চাকরির কথা বলে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি, যুবকের ঝলসানো লাশ
jugantor
চাকরির কথা বলে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি, যুবকের ঝলসানো লাশ

  বগুড়া ব্যুরো  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০৭:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার রেজাউল করিম নামে এক যুবককে পদ্মা সেতুতে চাকরি দেওয়ার নামে মাদারীপুরের শিবচরে ডেকে স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছু টাকা নেওয়ার পরও তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর এসিড বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছে।

শিবচর থানা পুলিশ সোমবার রাতে উপজেলার মাতবর চরের মোল্লা বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে রেজাউল করিমের লাশ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার বিকালে ওই থানার এসআই সঞ্জিব জোয়ারদার এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, অপহরণের পর মুক্তিপণ না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। লাশ মাদারীপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের বোন রাবেয়া খাতুন মিষ্টি দাবি করেন, নেপালের সহকর্মী রোলাস রনি নামে এক যুবক ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ না পেয়ে তার ভাইকে হত্যা করেছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রেজাউল করিম বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুরের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। কিছুদিন আগে রেজাউল কাজের জন্য নেপালে ছিলেন। সেখানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চরআমলা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে রোলাস রনির সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখানে সুবিধা না করতে পেরে দুজনই ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে আসেন। রনির শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। পরবর্তীতে রেজাউল করিম ঢাকার একটি ফাস্টফুড শপে চাকরি নেন।

রেজাউলের বোন রাবেয়া খাতুন মিষ্টি জানান, নেপালের সাবেক সহকর্মী রোলাস রনি গত ১০ সেপ্টেম্বর ফোনে বগুড়ায় অবস্থানরত রেজাউলকে পদ্মা সেতুতে কাজের প্রস্তাব দেন। ফোন পেয়ে রেজাউল মাদারীপুরের দিকে রওনা দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রেজাউল জানান, তিনি লঞ্চের মধ্যে আছেন; আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রনির কাছে পৌঁছবেন।

এরপর থেকে রেজাউলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে রেজাউলের ফোন দিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের জানানো হয় তিনি তাদের জিম্মায় আছেন। সুস্থভাবে ফিরে পেতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিশ্বাস হওয়ার জন্য তারা রেজাউলের হাত-পা বাঁধা ছবি ইমু/ম্যাসেঞ্জারে দেন। স্বজনরা তাদের নিবৃত করতে তিন হাজার ১০০ টাকা বিকাশ করেন।

পরে তারা বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় অবহিত করে সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল ক্যাম্পে জানানো হয়। পরে দুর্বৃত্তরা জানান, রেজাউল অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার লাগবে। এরপর থেকে ফোন বন্ধ ও গত ১০ দিনে রেজাউলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বগুড়ার পুলিশের একটি দল শিবচরে গেলেও স্ত্রী ও ভাই রোলাস রনির সন্ধান দিতে পারেননি।

নিহতের ছেলে রিয়াদ সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।

মাদারীপুরের শিবচর থানার এসআই সঞ্জিব জোয়ারদার জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাতবর ইউনিয়নের মোল্লার বাজারে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বগুড়ার রেজাউল করিমের হাত-পা বাঁধ ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য পদ্মা সেতুতে চাকরি দেওয়ার নামে তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। মুক্তিপণ কিছু পেলে দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনরা ইচ্ছা করলে বগুড়া সদর থানা বা মাদারীপুরের শিবচর থানায় মামলা করতে পারেন।

চাকরির কথা বলে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি, যুবকের ঝলসানো লাশ

 বগুড়া ব্যুরো 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার রেজাউল করিম নামে এক যুবককে পদ্মা সেতুতে চাকরি দেওয়ার নামে মাদারীপুরের শিবচরে ডেকে স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছু টাকা নেওয়ার পরও তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর এসিড বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছে।

শিবচর থানা পুলিশ সোমবার রাতে উপজেলার মাতবর চরের মোল্লা বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে রেজাউল করিমের লাশ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার বিকালে ওই থানার এসআই সঞ্জিব জোয়ারদার এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, অপহরণের পর মুক্তিপণ না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। লাশ মাদারীপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের বোন রাবেয়া খাতুন মিষ্টি দাবি করেন, নেপালের সহকর্মী রোলাস রনি নামে এক যুবক ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ না পেয়ে তার ভাইকে হত্যা করেছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রেজাউল করিম বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুরের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। কিছুদিন আগে রেজাউল কাজের জন্য নেপালে ছিলেন। সেখানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চরআমলা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে রোলাস রনির সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখানে সুবিধা না করতে পেরে দুজনই ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে আসেন। রনির শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। পরবর্তীতে রেজাউল করিম ঢাকার একটি ফাস্টফুড শপে চাকরি নেন।

রেজাউলের বোন রাবেয়া খাতুন মিষ্টি জানান, নেপালের সাবেক সহকর্মী রোলাস রনি গত ১০ সেপ্টেম্বর ফোনে বগুড়ায় অবস্থানরত রেজাউলকে পদ্মা সেতুতে কাজের প্রস্তাব দেন। ফোন পেয়ে রেজাউল মাদারীপুরের দিকে রওনা দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রেজাউল জানান, তিনি লঞ্চের মধ্যে আছেন; আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রনির কাছে পৌঁছবেন।

এরপর থেকে রেজাউলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে রেজাউলের ফোন দিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের জানানো হয় তিনি তাদের জিম্মায় আছেন। সুস্থভাবে ফিরে পেতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিশ্বাস হওয়ার জন্য তারা রেজাউলের হাত-পা বাঁধা ছবি ইমু/ম্যাসেঞ্জারে দেন। স্বজনরা তাদের নিবৃত করতে তিন হাজার ১০০ টাকা বিকাশ করেন।

পরে তারা বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় অবহিত করে সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল ক্যাম্পে জানানো হয়। পরে দুর্বৃত্তরা জানান, রেজাউল অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার লাগবে। এরপর থেকে ফোন বন্ধ ও গত ১০ দিনে রেজাউলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বগুড়ার পুলিশের একটি দল শিবচরে গেলেও স্ত্রী ও ভাই রোলাস রনির সন্ধান দিতে পারেননি।

নিহতের ছেলে রিয়াদ সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।

মাদারীপুরের শিবচর থানার এসআই সঞ্জিব জোয়ারদার জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাতবর ইউনিয়নের মোল্লার বাজারে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বগুড়ার রেজাউল করিমের হাত-পা বাঁধ ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য পদ্মা সেতুতে চাকরি দেওয়ার নামে তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। মুক্তিপণ কিছু পেলে দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনরা ইচ্ছা করলে বগুড়া সদর থানা বা মাদারীপুরের শিবচর থানায় মামলা করতে পারেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন