আলভী কার সন্তান?
jugantor
আলভী কার সন্তান?

  নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৫৫:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

একটি পরিবারের প্রতিবন্ধী যুবকের নাম মিলন। আর মিলনের বর্তমান ঠিকানা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউপির হাসেনপুর গ্রামে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তিনি। ছেলেটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয় লংগারপাড় ও পাঁচরুখি বাজারে নিয়মিত চলাচল করেন। সেই সুবাদে এসব বাজার এলাকার অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে তার।

পাঁচরুখি গ্রামের মাইক্রোবাস মালিক সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হওয়ায় তিনি মিলনকে নিয়ে টিকটক তৈরি করে নিজের আইডিতে পোস্ট করেন। আর এই টিকটক দেখে মিলনকে নিজেদের সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার একটি পরিবার।

পরিবারটির পক্ষে কাজী আক্তার হোসেন নামে একজন বলেন, আমাদের বাসা তারাবো পৌরসভার দক্ষিণ রূপসী এলাকায়। এই প্রতিবন্ধী ছেলেটি আমার ভাতিজা; জন্মসূত্রে নাম কাজী আলভী। তার বাবার নাম কাজী অরুণ। আলভীর জন্মের পরে প্রস্রাব-পায়খানা হতো না। একদিন পর প্রস্রাব হলেও চারদিনের দিনে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পায়খানার রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। তখন ডা. পায়খানার রাস্তা দিয়ে নল দিয়ে রেখেছিল বেশ কিছুদিন। তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হতো। সে যখন বড় হতে থাকে তখন থেকেই কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মতো বড় হতে থাকে।

আলভীর চাচা দাবি করা আক্তার হোসেন বলেন, আলভীর জন্ম ২০০০ সালে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাসা থেকে সবার অজান্তেই বের হয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, সাধারণ ডায়েরি করেছি, মাইকিং করেছি, পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছি। কোথাও খুঁজে পাইনি। পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তানের শোকে কাঁদতে কাঁদতে গত আড়াই বছর আগে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান।

তিনি বলেন, গত ১০ দিন আগে আমার চাচাতো বোনের ছেলে রিফাত আলভীকে টিকটকে দেখে আমাদের সবাইকে দেখায়। আমরা তাকে শনাক্ত করতে পারি। এরপর যে আইডি থেকে টিকটক পোস্ট হয়েছিল তার আইডিতে বহুবার কমেন্ট করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইডির মালিক সোহাগ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। তাকে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ দেওয়ার পর সোহাগ ভাই তার অবস্থানের ঠিকানা দেন।

তিনি আরও বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার ছেলের সহোদর বোন, এক চাচাতো বোন, এক ফুফু ও আমি (চাচা) নান্দাইলে এসে পৌঁছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে থানায় কথা বলি। ওসি চেয়ারম্যানকে বলেন- আপনি বিষয়টি দেখেন। বিকাল ৩টার দিকে আমরা আলভীর বর্তমান বাবার বাড়িতে শেরপুর ইউপির হাসেনপুর গ্রামে যাই। সেখানে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বর্তমান পরিবার আলভীকে দিতে রাজি হচ্ছে না। এজন্য আজ আমরা নান্দাইলেই রয়ে গেছি আগামীকাল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করব।

এ বিষয়ে বর্তমান পরিবারের আবুল কালামের বড় ছেলে ছন্দন মিয়া বলেন, আমরা ঢাকার পান্থপথে থাকা অবস্থায় আমার ছোটভাই মিলন হারিয়ে যায়। হারানোর আট মাস পর হাতিরঝিল এলাকা থেকে খুঁজে পাই। অনেক আগেই গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। দুই বছর ধরে মিলন প্রতিবন্ধী ভাতাও পাচ্ছে। আমার ভাই মিলন আমাদের সঙ্গে আছে। ডিএনএ টেস্টে যদি তাদের সন্তান প্রমাণিত হয় তারা নিয়ে যাবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া মিল্টন জানান, আপাতদৃষ্টিতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে ছেলেটি নারায়ণগঞ্জের হতে পারে। তবে বর্তমান পরিবার মানতে রাজি না হওয়ায় ডিএনএ টেস্টের পরামর্শ দিয়েছি।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দেখার জন্য বলেছিলাম; যদি সমাধান না হয়ে থাকে তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলভী কার সন্তান?

 নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একটি পরিবারের প্রতিবন্ধী যুবকের নাম মিলন। আর মিলনের বর্তমান ঠিকানা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউপির হাসেনপুর গ্রামে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তিনি। ছেলেটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয় লংগারপাড় ও পাঁচরুখি বাজারে নিয়মিত চলাচল করেন। সেই সুবাদে এসব বাজার এলাকার অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে তার।

পাঁচরুখি গ্রামের মাইক্রোবাস মালিক সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হওয়ায় তিনি মিলনকে নিয়ে টিকটক তৈরি করে নিজের আইডিতে পোস্ট করেন। আর এই টিকটক দেখে মিলনকে নিজেদের সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার একটি পরিবার।

পরিবারটির পক্ষে কাজী আক্তার হোসেন নামে একজন বলেন, আমাদের বাসা তারাবো পৌরসভার দক্ষিণ রূপসী এলাকায়। এই প্রতিবন্ধী ছেলেটি আমার ভাতিজা; জন্মসূত্রে নাম কাজী আলভী। তার বাবার নাম কাজী অরুণ। আলভীর জন্মের পরে প্রস্রাব-পায়খানা হতো না। একদিন পর প্রস্রাব হলেও চারদিনের দিনে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পায়খানার রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। তখন ডা. পায়খানার রাস্তা দিয়ে নল দিয়ে রেখেছিল বেশ কিছুদিন। তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হতো। সে যখন বড় হতে থাকে তখন থেকেই কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মতো বড় হতে থাকে।

আলভীর চাচা দাবি করা আক্তার হোসেন বলেন, আলভীর জন্ম ২০০০ সালে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাসা থেকে সবার অজান্তেই বের হয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, সাধারণ ডায়েরি করেছি, মাইকিং করেছি, পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছি। কোথাও খুঁজে পাইনি। পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তানের শোকে কাঁদতে কাঁদতে গত আড়াই বছর আগে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান।

তিনি বলেন, গত ১০ দিন আগে আমার চাচাতো বোনের ছেলে রিফাত আলভীকে টিকটকে দেখে আমাদের সবাইকে দেখায়। আমরা তাকে শনাক্ত করতে পারি। এরপর যে আইডি থেকে টিকটক পোস্ট হয়েছিল তার আইডিতে বহুবার কমেন্ট করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইডির মালিক সোহাগ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। তাকে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ দেওয়ার পর সোহাগ ভাই তার অবস্থানের ঠিকানা দেন।

তিনি আরও বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার ছেলের সহোদর বোন, এক চাচাতো বোন, এক ফুফু ও আমি (চাচা) নান্দাইলে এসে পৌঁছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে থানায় কথা বলি। ওসি চেয়ারম্যানকে বলেন- আপনি বিষয়টি দেখেন। বিকাল ৩টার দিকে আমরা আলভীর বর্তমান বাবার বাড়িতে শেরপুর ইউপির হাসেনপুর গ্রামে যাই। সেখানে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বর্তমান পরিবার আলভীকে দিতে রাজি হচ্ছে না। এজন্য আজ  আমরা নান্দাইলেই রয়ে গেছি আগামীকাল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করব।

এ বিষয়ে বর্তমান পরিবারের আবুল কালামের বড় ছেলে ছন্দন মিয়া বলেন, আমরা ঢাকার পান্থপথে থাকা অবস্থায় আমার ছোটভাই মিলন হারিয়ে যায়। হারানোর আট মাস পর হাতিরঝিল এলাকা থেকে খুঁজে পাই। অনেক আগেই গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। দুই বছর ধরে মিলন প্রতিবন্ধী ভাতাও পাচ্ছে। আমার ভাই মিলন আমাদের সঙ্গে আছে। ডিএনএ টেস্টে যদি তাদের সন্তান প্রমাণিত হয় তারা নিয়ে যাবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া মিল্টন জানান, আপাতদৃষ্টিতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে ছেলেটি নারায়ণগঞ্জের হতে পারে। তবে বর্তমান পরিবার মানতে রাজি না হওয়ায় ডিএনএ টেস্টের পরামর্শ দিয়েছি।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দেখার জন্য বলেছিলাম; যদি সমাধান না হয়ে থাকে তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন