পাঁচ সহোদরের আশার আলো বিদেশি তরমুজ
jugantor
পাঁচ সহোদরের আশার আলো বিদেশি তরমুজ

  সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৬:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তারা।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন সাতকানিয়ার তিন সহোদর ভাই। ৯৬ শতক জমিতে দুই লাখ টাকা খরচ করে লাভ করেছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা। রসে ভরা বিদেশি এ ফল চাষে সফলতা পেয়ে এবার ৮শ শতক জমিতে আরও দুই সহোদরকে নিয়ে তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন।

সহোদর ভাইয়েরা হলেন- ছদাহা ইউনিয়নের আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, আবুল হোসেন, আমির হোসেন ও শামসুল ইসলাম। প্রায় নয়গুণ বেশি জমিতে লাগানো বিদেশি এ ফলে তারা লাভের আশা করছেন ৬০ লাখেরও বেশি। বীজ লাগানো থেকে ফল বাজারে যাওয়া পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে ১৪ লাখ টাকার মতো।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসের দিকে ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে আবুল হাশেম ৪০ শতক, আবুল হোসেন ৪২ শতক ও আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের আবাদ করেন। সেখান থেকে তারা প্রতিজন প্রায় দেড় থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।

সফলতা পেয়ে আরও দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আবুল হাশেম ফের ২শ শতক, আবুল কাশেম ১৬০ শতক, আমির হোসেন ১২০ শতক এবং শামসুল ইসলাম ১০ শতক জমিতে তাইওয়ানের তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেন। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গাছে ফল এসেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে উঠবে বিদেশি এ তরমুজ।

কৃষক আবুল হাশেম বলেন, এই বছর ৪০ শতক জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করেছিলাম। সেখান থেকে ভালো লাভ পেয়েছি। তাই এবার আরও বেশি জমিতে বিদেশি তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেছি। সেখান থেকেও ভালো লাভের আশা করছি। অন্যান্য সবজির চেয়ে বিদেশি এই ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছি।

একই কথা তার ভাই আবুল কাশেমেরও। তিনি জানান, অন্যান্য সবজির তুলনায় বিদেশি এ ফল চাষে লাভ বেশি। লাভের ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে চাষের পরিমাণ আরও বাড়াবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, গত বছর তাদের আমরা দুটি প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। প্রদর্শনীতে তারা ভালো লাভ করেছে। লাভ করার পর এ বছর তারা নিজেরা করেছে।

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, এ বছর আমাদের অর্থবছর শেষ এজন্য তাদের প্রদর্শনী দিতে পারিনি। নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য তাদের কিছু ফেরোমন ফাঁদ উপহার দেওয়া হয়েছে। তাদের সফলতার গল্প নিউজে দেখে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক কৃষক কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

পাঁচ সহোদরের আশার আলো বিদেশি তরমুজ

 সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তারা।
গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তারা। ছবি: যুগান্তর

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন সাতকানিয়ার তিন সহোদর ভাই। ৯৬ শতক জমিতে দুই লাখ টাকা খরচ করে লাভ করেছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা। রসে ভরা বিদেশি এ ফল চাষে সফলতা পেয়ে এবার ৮শ শতক জমিতে আরও দুই সহোদরকে নিয়ে তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। 

সহোদর ভাইয়েরা হলেন- ছদাহা ইউনিয়নের আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, আবুল হোসেন, আমির হোসেন ও শামসুল ইসলাম। প্রায় নয়গুণ বেশি জমিতে লাগানো বিদেশি এ ফলে তারা লাভের আশা করছেন ৬০ লাখেরও বেশি। বীজ লাগানো থেকে ফল বাজারে যাওয়া পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে ১৪ লাখ টাকার মতো।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসের দিকে ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে আবুল হাশেম ৪০ শতক, আবুল হোসেন ৪২ শতক ও আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের আবাদ করেন। সেখান থেকে তারা প্রতিজন প্রায় দেড় থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন। 

সফলতা পেয়ে আরও দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আবুল হাশেম ফের ২শ শতক, আবুল কাশেম ১৬০ শতক, আমির হোসেন ১২০ শতক এবং শামসুল ইসলাম ১০ শতক জমিতে তাইওয়ানের তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেন। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গাছে ফল এসেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে উঠবে বিদেশি এ তরমুজ।

কৃষক আবুল হাশেম বলেন, এই বছর ৪০ শতক জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করেছিলাম। সেখান থেকে ভালো লাভ পেয়েছি। তাই এবার আরও বেশি জমিতে বিদেশি তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করেছি। সেখান থেকেও ভালো লাভের আশা করছি। অন্যান্য সবজির চেয়ে বিদেশি এই ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছি।

একই কথা তার ভাই আবুল কাশেমেরও। তিনি জানান, অন্যান্য সবজির তুলনায় বিদেশি এ ফল চাষে লাভ বেশি। লাভের ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে চাষের পরিমাণ আরও বাড়াবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, গত বছর তাদের আমরা দুটি প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। প্রদর্শনীতে তারা ভালো লাভ করেছে। লাভ করার পর এ বছর তারা নিজেরা করেছে। 

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, এ বছর আমাদের অর্থবছর শেষ এজন্য তাদের প্রদর্শনী দিতে পারিনি। নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য তাদের কিছু ফেরোমন ফাঁদ উপহার দেওয়া হয়েছে। তাদের সফলতার গল্প নিউজে দেখে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক কৃষক কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন