাল ছিল বলে পুলিশ দেখে ওরা পালাচ্ছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মামুন। পেটানোর কথা অস্বীকার করেন তিনি।

লালুয়ার বানাতিবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন খবর শুনে কর্মস্থলে আসতেছেন। ঘটনাস্থলে কলাপাড়া থানা পুলিশ রয়েছে।

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষকে উত্তেজিত দেখি এবং তাদের শান্ত করে করে অবরুদ্ধ ৪ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি।

 নিহত সুজনের মামা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ওদের ট্রলার নৌপুলিশ ধাওয়া করে চিপা খালে ঢুকায়। সেখান থেকে চারজন লাফাইয়া পইড়্যা কিনারে আয়। আর সুজন ট্রলারের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে আছিল। প্রথমে বাবলা তলার ডাক্তারদের কাছে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে আসেন।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, হাজার হাজার মানুষ নৌপুলিশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কলাপাড়া ও মহিপুর থেকে ২০-২৫ জন পুলিশ এসেছে। তাদের শান্ত করে নৌপুলিশের সদস্যদের নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে একাধিক অফিসারের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স গেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন