স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে ভাটা মালিকের অভিনব প্রতারণা
jugantor
স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে ভাটা মালিকের অভিনব প্রতারণা

  কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৪৭:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের এমএনএইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের বিরুদ্ধে স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতেরঅভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এইঅভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কয়ছর রশীদ। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনেমুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আজাদ আলী, আবুল কাসেম উসমানী, রুবেল আহমদ ও জালাল উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১০ বছর ধরে উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের এমএনএইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদআলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন প্রতি বছর স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন ধাপে কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৩৫ জন মানুষের কাছ থেকে অগ্রীম৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। মূলত স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ইট না দিয়ে নানান টালবাহানা শুরু করেন নজিবুর রহমান ও মানিক বর্ধন। বর্তমানে মানিকগা ঢাকা দিয়েছেন এবং ভাটার মালিক মালিক নজিবুর রহমান এলাকায় প্রকাশ্যেঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি এখন সপরিবারে বিদেশ চলে যাওয়ার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), অফিসার ইনর্চাজ ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কয়ছর রশীদ ও জসীম উদ্দিন জানান,২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিভিন্ন ধাপে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন তাদের কাছ থেকে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা নেন। বিনিময়ে ইট বিক্রির মৌসুমে বাজার মূল্য থেকে তাদের কাছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে কাছে ইট বিক্রির কথা দেন।

কয়ছর রশীদ বলেন, এ শর্তে আমাদের রশিদ দেওয়া হয়। কিন্তু মৌসুমে আমরা ইট সংগ্রহ করতে গেলে বলে, ‘ইট পোড়ানো হয়নি, ইট প্রস্তত হলে দেওয়া হবে।’ অথচ মৌসুমে বাইরে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে তারা ঠিকই ইট বিক্রি করেছেন। বিষয়টি আমরা জেনে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান কাছে গেলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, চুন্নুমিয়ার কাছ থেকে ৪১ লাখ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার, আব্দুস সালাম ৭ লাখ, ইউসুফ আলী ৩০ লাখ, আবুল কাশেম ওসমানী ১ লাখ ৫০ হাজার, সমোজ মিয়া ১ লাখ ৯২ হাজার, তজম্মল আলী ১ লাখ ২৬ হাজার, আজাদ আলী ১ লাখ ৬০ হাজার, মসুদ আহমদ ৩ লাখ ৫০ হাজার, রুবেল আহমদ ৯ লাখ, গিয়াস আহমদ ৪ লাখ ৫০ হাজার, ওসমান আলী ৩ লাখ, মুশিউর রহমান ২ লাখ, হাজির মিয়া ৩ লাখ, আব্দুল মজিদ ৩ লাখ, নাজমা বেগম ১ লাখ, খুশবা বেগম ৩ লাখ, মিছবা বেগম ৩ লাখ ৭০ হাজার, লোকমান মিয়া ৬ লাখ ৬০ হাজার, মতিন মিয়া ৫ লাখ, পায়েল মিয়া ১ লাখ টাকাসহ আরও শত শত লোকদের কাছ থেকে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিনিময়ে সবাইকে ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের স্বাক্ষরিত একটি রশিদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইট ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ইট ভাটার মালিক নজিবুর রহমান ওরফে মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৬ সালে আমার ইট ভাটাটি ব্যবস্থাপক মানিকের কাছে লিজ দিয়েছি। সে এখন ব্যবসা পরিচালনা করছে।

৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মালিক আমি একা নই, আলী হায়দার ও নোমান নামে আরও দু’জন রয়েছেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন সবকিছু জানেন। তার সাথে গ্রাহকরা লেনদেন করেছেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী মানিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পর থেকে সে এখন উধাও রয়েছে।

বিষয়টি অবহিত করলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ইট ভাটার মালিককে নোটিশ করব। যেহেতু টাকার পরিমাণ অনেক বেশি, তাই ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে ভাটা মালিকের অভিনব প্রতারণা

 কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের এমএনএইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের বিরুদ্ধে স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এই অভিযোগ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কয়ছর রশীদ। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আজাদ আলী, আবুল কাসেম উসমানী, রুবেল আহমদ ও জালাল উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১০ বছর ধরে উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের এমএনএইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন প্রতি বছর স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন ধাপে কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৩৫ জন মানুষের কাছ থেকে অগ্রীম ৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। মূলত স্বল্পমূল্যে ইট বিক্রির নামে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ইট না দিয়ে নানান টালবাহানা শুরু করেন নজিবুর রহমান ও মানিক বর্ধন। বর্তমানে মানিক গা ঢাকা দিয়েছেন এবং ভাটার মালিক মালিক নজিবুর রহমান এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি এখন সপরিবারে বিদেশ চলে যাওয়ার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), অফিসার ইনর্চাজ ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী কয়ছর রশীদ ও জসীম উদ্দিন জানান, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিভিন্ন ধাপে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন তাদের কাছ থেকে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা নেন। বিনিময়ে ইট বিক্রির মৌসুমে বাজার মূল্য থেকে তাদের কাছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে কাছে ইট বিক্রির কথা দেন। 

কয়ছর রশীদ বলেন,  এ শর্তে আমাদের রশিদ দেওয়া হয়। কিন্তু মৌসুমে আমরা ইট সংগ্রহ করতে গেলে বলে, ‘ইট পোড়ানো হয়নি, ইট প্রস্তত হলে দেওয়া হবে।’  অথচ মৌসুমে বাইরে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে তারা ঠিকই ইট বিক্রি করেছেন। বিষয়টি আমরা জেনে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান কাছে গেলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, চুন্নু মিয়ার কাছ থেকে ৪১ লাখ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার, আব্দুস সালাম ৭ লাখ, ইউসুফ আলী ৩০ লাখ, আবুল কাশেম ওসমানী ১ লাখ ৫০ হাজার, সমোজ মিয়া ১ লাখ ৯২ হাজার, তজম্মল আলী ১ লাখ ২৬ হাজার, আজাদ আলী ১ লাখ ৬০ হাজার, মসুদ আহমদ ৩ লাখ ৫০ হাজার, রুবেল আহমদ ৯ লাখ, গিয়াস আহমদ ৪ লাখ ৫০ হাজার, ওসমান আলী ৩ লাখ, মুশিউর রহমান ২ লাখ, হাজির মিয়া ৩ লাখ, আব্দুল মজিদ ৩ লাখ, নাজমা বেগম ১ লাখ, খুশবা বেগম ৩ লাখ, মিছবা বেগম ৩ লাখ ৭০ হাজার, লোকমান মিয়া ৬ লাখ ৬০ হাজার, মতিন মিয়া ৫ লাখ, পায়েল মিয়া ১ লাখ টাকাসহ আরও শত শত লোকদের কাছ থেকে তারা লাখ লাখ  টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিনিময়ে সবাইকে ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের স্বাক্ষরিত একটি রশিদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইট ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ইট ভাটার মালিক নজিবুর রহমান ওরফে মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৬ সালে আমার ইট ভাটাটি ব্যবস্থাপক মানিকের কাছে লিজ দিয়েছি। সে এখন ব্যবসা পরিচালনা করছে। 

৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মালিক আমি একা নই, আলী হায়দার ও নোমান নামে আরও দু’জন রয়েছেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন সবকিছু জানেন। তার সাথে গ্রাহকরা লেনদেন করেছেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী মানিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পর থেকে সে এখন উধাও রয়েছে।

বিষয়টি অবহিত করলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ইট ভাটার মালিককে নোটিশ করব। যেহেতু টাকার পরিমাণ অনেক বেশি, তাই ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন