স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কত কষ্ট করেছি, অথচ তারা…
jugantor
স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কত কষ্ট করেছি, অথচ তারা…

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৪৬:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের যোগসাজশে খলিল শেখকে (৬০) পাগল সাজিয়ে বেঁধে ১০ সেপ্টেন্বর পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। পরে গ্রামের বিশিষ্টজনদের চাপের মুখে ঘটনার ১৪ দিন পর শুক্রবার রাতে নির্যাতনের শিকার খলিল শেখকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে ছেলেরা।

শুক্রবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম হামিদুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় মেম্বার সাগর হোসেন, যুবলীগ নেতা রেজন ও নির্যাতনের শিকার খলিল শেখের দুই পুত্র নাজমুল শেখ (২৮) ও আছিব শেখ (২০) পাবনা সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক (প্রা.) মানসিক হাসপাতালে গিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন তাকে।

এ সময় তিনি বলেন, আমি কখনই পাগল ছিলাম না। সম্পত্তির জন্য স্ত্রী ও সন্তানরাই আমাকে কুকুরের মতো বেঁধে পাগল সাজিয়ে পাবনা নিয়ে গেছে। আমি সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ। আমি হজ করেছি। স্ত্রী ও সন্তানদের নির্মম নির্যাতনের শিকার খলিল শেখ ওই গ্রামের মৃত নুরুউদ্দিন শেখের পুত্র।

গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্ধকার ঘরের ভিতর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয় । এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দৈনিক যুগান্তর অনলাইন এবং প্রিন্টসহ অন্যান্য দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হলে আরও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

স্ত্রী, কন্যা ও ছেলেদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার খলিল শেখ পাবনা থেকে ফিরে এসে বলেন, আমি গত প্রায় ১২ বছর বিদেশ করে দেশে এসেছি। আমি কোনোদিনই পাগল ছিলাম না। ওরা আমাকে পাগল সাজিয়ে হাত-পা বেঁধে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আমার ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন পূর্বে একটি জমি বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা দিয়েছি ওদের। এতেও ওরা ক্ষান্ত হয়নি।

ওরা আমার সব সম্পত্তি লিখে দিতে ও বিক্রি করে টাকা দিতে মাঝে মধ্যেই চাপ সৃষ্টি করছিল। রাজি না হওয়ায় ওরা আমাকে সামান্য ছলছুতোয় মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ২শ টাকা নিয়ে আমার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী, পুত্র, কন্যারা রুমের মধ্যে আটকে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে আমাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে আসে। সেখানেও আমি নির্যাতনের শিকার হই।

পাবনায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুই জায়গায় পুলিশের পিকআপ দেখে চিৎকার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চিৎকার দিলে পুলিশ ওদের ধরে আমার চোখের সামনে মারপিট করবে- এটা আমি সহ্য করতে পারব না ভেবে চিৎকার দেইনি। এখন আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। এই স্ত্রী-সন্তানদের জন্য অনেক কষ্ট করেছি।

তিনি বলেন, প্রথমে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে ওদের ভরণপোষণ করেছি। একপর্যায়ে অনেক কষ্ট করে মালয়েশিয়া গিয়ে ৯ বছর কাটিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি। পরকীয়া সম্পর্ক গোপন করতে স্ত্রী আমাকে দেশে টিকতে দেয়নি। মাসখানেক পরে ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরব চলে যাই। ৩ বছর পর দেশে ফিরে আসলে আবার স্ত্রীর রোষানলে পড়ে যাই। সঙ্গে সন্তানরাও যোগ দেয়। আমাকে খেতে পর্যন্ত দেয়নি।

খলিল শেখ বলেন, লজ্জার কথা কী বলব, মাঝে মধ্যে শুধু চাল চিবিয়ে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছি। আপন ভাই তারা শেখ জানতে পেরে তার বাড়িতে নিয়ে খাবার ও আশ্রয় দেয়। এতে তারা (স্ত্রী-সন্তান) আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বলি- আমার সম্পত্তি ভাইকে লিখে দেব। আর এ কথা বলাটাই আমার কাল হয়ে দেখা দিল। ওরা আমাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা পাঠাল।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম হামিদুর রহমান জানান, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্ররা হাত-পা বেঁধে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার দুই দিন পূর্বেও তার সমস্যা নিয়ে আমার সঙ্গে বলে গেছে, সে পাগল না। সে স্বাভাবিক একজন মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে এক সালিশ বৈঠক বসার কথা আছে।

রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে খলিল শেখ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কত কষ্ট করেছি, অথচ তারা…

 টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের যোগসাজশে খলিল শেখকে (৬০) পাগল সাজিয়ে বেঁধে ১০ সেপ্টেন্বর পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। পরে গ্রামের বিশিষ্টজনদের চাপের মুখে ঘটনার ১৪ দিন পর শুক্রবার রাতে নির্যাতনের শিকার খলিল শেখকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে ছেলেরা।

শুক্রবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম হামিদুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় মেম্বার সাগর হোসেন, যুবলীগ নেতা রেজন ও নির্যাতনের শিকার খলিল শেখের দুই পুত্র নাজমুল শেখ (২৮) ও আছিব শেখ (২০) পাবনা সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক (প্রা.) মানসিক হাসপাতালে গিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন তাকে। 

এ সময় তিনি বলেন, আমি কখনই পাগল ছিলাম না। সম্পত্তির জন্য স্ত্রী ও সন্তানরাই আমাকে কুকুরের মতো বেঁধে পাগল সাজিয়ে পাবনা নিয়ে গেছে। আমি সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ। আমি হজ করেছি। স্ত্রী ও সন্তানদের নির্মম নির্যাতনের শিকার খলিল শেখ ওই গ্রামের মৃত নুরুউদ্দিন শেখের পুত্র।

গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্ধকার ঘরের ভিতর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয় । এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দৈনিক যুগান্তর অনলাইন এবং প্রিন্টসহ অন্যান্য দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হলে আরও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।  

স্ত্রী, কন্যা ও ছেলেদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার খলিল শেখ পাবনা থেকে ফিরে এসে বলেন, আমি গত প্রায় ১২ বছর বিদেশ করে দেশে এসেছি। আমি কোনোদিনই পাগল ছিলাম না। ওরা আমাকে পাগল সাজিয়ে হাত-পা বেঁধে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আমার ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন পূর্বে একটি জমি বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা দিয়েছি ওদের। এতেও ওরা ক্ষান্ত হয়নি।

ওরা আমার সব সম্পত্তি লিখে দিতে ও বিক্রি করে টাকা দিতে মাঝে মধ্যেই চাপ সৃষ্টি করছিল। রাজি না হওয়ায় ওরা আমাকে সামান্য ছলছুতোয় মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ২শ টাকা নিয়ে আমার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী, পুত্র, কন্যারা রুমের মধ্যে আটকে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে আমাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে আসে। সেখানেও আমি নির্যাতনের শিকার হই। 

পাবনায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুই জায়গায় পুলিশের পিকআপ দেখে চিৎকার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চিৎকার দিলে পুলিশ ওদের ধরে আমার চোখের সামনে মারপিট করবে- এটা আমি সহ্য করতে পারব না ভেবে চিৎকার দেইনি। এখন আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। এই স্ত্রী-সন্তানদের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। 

তিনি বলেন, প্রথমে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে ওদের ভরণপোষণ করেছি। একপর্যায়ে অনেক কষ্ট করে মালয়েশিয়া গিয়ে ৯ বছর কাটিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি। পরকীয়া সম্পর্ক গোপন করতে স্ত্রী আমাকে দেশে টিকতে দেয়নি। মাসখানেক পরে ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরব চলে যাই। ৩ বছর পর দেশে ফিরে আসলে আবার স্ত্রীর রোষানলে পড়ে যাই। সঙ্গে সন্তানরাও যোগ দেয়। আমাকে খেতে পর্যন্ত  দেয়নি। 

খলিল শেখ বলেন, লজ্জার কথা কী বলব, মাঝে মধ্যে শুধু চাল চিবিয়ে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছি। আপন ভাই তারা শেখ জানতে পেরে তার বাড়িতে নিয়ে খাবার ও আশ্রয় দেয়। এতে তারা (স্ত্রী-সন্তান) আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বলি- আমার সম্পত্তি ভাইকে লিখে দেব। আর এ কথা বলাটাই আমার কাল হয়ে দেখা দিল। ওরা আমাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা পাঠাল।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম হামিদুর রহমান জানান, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্ররা হাত-পা বেঁধে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার দুই দিন পূর্বেও তার সমস্যা নিয়ে আমার সঙ্গে বলে গেছে, সে পাগল না। সে স্বাভাবিক একজন মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে এক সালিশ বৈঠক বসার কথা আছে।

রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে খলিল শেখ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন