‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ মেঘনাদ দে’র মৃত্যু, স্বীকৃতি পাননি জীবদ্দশায়
jugantor
‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ মেঘনাদ দে’র মৃত্যু, স্বীকৃতি পাননি জীবদ্দশায়

  লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৮:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ মেঘনাদ দে’র মৃত্যু, স্বীকৃতি পাননি জীবদ্দশায়

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়াই চিরবিদায় নিলেন লোহাগাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেঘনাদ দে (৮৫)। তিনি উপজেলার উত্তর পদুয়ার ২নং ওয়ার্ডের বাড়ৈপাড়ার মৃত অনঙ্গ মোহন দাশের ছেলে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম কর্তৃক স্বাক্ষরিত জামুকার ৬৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সুপারিশকৃত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট প্রকাশের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে চলতি বছরের ১৮ জুলাই মেঘনাদ দে’র কাছে এক চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই পরপারে পাড়ি দিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না থাকায় পাচ্ছেন না রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাঙ্গর খালেরপাড় সংলগ্ন আনন্দপাড়ার বাঁশঝাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার বিকালে তাকে স্থানীয় শ্মশানে সৎকার করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে এক মেয়েকে ২০০৬ সালে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে হত্যা করে। তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার স্বজনরা জানান,মেঘনাথ দে ছেলের সাথে বান্দরবান থাকতেন। গত সপ্তাহে গ্রামের বাড়িতে আসেন। রোববার হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও পাওয়া যায়নি তাকে। এরপর মঙ্গলবার রাতে জঙ্গলপদুয়া হাঙ্গর খালপাড়ে আনন্দপাড়া এলাকার বাঁশঝাড়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও তার পরিবাররে খবর দেন।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে বাবার মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করছেন তার ছেলে তপন দাশ। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা মেঘনাদ দে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য শেষ সম্বলটুকু পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দেমাগিরি ক্যাম্পে গ্রেনেড ও রাইফেলের ওপর ট্রেনিং নেন তিনি। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে আসেন গ্রুপ লিডার সামশুল ইসলামের নেতৃত্বে। রাঙামাটিতে পাকিস্তানি সৈন্যের ক্যাম্প সংলগ্ন ব্রিজ ধ্বংস করেন তিনি। পাগল সেজে পাকিস্তানি সৈন্যের কাছে খাবার চেয়েছেন এবং পরবর্তীতে গ্রেনেড ছুড়ে হত্যা করেছেন তাদের। স্বাধীনতার তিন দিন পরে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানির প্রেরিত সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন থানা কমান্ডার আবু ছালেহর কাছ থেকে।

লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবদুল হামিদ বেঙ্গল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মেঘনাদ দে একজন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এটা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য অমানবিক ও অপমানজনক।

লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আখতার আহমদ সিকদার যুগান্তরকে জানান, মেঘনাদ সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি মেঘনাদকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু এখনো গেজেট প্রকাশ হয়নি।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, হাঙ্গর খালেরপাড়ে তার বাড়ির অদূরে লাশটি পাওয়া যায়। তবে লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু মুখে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবীব জিতু যুগান্তরকে জানান, সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি মেঘনাদকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম আছে। তবে সর্বশেষ গেজেটে তাঁর নাম না থাকায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ মেঘনাদ দে’র মৃত্যু, স্বীকৃতি পাননি জীবদ্দশায়

 লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ মেঘনাদ দে’র মৃত্যু, স্বীকৃতি পাননি জীবদ্দশায়
ছবি: 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' মেঘনাদ দে। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়াই চিরবিদায় নিলেন লোহাগাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেঘনাদ দে (৮৫)। তিনি উপজেলার উত্তর পদুয়ার ২নং ওয়ার্ডের বাড়ৈপাড়ার মৃত অনঙ্গ মোহন দাশের ছেলে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম কর্তৃক স্বাক্ষরিত জামুকার ৬৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সুপারিশকৃত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট প্রকাশের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে চলতি বছরের ১৮ জুলাই মেঘনাদ দে’র কাছে এক চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই পরপারে পাড়ি দিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না থাকায় পাচ্ছেন না রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাঙ্গর খালেরপাড় সংলগ্ন আনন্দপাড়ার বাঁশঝাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার বিকালে তাকে স্থানীয় শ্মশানে সৎকার করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে এক মেয়েকে ২০০৬ সালে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে হত্যা করে। তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

তার স্বজনরা জানান,মেঘনাথ দে ছেলের সাথে বান্দরবান থাকতেন। গত সপ্তাহে গ্রামের বাড়িতে আসেন। রোববার হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও পাওয়া যায়নি তাকে। এরপর মঙ্গলবার রাতে জঙ্গলপদুয়া হাঙ্গর খালপাড়ে আনন্দপাড়া এলাকার বাঁশঝাড়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও তার পরিবাররে খবর দেন।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে বাবার মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করছেন তার ছেলে তপন দাশ। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা মেঘনাদ দে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য শেষ সম্বলটুকু পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দেমাগিরি ক্যাম্পে গ্রেনেড ও রাইফেলের ওপর ট্রেনিং নেন তিনি। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে আসেন গ্রুপ লিডার সামশুল ইসলামের নেতৃত্বে। রাঙামাটিতে পাকিস্তানি সৈন্যের ক্যাম্প সংলগ্ন ব্রিজ ধ্বংস করেন তিনি। পাগল সেজে পাকিস্তানি সৈন্যের কাছে খাবার চেয়েছেন এবং পরবর্তীতে গ্রেনেড ছুড়ে হত্যা করেছেন তাদের। স্বাধীনতার তিন দিন পরে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানির প্রেরিত সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন থানা কমান্ডার আবু ছালেহর কাছ থেকে।

লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবদুল হামিদ বেঙ্গল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মেঘনাদ দে একজন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এটা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য অমানবিক ও অপমানজনক।

লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আখতার আহমদ সিকদার যুগান্তরকে জানান, মেঘনাদ সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি মেঘনাদকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু এখনো গেজেট প্রকাশ হয়নি।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, হাঙ্গর খালেরপাড়ে তার বাড়ির অদূরে লাশটি পাওয়া যায়। তবে লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু মুখে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবীব জিতু যুগান্তরকে জানান, সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি মেঘনাদকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম আছে। তবে সর্বশেষ গেজেটে তাঁর নাম না থাকায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার দেওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন