ধাওয়ায় জেলের মৃত্যু, নৌপুলিশের চার সদস্য প্রত্যাহার
jugantor
ধাওয়ায় জেলের মৃত্যু, নৌপুলিশের চার সদস্য প্রত্যাহার

  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৬:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ পাড়ের চরবালিয়াতলী ঢোশ এলাকায় নৌপুলিশের ধাওয়ায় মাছ ধরা ট্রলারের জেলে সুজন হাওলাদারের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় নৌপুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্ত পায়রা বন্দর নৌপুলিশের এএসআই মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যকে কলাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করে বুধবার বরিশাল আঞ্চলিক অফিসে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শ্বশুর রুহুল আমিন কলাপাড়া থানায় মঙ্গলবার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

নৌপুলিশের বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের এসপি মো. কফিল উদ্দিন জানান, নৌপুলিশ পটুয়াখালী জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিবকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, জেলে সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়ার রাবনাবাদ নদীতে মাছ শিকারকালে পায়রা বন্দর নৌপুলিশের এএসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি টহল টিম জেলে সুজনের ট্রলারকে ধাওয়া করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়ার পর ট্রলারের পাঁচ জেলের মধ্যে চার জেলে তীরে উঠে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু ট্রলারে আটকা পড়ে জেলে সুজন হাওলাদার। পরবর্তীতে ওই ট্রলারে জেলে সুজনের লাশ পাওয়া যায়। জেলেদের দাবি তাকে মারধর করায় সে মারা যেতে পারে। তবে নৌপুলিশ তাকে মারধর করার বিষয়টি অস্বীকার করে।

জেলে সুজনের মৃত্যুর ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ রাবনাবাদ নদীর চরবালিয়াতলীর ঢোশ পয়েন্টে জড়ো হন এবং নৌপুলিশের ৪ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ আলীসহ কলাপাড়া ও মহিপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষদের শান্ত করেন এবং ছয় ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ নৌপুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহত সুজনের শ্বশুর রুহুল আমিন অপমৃত্যু মামলায় উল্লেখ করেছেন- রাবনাবাদ নদীতে মাছ শিকার করা অবস্থায় উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে সুজন কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

ধাওয়ায় জেলের মৃত্যু, নৌপুলিশের চার সদস্য প্রত্যাহার

 কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ পাড়ের চরবালিয়াতলী ঢোশ এলাকায় নৌপুলিশের ধাওয়ায় মাছ ধরা ট্রলারের জেলে সুজন হাওলাদারের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় নৌপুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্ত পায়রা বন্দর নৌপুলিশের এএসআই  মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যকে কলাপাড়া থেকে প্রত্যাহার করে বুধবার বরিশাল আঞ্চলিক অফিসে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শ্বশুর রুহুল আমিন কলাপাড়া থানায় মঙ্গলবার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

নৌপুলিশের বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের এসপি মো. কফিল উদ্দিন জানান, নৌপুলিশ পটুয়াখালী জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিবকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, জেলে সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়ার রাবনাবাদ নদীতে মাছ শিকারকালে পায়রা বন্দর নৌপুলিশের এএসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি টহল টিম জেলে সুজনের ট্রলারকে ধাওয়া করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়ার পর ট্রলারের পাঁচ জেলের মধ্যে চার জেলে তীরে উঠে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু ট্রলারে আটকা পড়ে জেলে সুজন হাওলাদার। পরবর্তীতে ওই ট্রলারে জেলে সুজনের লাশ পাওয়া যায়। জেলেদের দাবি তাকে মারধর করায় সে মারা যেতে পারে। তবে নৌপুলিশ তাকে মারধর করার বিষয়টি অস্বীকার করে।

জেলে সুজনের মৃত্যুর ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ রাবনাবাদ নদীর চরবালিয়াতলীর ঢোশ পয়েন্টে জড়ো হন এবং নৌপুলিশের ৪ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ আলীসহ কলাপাড়া ও মহিপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষদের শান্ত করেন এবং ছয় ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ নৌপুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহত সুজনের শ্বশুর রুহুল আমিন অপমৃত্যু মামলায় উল্লেখ করেছেন- রাবনাবাদ নদীতে মাছ শিকার করা অবস্থায় উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে সুজন কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন