সন্ধ্যা হলেই মেছোবাঘের আক্রমণ, আহত ১০
jugantor
সন্ধ্যা হলেই মেছোবাঘের আক্রমণ, আহত ১০

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩১:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামে একটি মেছোবাঘের আক্রমণে শিশু-বৃদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ৩ দিন ধরে সন্ধ্যা হলেই রাস্তা কিংবা বসতঘরে ঢুকে আক্রমণ করছে মেছোবাঘটি।

বুধবার সকালে এ তথ্য জানা যায়। সুনামগঞ্জ সদরের ওই গ্রামে গত রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন সময় মেছোবাঘের আক্রমণে তারা আহত হন। এ কারণে পুরো গ্রামের মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

মেছোবাঘের আক্রমণে এ পর্যন্ত আহতরা হলেন- ওই গ্রামের আকিকুল ইসলাম (৪৫), মুসলিমা বেগম (১৩), রত্না বেগম (১২), সাকিব হোসেন (৪), হোসাইন আহমদ (৪), জুনাদ (৪), গোলাম মনতাক (৭), রনি (১৪) প্রমুখ।

গ্রামবাসী জানান, সদরগড় গ্রামে মাছচাষের একাধিক পুকুর রয়েছে। ছোট-বড় গাছও আছে অনেক। গ্রামের পাশে রয়েছে নদী। গত ৩ দিন ধরে এই মেছোবাঘের আক্রমণ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আক্রমণ করে মুহূর্তেই বনের ঝোপে আত্মগোপন করছে প্রাণীটি। ওই প্রাণীর ভয়ে একটি গ্রামের মানুষ সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে আতঙ্কে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিচ্ছেন।

গত রোববার রাত ৮টায় ওই গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুসলিমা বেগমকে (১৩) আক্রমণ করে। নিজের বাড়িতে পাশের ঘর থেকে নিজের ঘরে আসার সময় তাকে মেছোবাঘ আক্রমণ করে। ধারালো নক দিয়ে আঁচড় কাটে দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরনের জামা কামড়ে ধরে।

তার চিৎকারে এলাকার মানুষ দৌড়ে আসলে মেছোবাঘ নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে একই গ্রামের আকিকুল ইসলাম (৪৫), ছেলে সাকিব হোসেন (৪), মেয়ে রত্না বেগম (১২) ও গোলাম মনতাক মেছোবাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হন।

মেছোবাঘের আক্রমণে আহত আকিকুল ইসলাম বলেন, সকালে আমার ছেলে সাকিব যখন পাশের রুমে জুতা খুঁজতে যায়, তখন মেছোবাঘ তাকে জাপটে ধরে। তার চিৎকারে আমি লাফ দিয়ে মেছোবাঘকে তাড়াতে চেষ্টা করি। ওই সময় আমাকেও আক্রমণ করে। এ সময় আমার দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয় মেছোবাঘ। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমার মেয়ে দৌড়ে আসে, তখন তাকেও কামড় দেয়, ধারালো নক দিয়ে আঁচড় দেয় তার পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরে আমাদের পরিবারের সবাইকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, গ্রামের একাধিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন। এ আতঙ্কে গত ৩ দিন স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কিছুটা কমেছে। এই মেছোবাঘকে খুঁজে বের করা না হলে গ্রামবাসীর আতঙ্ক কাটবে না।

সুনামগঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার চয়ন ব্রত চৌধুরী বলেন, বন্যার সময় নদী দিয়ে ভারত থেকে অনেক কিছু আসে। হয়তো এই মেছোবাঘও ঢলের পানিতে ভেসে এসেছে। মেছোবাঘ নিরাপদ স্থান না পাওয়ায় সে যেখানে আশ্রয় নেয়, সেখানকার মানুষকে দেখে হিংস্র আচরণ করে। এটাকে ইংরেজিতে ‘ফিশিং ক্যাট’ বলা হয়। এই প্রাণী দেখতে অনেকটা বিড়ালের মতো, গায়ে ডোরাকাটা। তার খাদ্য মাছ ও মাংস।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালাব।

সন্ধ্যা হলেই মেছোবাঘের আক্রমণ, আহত ১০

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামে একটি মেছোবাঘের আক্রমণে শিশু-বৃদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ৩ দিন ধরে সন্ধ্যা হলেই রাস্তা কিংবা বসতঘরে ঢুকে আক্রমণ করছে মেছোবাঘটি। 

বুধবার সকালে এ তথ্য জানা যায়। সুনামগঞ্জ সদরের ওই গ্রামে গত রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন সময় মেছোবাঘের আক্রমণে তারা আহত হন। এ কারণে পুরো গ্রামের মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

মেছোবাঘের আক্রমণে এ পর্যন্ত আহতরা হলেন- ওই গ্রামের আকিকুল ইসলাম (৪৫), মুসলিমা বেগম (১৩), রত্না বেগম (১২), সাকিব হোসেন (৪), হোসাইন আহমদ (৪), জুনাদ (৪), গোলাম মনতাক (৭), রনি (১৪) প্রমুখ।

গ্রামবাসী জানান, সদরগড় গ্রামে মাছচাষের একাধিক পুকুর রয়েছে। ছোট-বড় গাছও আছে অনেক। গ্রামের পাশে রয়েছে নদী। গত ৩ দিন ধরে এই মেছোবাঘের আক্রমণ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আক্রমণ করে মুহূর্তেই বনের ঝোপে আত্মগোপন করছে প্রাণীটি। ওই প্রাণীর ভয়ে একটি গ্রামের মানুষ সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে আতঙ্কে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিচ্ছেন।

গত রোববার রাত ৮টায় ওই গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুসলিমা বেগমকে (১৩) আক্রমণ করে। নিজের বাড়িতে পাশের ঘর থেকে নিজের ঘরে আসার সময় তাকে মেছোবাঘ আক্রমণ করে। ধারালো নক দিয়ে আঁচড় কাটে দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরনের জামা কামড়ে ধরে। 

তার চিৎকারে এলাকার মানুষ দৌড়ে আসলে মেছোবাঘ নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে একই গ্রামের আকিকুল ইসলাম (৪৫), ছেলে সাকিব হোসেন (৪), মেয়ে রত্না বেগম (১২) ও গোলাম মনতাক মেছোবাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হন।

মেছোবাঘের আক্রমণে আহত আকিকুল ইসলাম বলেন, সকালে আমার ছেলে সাকিব যখন পাশের রুমে জুতা খুঁজতে যায়, তখন মেছোবাঘ তাকে জাপটে ধরে। তার চিৎকারে আমি লাফ দিয়ে মেছোবাঘকে তাড়াতে চেষ্টা করি। ওই সময় আমাকেও আক্রমণ করে। এ সময় আমার দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয় মেছোবাঘ। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমার মেয়ে দৌড়ে আসে, তখন তাকেও কামড় দেয়, ধারালো নক দিয়ে আঁচড় দেয় তার পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরে আমাদের পরিবারের সবাইকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, গ্রামের একাধিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন। এ আতঙ্কে গত ৩ দিন স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কিছুটা কমেছে। এই মেছোবাঘকে খুঁজে বের করা না হলে গ্রামবাসীর আতঙ্ক কাটবে না।

সুনামগঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার চয়ন ব্রত চৌধুরী বলেন, বন্যার সময় নদী দিয়ে ভারত থেকে অনেক কিছু আসে। হয়তো এই মেছোবাঘও ঢলের পানিতে ভেসে এসেছে। মেছোবাঘ নিরাপদ স্থান না পাওয়ায় সে যেখানে আশ্রয় নেয়, সেখানকার মানুষকে দেখে হিংস্র আচরণ করে। এটাকে ইংরেজিতে ‘ফিশিং ক্যাট’ বলা হয়। এই প্রাণী দেখতে অনেকটা বিড়ালের মতো, গায়ে ডোরাকাটা। তার খাদ্য মাছ ও মাংস।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালাব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন